আমি প্রেগন্যান্ট কনফার্ম হই পিরিয়ডের ডেইট ওভারের ১ সপ্তাহের পর। পিরিয়ড রেগুলার হওয়ায় সন্দেহ হয়েছিল, কিন্তু আমার পিরিয়ডের মত পেইন হত আর মনে হত আজকেই বুঝি অসুস্থ হয়ে যাব, এজন্যে পাত্তা দিইনি প্রথম দিকে।

পরে শুনেছি এরকম অনুভূতি নাকি অনেকেরই হয়েছে। এজন্যে যারা নতুন এটা অনেকেই জানেন না কনসিভ হলেও ডেইটের সময় অনেকের পিরিয়ডের মত ফিলিংস হয়। Lower abdominal pain, breast tenderness, frequent urge to empty the bladder, rarely diarrhoea ইত্যাদি। এছাড়া সকালে উঠলে খুব ক্ষিদে লাগতো৷ এগুলো সব non specific symptom. সবার মিলবে তা না, আমার ক্ষেত্রে মিলেছিল। বললাম যাতে একটু সাবধান হওয়া যে প্রেগনেন্সীর ট্রাই করলে পিরিয়ডের মত ফিলিংস আসলেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে যেন একটু সতর্ক থাকা যায়। আমাকে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে ভ্রমণ করতে হয়েছিল। এত ঝাঁকুনি ছিল যে আমি ভেবেছিলাম পেটে বাচ্চা থাকলে নিশ্চয়ই টিকত না!

প্রথম ৩ মাস বমি, গন্ধ, খারাপ লাগা এগুলি নিয়ে ছিল। আমার শুধু মনে হত আমার মায়ের হাতের রান্না খেলেই বুঝি তখন খেতে পারব আমি, আমার আর বমি হবে না… প্রত্যেকে হয়তো এসময় মাকে খুব বেশি অনুভব করে।

পরের ২ মাস ঘুমের পর খুব অস্থির অস্থির লাগতো, কোথাও শুয়ে যেন শান্তি পেতাম না। পরে আস্তে আস্তে সব কমে আসে, শুধু ঘুমের সমস্যা দেখা দিয়েছিল শেষে।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে পাবলিক টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন
মাতৃত্বের বিভিন্ন নোটিফিকেশন পেতে হোয়াটসএপ গ্রুপে যোগ দিন। এই গ্রুপে শুধুমাত্র এডমিন মেসেজ পাঠান।

প্রেগন্যান্সি জুড়ে অন্তত একটা ডিম, এক গ্লাস দুধ প্রতিদিন রাখবেন। আমার ওজন কম থাকায় আমি একটু বেশি মেইনটেইন করার ট্রাই করেছি। এমনকি ওজন মাপার মেশিন বাসায় কিনে আনেন আমার বাবা। প্রথম ৩ মাস কারোরই তেমন ওজন বাড়ে না। আর ওজন বেশি বাড়ে শেষ ৩ মাসে। আলহামদুলিল্লাহ বাবুর ওয়েট ভালই ছিল। খেজুর একটা করে খাওয়ার চেষ্টা করেছি, সুন্নাত দেখে। শেষের দিকে বেশি খেয়েছি, ৫/৬/৭ টা। খেজুর সার্ভিক্স নরম করে, তাই ৩৬ সপ্তাহের আগে বেশি খেজুর খাবেন না। আজওয়া খেজুর যোগাড় করতে পারলে তো আরো ভাল। ক্যালসিয়াম, আয়রন ট্যাবলেট একদম নিয়মিত খাওয়া উচিত পুরো সময় বিশেষ করে ক্যালসিয়াম।

একটা এ্যাপ নামিয়ে রেখেছিলাম। Pregnancy week by week. ওইখানে প্রেগন্যান্সী ট্র‍্যাক করতাম। আর ইউ টিউবে week by week এর ভিডিও দেখতাম।

রোযা রাখা পার্ফেক্টলি নর্মাল কমপ্লিকেশন না থাকলে। আমার ওজন সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল রমজানেই৷ তবে হাইড্রেশন মেইনটেইনটা জরুরী খুব।

নর্মাল ডেলিভারি সহজতার জন্যে যে ব্যায়াম গুলো আছে সত্যিকারার্থে আগে থেকেই তার তেমন কিছু আমি করিনি। ৩৬ সপ্তাহের পর হাঁটার চেষ্টা করতাম। আর kegel exercise করতাম। ভুলে যেতাম অনেক সময়। আর হাঁটতে বাধ্য হয়েছিলাম কারণ আমার কোন সাইন ছিল না ব্যাথার।

পুরো প্রেগন্যান্সি নিয়ে আমার আফসোস এটাই, যা করতে চেয়েছিলাম তার সব করতে পারিনি। যাদের প্রথম বাবু হবে সে আপুদের জন্যে বলছি, অনেক খারাপ লাগবে হয়তো এখন, কিন্তু বিশ্বাস করেন এগুলো সব ওভারকাম করে আপনার কিছু করতে ততটা খারাপ লাগবে না, যতটা লাগবে বাবু হওয়ার পর কোন কিছুর জন্যে সময় করতে। তাজবীদ শেখা, হিফজ করা (পুরো ৯ মাস পাচ্ছেন, পিরিয়ডের জন্যে কোন গ্যাপ ও নাই!), এ্যারাবিক শেখা, প্যারেন্টিং নিয়ে শেখা , নতুন বা দৈনন্দিন দুয়া যিকির মুখস্থ করা, তাহাজ্জুদের বা নিয়মিত দুয়া দরুদ পড়ার অভ্যাস করা, কোন বই পড়া, লেকচার শোনা, তাফসীর পুরো পড়ার চেষ্টা করা, অনলাইন কোর্স করা, কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা (বাইরে গেলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করেই) ইত্যাদি ইত্যাদির জন্যে এটাই সুবর্ণ সময়। অবশ্যই স্ট্রেস না নিয়ে। বিশ্বাস করেন আপু বাবু একবার হয়ে গেলে আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না জীবন কিভাবে চেঞ্জ হয়ে যায়, এতটুকু সময় বের করার জন্য কতটুকু কষ্ট করতে হয়। এই সময় হারানোর জন্যে হয়তো একদিন আফসোস করবেন যে কয়েকটা দিন যদি নির্বিঘ্ন সময় পেতাম, যেটা ১/২ মাসেও করতে পারছেন না সেটা হয়তো কত সহজে হয়ে যেত। নিজে নিজে সব হয়না। সমমনা কিছু বোন জোগাড় করুন। সব সবার সাথে মিলবে না। কারো সাথে হিফজের ট্রাই করুক। কারো সাথে অন্য কিছু নিয়ে। যাতে নিজের মধ্যে গতি থাকে।

পুরোটা সময় জুড়ে অন্তত কুরআন একবার খতম দেওয়ার ট্রাই করবেন, পারলে অর্থ সহ। আল কুরান একাডেমি লন্ডন থেকে প্রকাশিত কুরআনের অনুবাদ খুব সুন্দর। হাঁটার সময় যিকিরের অভ্যাস করবেন। রাতে কম বেশি সবারই ঘুম হয় না এ সময়, তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস করবেন। আর অবশ্যই বেশি বেশি দুয়া করবেন। দুয়ার চেয়ে বড় অস্ত্র আর নাই…. একজন সুস্থ, সুন্দর, নেককার সন্তানের জন্যে… আল্লাহ যেন সহজ ভাবে প্রাকৃতিক ভাবে তাকে পৃথিবীতে আনেন… সূরা ফুরকানঃ৭৪, সূরা আল ইমরামঃ৩৮, সূরা সাফফাতঃ১০০, সূরা ইব্রাহিমঃ৪১,৪২ এগুলো নিয়মিত পড়বেন।

ফিট থাকার চেষ্টা করবেন, সুন্দর থাকার চেষ্টা করবেন, আল্লাহর উপর ভরসা রাখবেন, আল্লাহ যেন সবচেয়ে উত্তমটাই আপনার জন্য পছন্দ করেন, যাই হয় তা যেন কল্যাণের জন্যেই হয়।

ইউটিউব থেকে নর্মাল লেবারের জন্যে exercise আর পেইন ম্যানেজমেন্টের জন্যে breathing exercise ইত্যাদি অবশ্যই দেখবেন, প্র‍্যাকটিস করবেন। এটা আমার ভুল ছিল, সব কিছুর জন্যই আসলে প্রিপারেশন লাগে। প্রেগন্যান্সি রিলেটেড কিছু পড়ালেখা করা থাকলে ভাল। বাংলায় একটা বই বের হয়েছে। “আপনি কি মা হতে চলেছেন”, লেখক সাদিয়া আমের দেওয়ান, অনুবাদ করেছেন সাদিয়া সুলতানা সাকী। মেডিকেলে পড়ার জন্যে সব কিছু মোটামুটি আগেই জানতাম। কিন্তু যা জানতাম না তা হচ্ছে বাস্তব অনেক ভিন্ন, আর এজন্যে নন মেডিকেল কিছু মেথড, টেকনিক ও দরকার হয়।

