লেবার রুমে সাপোর্ট পারসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটা প্যারেন্টিং গ্রুপে আমার পোস্টের (লেখাটির লিংক) সাথে বেশিরভাগই সহমত পোষণ করেছেন। আপুরা সহজেই বুঝতে পারছেন লেবারের সময় সাপোর্ট পারসন পাশে থাকা কতটা জরুরি। অনেক ভাইরাও এই ব্যাপারে পজিটিভ মানসিকতা রাখছেন মাশাল্লাহ, যা খুবই প্রশংসনীয়।

তবে একটা বিষয় আমাদের মনোযোগের দাবী রাখে। সেটা হচ্ছে এই সুবিধা হাস্পাতাল ও ডাক্তারদের কাছ থেকে পেতে হলে আমাদের নিজেদেরও ওই সময়ের করণীয় সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে, স্বামী-স্ত্রী দুইজনকেই। আমাদের দম্পতিরা প্রিপারেশন নেন না বলে ডাক্তাররাও এলাও করতে চান না, এটাও সাপোর্ট পারসন সাথে থাকতে না দেয়ার একটা কারণ।

কেউ কেউ কমেন্টে বলেছেন যে শুধু লেবার রুমে না, প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডে, পোস্ট প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডেও হাজব্যান্ডের সহযোগিতা খুব প্রয়োজন। কিন্তু কয়জন বোঝেন এটা? বা বুঝলেও কিভাবে সহযোগিতা করতে হবে সেটাও অনেকসময় বুঝতে পারেন না। যেমন আরেক আপু কমেন্টে বলেছেন সাপোর্ট পারসন যদি লেবার রুমে গিয়ে আরো অসুবিধা সৃষ্টি করেন তাহলে তো মুশকিল! আসলেই তাই।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে পাবলিক টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন
মাতৃত্বের বিভিন্ন নোটিফিকেশন পেতে হোয়াটসএপ গ্রুপে যোগ দিন। এই গ্রুপে শুধুমাত্র এডমিন মেসেজ পাঠান।

আমাদের মেয়েরাই তো প্রেগন্যান্সি, লেবার-ডেলিভারি, ইমিডিয়েট পোস্ট প্রেগন্যান্সিতে কী করণীয় তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না! যে কোন জিনিস দাবী করতে চাইলে তার আগে সেটা পাওয়ার মতো যোগ্যতা যে থাকতে হবে! এলোমেলোভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা নিয়ে জানতে চেষ্টা করে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব না আসলে। এর জন্য প্রয়োজন গোছানো ক্লাস কন্টেন্ট যা হবু বাবা-মায়েদের প্রেগন্যান্সি পিরিয়ড থেকে শুরু করে লেবার-ডেলিভারি, পোস্ট পার্টাম পিরিয়ড সবকিছু নিয়ে যা কিছু জানা প্রয়োজন তা জানাবে।

কুকিং, বেকিং, সেলাই, মেকাপ, আইটি সবকিছু নিয়ে যদি আমাদের মেয়েরা (অনেক ক্ষেত্রে ছেলেরাও) ক্লাস করতে পারে তাহলে সন্তান জন্মদানের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে নয় কেন? বিশেষ করে যেখানে আমরা এত এত সাফারিং এর গল্প শুনি যার অনেককিছুই না জানার কারণে হয়ে থাকে!

আমরা যদি উন্নত দেশের উন্নত স্বাস্থ্য সেবার কথা বলি তাহলে সেই সাথে নিজেদেরকে তাদের মতো গর্ভকালীন বা প্রিনাটাল ক্লাস করে প্রস্তুতি নেয়ার মতো মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। মূলত তারা ক্লাস করে প্রস্তুতি না নিয়ে লেবার রুমে যাওয়াকে বোকামি মনে করে।

তাহলেই ইনশাআল্লাহ অদূর ভবিষ্যতে সম্ভব হবে প্রেগন্যান্সি, লেবার-ডেলিভারি, ইমিডিয়েট পোস্ট প্রেগন্যান্সিতে জ্ঞানের আলোকে পদক্ষেপ নেয়া। স্বামীরাও যখন জানবেন (কাপল ক্লাস করার মাধ্যমে) তখন তারাও এই পুরো সময়ে স্ত্রীকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সেই ব্যপারে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। পরিবারের অন্য সদস্য যারা এই সময় হবু মায়ের কাছে থাকেন তারাও একইভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

এই বিশেষ সময়টা ঘিরে অনেক অজ্ঞতা, গোড়ামি আছে আমাদের দেশের পরিবারগুলোর মাঝে, তবে ধীরে হলেও আমাদের সচেতনতা বাড়ছে আলহামদুলিল্লাহ। ইন্টারনেটে ছাড়া ছাড়াভাবে খোঁজাখুজি করা বা ফেসবুকের বিভিন্ন প্রেগন্যান্সি গ্রুপে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে জানতে চেষ্টা করার পরিবর্তে যখন আমরা আরেক ধাপ এগিয়ে গর্ভকালীন ক্লাস করার প্রতি সিরিয়াস হব তখন ইনশাআল্লাহ মাতৃসেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে আমরা আমাদের চাওয়াগুলো সম্পর্কে আরো জোরালোভাবে বলতে পারব, পরিবারের মানুষদের কাছে এবং ডাক্তার-নার্সদের কাছেও।

পজিটিভ পরিবর্তন চাইলে তার জন্য প্রিনাটাল বা গর্ভকালীন ক্লাস করা ও প্রস্তুতি নেয়ার বিকল্প নেই সত্যিই!

(লেখিকা চাইল্ডবার্থ এডুকেটর, AMANI Birth এবং প্রিনাটাল ইন্সট্রাকটর, রৌদ্রময়ী স্কুল)

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা