শিশুর জন্মের পর পরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (প্রথম ১ ঘন্টার মধ্যে) তাকে সঠিক পদ্ধতিতে মায়ের দুধ খাওয়ানো অত্যাবশ্যক। মায়ের শরীর শিশুকে যথোপযুক্ত উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে, শিশু শান্ত থাকে, শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদপিন্ডের হার স্বাভাবিক থাকে। তাই জন্মের সাথে সাথে মা ও শিশু যাতে একে অন্যের ত্বকের সংস্পর্শে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুর হাত ও মাথার স্পর্শে উদ্দীপিত হয়ে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হতে শুরু করে ফলে মায়ের দুধ তৈরি শুরু হয়। অক্সিটোসিন হরমোন অন্যান্য হরমোনকে উদ্দীপিত করে ফলে মা শান্ত, অবসাদমুক্ত বোধ করেন।

মায়ের স্তনের বোঁটায় অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (amniotic fluid) এর গন্ধ থাকে। মায়ের পেটে যে তরলের মধ্যে শিশু দিন দিন বেড়ে ওঠে সেটাই অ্যামনিওটিক ফ্লুইড। তাই স্বভাবতই শিশু মায়ের বুকে পরিচিত ও নিরাপদ অনুভব করে এবং মায়ের দুধ খেতে আগ্রহী হয়।

মনে রাখবেনঃ

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে পাবলিক টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন
মাতৃত্বের বিভিন্ন নোটিফিকেশন পেতে হোয়াটসএপ গ্রুপে যোগ দিন। এই গ্রুপে শুধুমাত্র এডমিন মেসেজ পাঠান।

১. এসময় মায়ের শরীর ও মন খুবই নাজুক থাকে। তাই সব সময় মায়ের সামনে নেতিবাচক আলোচনা ও মন্তব্য করা মোটেও উচিৎ নয়।

২. প্রত্যেক মা তার সন্তানকে দুধ খাওয়াতে চান। কখনই মাকে বলা উচিৎ নয় “তুমি ইচ্ছা করে দুধ খাওয়াও না”।

৩. “আমার তো এসময় অনেক দুধ তৈরি হত” … ইত্যাদি মন্তব্য মাকে অপরাধবোধে ভোগায়। ফলে মায়ের দুধ তৈরি কমে/বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৪. “তুমি কেমন মা যে তোমার সন্তানের চাহিদা মেটাতে পার না??” … ইত্যাদি মন্তব্য মায়ের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। কিছুতেই এসব কথা মাকে বলা উচিৎ নয়।

৫. ঘড়ি ধরে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করা ঠিক নয়। প্রত্যেক শিশুর চাহিদা ভিন্ন। এমনকি একই শিশুর চাহিদা বিভিন্ন বয়সে এবং সময়ে বিভিন্ন। তাই শিশুর চাহিদা অনুযায়ী ধৈর্য নিয়ে খাওয়ানো উচিৎ।

শিশুকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে নতুন মায়েদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়। কোন অবস্থায়ই অস্থির না হয়ে সমস্যা এবং শিশুকে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। সমস্যা সমাধানের জন্য যথাশীঘ্র একজন ল্যাকটেশন বিশেষেজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

সৌজন্যেঃ ল্যাকটেশন কেয়ার, বাংলাদেশ।

ছবিঃ theidealmuslimah.com


লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা