শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ২টি বিষয় হল:
১. অবস্থান (Position): মা ও শিশুর অবস্থান আরামদায়ক হতে হবে। অর্থাৎ বসে, শুয়ে বা যেকোন অবস্থায় দুজনকেই আরাম পেতে হবে।
২. সংস্থাপন (Attachment): মায়ের এরিওলা (Areola) সবটুকু/সিংহভাগ শিশুর মুখে ঢুকছে কি না সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

এই ২টি বিষয় ভুল হলে মা ও শিশু উভয়কেই সমান কষ্ট পেতে দেখা যায়। আসুন এক এক করে জানি কি কি অসুবিধা হয় অবস্থান ও সংস্থাপন ভুল হতে থাকলে এবং সেগুলো কতটা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তৈরি করে মা ও শিশুর জীবনে।

🛑 অবস্থান আরামদায়ক না হলে কি হয়?
১. মায়ের পিঠ ও কোমর ব্যথা করে।
২. মায়ের পা ফুলে যায়।
৩. মায়ের কাঁধ ও বাহু ব্যথা করে।
৪. মা ক্লান্ত হয়ে যান।
৫. শিশুর শরীর সঠিকভাবে মায়ের সাথে লেগে থাকে না।
৬. শিশু অনেক নড়াচড়া করে।
৭. শিশু কান্নাকাটি করে।
৮. মা ও শিশু উভয়ই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
৯. সংস্থাপন সঠিক হয় না।

🛑 সংস্থাপন সঠিক না হলে কি হয়?
১. মায়ের স্তনের বোঁটা ফেটে যায়।
২. অনেকক্ষেত্রে ফাটা জায়গায় ছত্রাক সংক্রমণ হয়ে যায়। এই সংক্রমণ শিশুর মুখেও চলে যেতে পারে।
৩. মায়ের স্তনের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হয় এবং ফুলে যায়।
৪. মায়ের স্তনে দুধের নালী বন্ধ হয়ে যায়।
৫. উৎপন্ন দুধ মায়ের স্তনে জমে থাকে। এভাবে জমে থাকতে থাকতে একসময় দুধের প্রবাহ কমে যায়।
৬. অনেক সময় মায়ের স্তনের টিস্যুতে সংক্রমণ হয়ে যায় এবং পুঁজ বের হতে থাকে। যাকে মাসটাইটিস বলে।
৭. বেশিরভাগক্ষেত্রে শিশু দীর্ঘ সময় ধরে মায়ের দুধ খেতে থাকে।
৮. শিশু দুধ পায় না এবং ক্ষুধার্ত থাকে।

উপরিউক্ত বিষয়গুলো থেকে আমরা খুব ভালভাবে বুঝতে পারি আরামদায়ক অবস্থান ও সঠিক সংস্থাপন মেনে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, শিশুর জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (প্রথম ১ ঘন্টার মধ্যে) মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। সিজারিয়ান পদ্ধতিতে শিশু জন্মদানের পর মায়ের শরীর যখন খুব বেশি অসুস্থ থাকে তখন কর্তব্যরত ডাক্তার/নার্স শিশুকে মায়ের কাছে নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে দুধ খাওয়াবেন এবং মায়ের সাথে থাকা আত্মীয়কে পদ্ধতিটি শিখিয়ে দিবেন। পরে মা সুস্থ হয়ে গেলে মাকে শিখিয়ে দিবেন।

কোন ভাবেই মায়ের স্তনে ব্যথা লাগে এমন মালিশ করবেন না। তাতে আরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং মায়ের স্তনের বোঁটা টেনে নিয়ে এবং/অথবা শিশুকে মায়ের শরীর থেকে দূরে রেখে কষ্টকর পদ্ধতিতে মায়ের দুধ খাওয়াতে চেষ্টা করবেন না।

সৌজন্যেঃ ল্যাকটেশন কেয়ার, বাংলাদেশ