আমার ৩৬ সপ্তাহ পর আল্ট্রা করলে রিপোর্ট আসল Breech. যেহেতু সামনে কুরবানী ঈদের বন্ধ, ডেলিভারি ডেইটের ২ সপ্তাহ আগেই তাই ম্যাডাম c/s কর‍তে চান। তারপরও ১ সপ্তাহ পর আল্ট্রা করতে বললেন আরেকটা। আমি সকালে ৭ টা আজওয়া নিয়ত করে খেলাম। মাঝে মাঝে squat করলাম। মা তো কত দুয়া পড়ে ফুঁ দিত… কিছুই বুঝি না বাচ্চা ঘুরে নাকি… আল্ট্রার সময় কখনোই কিছুই জিজ্ঞেস করতাম না। কখনো জানতেও চাইনি ছেলে না মেয়ে। এটা সারপ্রাইজ রেখেছিলাম পুরো সময় ধরে নিজের জন্যেই। কিন্তু এবার একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস না করে পারলাম না, বাবু কি সোজা না উলটা। আলহামদুলিল্লাহ cephalic শুনে এত খুশি হয়েছিলাম! ৩৬ সপ্তাহর পর বাবুরা ঘুরে না সাধারণত। আলহামদুলিল্লাহ, it was a miracle.

এখানে একটা ছোট জিনিস বলি। প্রেগনেন্সী কনফার্ম হলেই আল্ট্রা করে ফেলবেন। প্রথম দিকের আল্ট্রায় যে EDD আসে ওইটা সঠিক ধরে তাদের জন্যে যাদের Last menstrual period মনে নাই, বা পিরিয়ড ইরেগুলার। পরের আল্ট্রা গুলোর EDD বাচ্চার ওয়েট, ম্যাচুরিটি ইত্যাদির সাথে মিলিয়ে আসে, এজন্যে এগুলো কারেক্ট ধরে না।

আমার ডেইট ছিল ৩০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার। ওই দিন ডাক্তার দেখানোর ডেইট ছিল৷ একটু মন খারাপ আমি পোস্ট -ডেইটেড হয়ে যাচ্ছি। অপেক্ষা করতে ভয় লাগে। কিন্তু ঠিক ডেইটের দিন বিকালেই আমার ব্যাথা শুরু হয়। ঘুমের মধ্যে শুরু হয়। ব্যাথায় ঘুমটাও ছিল অস্বস্তিকর। আমি ভেবেছিলাম একটু আধটু আগের মতন পেইন বোধহয়। কিন্তু ওইদিন সকালে বাথরুম হবার পর ও সন্ধ্যায় যখন আবারও বাথরুম হয়, আমি বুঝতে পারলাম এটাই হয়ত true labour pain। কারণ এক আপুর গল্পে পড়েছিলাম শরীর যখন লেবারের জন্যে প্রস্তুত হয় তখন অপ্রয়োজনীয় জিনিস বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রত্যেকদিন ১ বার করে হলেও শুধু ওই দিন ই আমার ২ বার স্টুল পাস হল।

ম্যাডামের কাছে গেলে ম্যাম দেখে বললেন সার্ভিক্স ওপেন। ব্যাথা বেশি না থাকলে ফজরে ভর্তি হতে৷ যদিও ওই দিন রাতেই ভর্তি হই, গভীর রাতে যদি ব্যাথা বাড়ে এই ভেবে। ব্যাথা তেমন না। কিন্তু ব্যাথা বেশি হওয়া শুরু করে রাত ২ টার পর থেকে। ৬ টা পর্যন্ত চুপচাপ সহ্য করি কোন ভাবে। একটু নড়লেই যেন ব্যাথা। ৬ টায় পিটন দেয়। পিটন দেওয়ার পর থেকে চিৎকার শুরু হয় আমার৷ পেটে ব্যাথা কি অসহ্য হতে পারে চিন্তার বাইরে। আহারে হসপিটালে কত পিটন পিটন করেছি। অথচ পিটন কি ভয়ংকর! উথাল পাতাল ব্যাথা।

আমি ২/১ বার আস্তাগফিরুল্লাহ, আর আল্লাহ ছাড়া কিছু বলতে পারি নাই। মানুষ কত দুয়া পড়ে। আর আমি সারাক্ষণ শুধু চিৎকারই করেছি এটা বন্ধ কর, এটা বন্ধ কর, আর পারছি না বলে। অন্য কিছু বলতে পারিনি। আমার শুধু মনে হচ্ছিল জাহান্নামবাসীদের কথা। তারা যন্ত্রণায় মৃত্যু চাইবে কিন্তু তারা পাবে না। আমি অপেক্ষায় ছিলাম কখন এ ব্যাথা শেষ হবে। সত্যিকারার্থে বাচ্চার কথা মাথায় ছিল না তখন। ব্যাথায় যে আমি কী করেছি! তখন বুঝছি breathing exercise গুলোর গুরুত্ব। সবাই বলছিল আপনি না ডাক্তার, আপনি এমন করছেন কেন। আরে ডাক্তার হলে কী ব্যাথা কম লাগে! কিছুদিন আগে এক আপুর লেখায় পড়লাম আপু মুখে কাপড় দিয়ে চিৎকার আটকে রেখেছিলেন। এটাও একটা ভাল বুদ্ধি।

সার্ভিক্স ফুল ডাইলেট হওয়ার পরই আমাকে বেডে নিয়ে যায়। এরপরই আমার পানি ভেংগে গেল, বাচ্চা নিচের দিকে নামা শুরু করল বুঝতে পারলাম। পুশ কর‍তে বেশিক্ষণ লাগে নাই। তবে ওখানের ডাক্তার বুদ্ধি দিয়েছিল দাঁতে দাঁত চেপে চিৎকার করতে, ঠোঁটে স্পর্শ লাগলে অনেক সময় দাঁতের আঘাতে ঠোঁট কেটে যায়। অবশেষে আলহামদুলিল্লাহ শুক্রবার সকাল ৮.৪০ এ আমার বাবু হল। আমার সকল যন্ত্রণার যেন অবসান হল। কী যে relieved… এ অনূভুতি বলার মত না… বাবু হওয়ার আনন্দে না, এই তীব্র যন্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দে। আমার সময় জুনিয়র ডাক্তার ছিল। এটাও সৌভাগ্য কারণ আমার ডাক্তার থাকলে নিশ্চিত ভাবে আমি সিজার করতে চাইতাম। কেউ ছিল না৷ এজন্যে সহ্য করা ছাড়া আমার গতি ছিল না। যাই হোক আমার টিয়ার ছিল। কিন্তু লোকাল এনেস্থেসিয়া দেওয়ায় আলহামদুলিল্লাহ ব্যাথা কম লেগেছিল। আলহামদুলিল্লাহ পরে বেডে গিয়ে আমার ছেলেকে দেখে আমার প্রথম সম্ভাষণ ছিল ‘আস সালামু আলাইকুম’, অবশ্য আয়াই বলেছিল সালাম দিতে!

কনসিভ করার পর আর বাবু হওয়ার পর ইমরানের স্ত্রীর দুটো দুয়া আছে। সূরা আলে ইমরানের ৩৫-৩৬ আয়াতে আছে। আর পুশ করতে অনেক এনার্জি লাগে। শেষে অনেকের সেটা থাকে না। তাই ব্যাথা কম থাকতেই শক্তিবর্ধক কিছু খেয়ে নেওয়া উচিত। কারণ পরে খাওয়াই যায় না।

বাবুকে দুধ খাওয়ালেও বাবু ঠিকমত দুধ পায় পরের দিন সকালে। বাবুরা প্রথম প্রথম দুধ পায় না বেশির ভাগ সময়। এজন্যে বাবুকে বার বার চোষাতে হবে দুধ না পেলেও। তাহলে হরমোন রিলিজ হবে, দুধ আসবে। আর একান্তই প্রথম দিকে বাইরের দুধ দিতে হলে ড্রপারে বা চামচে দিতে হবে, ফিডারে কখনো না। কারণ বাবু তখন কষ্ট করে মায়ের দুধ টানতে চায় না। একটা নতুন বাবু জন্মের পর প্রথম ২৪ ঘন্টায় পায়খানা না করলে এবং প্রথম ৪৮ ঘন্টায় পেসাব না করলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। পর্যাপ্ত দুধ পাওয়ার পর থেকে বাবু দৈনিক অন্তত ৬ বার পেসাব করবে এরপর থেকে।

টিয়ার থাকায় পরবর্তীতে উঠতে বসতে কষ্ট হয়েছিল প্রথম প্রথম। গরম পানি খুব কাজে দিত। আলহামদুলিল্লাহ এরপর সব সেরে যায়। খেজুর পোস্টপার্টাম পিরিয়ডে খাওয়া সুন্নাহ। এটা মেইনটেইন করা উচিত। এটা খুব দ্রুত সুস্থ করতে সাহায্য করে। আর অবশ্যই কন্সটিপেশন যাতে না হয় প্রচুর লিকুইড, লাউ, পেঁপে, ইসুব গুল সব সময় খাবেন। আমি সহ অনেক বোন ডেলিভারির এক মাস পর এইজন্যে সাফার করেছিলাম। বাবু ব্রেস্টফীড করায় কন্সটিপেশনের সমস্যা খুব প্রকট থাকে পরবর্তীতে। এটা অনেক অনেক জরুরী। এই কষ্ট সহ্যের বাইরে মনে হত। আমার মনে হত ইশ কেউ যদি আমাকে আগেই বলত! আর ক্যালসিয়াম, আয়রন ট্যাবলেট অবশ্যই খাওয়া উচিত এ সময়েও।

এখানে যা যা বলেছি নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ কর‍তে পারিনি অনেক কিছুই। সে অপূর্ণতা, সে শিক্ষা থেকে বলা।

পরিশেষে এটাই বলব নর্মাল ডেলিভারি কী রকম কষ্টের এটা যেমন চিন্তারও বাইরে , তেমনি আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি পরবর্তী বাবুর সময় কী চাইবে, উত্তর সবারই জানা। পরে আসলেই আর কিছুই মনে থাকে না শুধু সুন্দর কিছু স্মৃতি ছাড়া। আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে। আমার মা, আমার পরিবার, আন্টিরা, বান্ধবী ও স্বামীকে উত্তম প্রতিদান দিক আমার পাশে থাকার জন্যে।

কমপ্লিকেশন থাকলে আলাদা কথা, কিছু করার নাই, সিজার করতে হবে, বাচ্চার রিস্ক কেন নেব, তাকদীর মেনে নিয়ে আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট থাকা, ভরসা করা, বিশ্বাস করা এটাই আমার জন্যে কল্যাণকর ছিল। কিন্তু ভয় পেয়ে শুধু শুধু সিজার করতে যাওয়ার মত বোকামী আর হয় না। আমি কত কষ্ট পেয়েছি আল্লাহ জানেন, কিন্তু এরপরও আমাকে ওই জায়গায় আবার দাঁড় করালে আমি কখনোই সিজার চাইবো না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার সহজভাবে প্রাকৃতিক প্রসবের তৌফিক দিক। আমীন।

(লিখেছেনঃ উম্মে মুহাম্মাদ )

বিঃদ্রঃ সাধারন গর্ভধারনের সময়কাল ৪০ সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে বা শেষে সচরাচর প্রাকৃতিক ভাবে প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার কথা। যদি কোন কারনে না হয়ে থাকে, বা কোন চিকিৎসাগত কারন (Medical Reason) থাকে, তবে ওষুধের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে প্রসব বেদনা শুরু করার ব্যবস্থা করা হয়, এই প্রক্রিয়াকে ইন্ডাকশন (Induction) বলে। এই লেখায় পিটন দেয়া বলতে স্যালাইনের সাথে ওষুধ দিয়ে ইন্ডাকশন করাকে বোঝানো হয়েছে। সাধারনত কোন নির্দিষ্ট কারন ছাড়া ইন্ডাকশনের প্রয়োজন হয় না। তাই প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা উঠলে এবং লেবার স্বাভাবিক গতিতে আগাতে থাকলে তাকে সেভাবেই আগাতে দেয়া উচিত। ইন্ডিউস করা লেবারে ব্যথা স্বাভাবিক লেবার পেইনের চেয়ে বেশি হয়। এর সাথে কিছু ঝুঁকিও জড়িত থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে অহরহ এর ব্যবহার হয়ে থাকে। অনেক সময় লেবার ত্বরান্বিত করার জন্যও দেয়া হয়। লেবার দ্রুত অগ্রসর করার জন্য শুয়ে না থেকে খাড়া অবস্থায় থাকা, পেলভিক রকিং করা ও হাঁটা অত্যন্ত উপকারী পদ্ধতি। এছাড়া স্বাভাবিকভাবে ওঠা ও অগ্রসর হতে থাকা লেবার পেইনকে ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করে তার নিজস্ব গতিতে আগাতে দেয়াই উত্তম। ইন্ডাকশন নিয়ে আরও জানতে পড়তে পারেন ইন্ডাকশন (INDUCTION) কি এবং কখন দরকার ? লেখাটি। – মাতৃত্ব

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা