অক্টোবর ৫ তারিখ রাতের পর থেকে আমার শরীর অনেক দুর্বল লাগছিল। বেশ কয়েক বার বমি হয়েছে।

ওই দিন আমার বাবা-মা আমার বাসায় এসে পৌঁছেছে। তাই রান্নার চাপ একটু বেশি ছিলো। সাথে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে, সাথে বড় ২ বাচ্চাকে সময় দিয়ে রেস্ট নেয়ার সুযোগ পাইনি। পা ফুলে ঢোল হয়ে গিয়েছিল। তার দশ বারো দিন আগে থেকে আমার লুজ মোশন স্টার্ট হয়েছিল। মনে হচ্ছিল যা খাচ্ছি কিছুই হজম হচ্ছে না। শেষ ট্রাইমেস্টারে এসে রক্তে সুগার বেড়ে যায়। নিয়মিত মেডিসিন খেতে হয়েছে। রাতে ওটস/রুটি খেতাম। ডিম, মুরগি খাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু শর্করা কম খেতাম। এদিকে বাবুর ওজনও কম ছিলো। জেস্টেশনাল ডায়বেটিসের কারণে urine infection ছিলো। তলপেটে এতো ব্যাথা থাকত যে ৩ বেলা ৬টা Algin খেতাম (ডাক্তার এর পরামর্শে অবশ্যই), তাও দাঁড়াতে বা হাঁটতে জান বের হয়ে যেতো।

৬ তারিখ ভোরে ফলস পেইন স্টার্ট হওয়াতে আমি আবার ওষুধ খাই। কোমরে hot water bag নিয়ে চেয়ার এ বসে থাকি। আমার due date ২২শে অক্টোবর হওয়াতে tension ছিলো না হাজব্যান্ড মেঝেতে ঘুমাতে গেলো, আমি বাচ্চাদের (৯ ও ৫ বছর) খাটে ঘুম পাড়িয়ে pain কমার আশায় বসে ছিলাম। রাত সাড়ে ৩টায় ক্লান্তির কারণে ঘুমিয়ে গেলাম। অন্য দিন ফজরে এমনি সজাগ থাকি, আজ ঘুম ভাঙল ৬ঃ৪০এ, প্রচণ্ড ব্যথার দমকে।

অজু করে বসে বুঝার ট্রাই করছিলাম কি হচ্ছে। ব্যথার উৎস বুঝতে পেরে প্রস্তুতি নেয়া স্টার্ট করলাম। কাউকে কিছু বলিনি, দুয়া পড়তে পড়তে রান্নার কাজে লেগে গেলাম। আমার সাহায্যকারী মেয়েটি এসে পড়লো ততক্ষণে। সকালের নাস্তা রেডি করে, ছেলেকে অনলাইন ক্লাসে বসিয়ে ব্যাগ বের করলাম। লিস্ট অনুযায়ী সব চেক করে ব্যাগ রেডি করলাম। আমার ব্যাগ, বাচ্চার ব্যাগ। আমার মেয়ে যদি ম্যানাজেবল না হয়, ওর ব্যাগ।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন

তার পর ২দিনের জন্য প্রয়োজনীয় রান্না করে রাখলাম, সাথে breathing exercises, হাঁটা, দোয়া পড়া চলছিল। মেইন রান্নার সাথে আমার ২ ছেলেমেয়ের জন্য নুডলস আর কেক বানিয়ে রেখে দিলাম। ওদের গোসল দিয়ে, খাইয়ে রেডি করলাম। আমিও খেয়ে, গোসল করে নামাজ পড়ে রেডি হচ্ছিলাম। আম্মাকে বললাম, পেইন বেশি, হাসপাতাল এ যাবো। তুমি ওদের দিকে খেয়াল রেখো। হাজব্যান্ডকে দুপুর ১২টার সময়ে বলেছি আধা বেলা কাজ এর পর ছুটি নিতে অফিস থেকে।

আমার পেইন ততক্ষণে ১২ঘন্টা পার হয়ে গেছে। কাজের ফাঁকে জানালার গ্রিল ধরে, কিচেন টপ, ফ্রিযারের দরজা, ধরে দাঁড়িয়ে বেঁকে যাচ্ছিলাম। দুই কন্ট্রাকশনের মাঝে গ্যাপ ছিলো ১৮ মিনিট। ফাঁকে ফাঁকে একটু করে জমজম পানি খাচ্ছিলাম। মেয়েকে যখন বুঝাচ্ছিলাম, তখন আম্মা বেঁকে বসলো, সে বাসায় থাকবে না, আমার সাথে হসপিটালে যাবে। কোনো ভাবেই তাঁকে রাজি করাতে পারছি না, আমার আব্বা প্যারালাইজড, ২ বাচ্চাকে কে দেখবে, কী করবো, কোনো যুক্তি তাকে বুঝানো যাচ্ছে না। ওদিকে হসপিটালে বয়স্ক ভিজিটর এলাউড না। কারণ তারা নাজুক হন বেশি। আর করোনা এর জন্য যে সেফ ডিসট্যান্স, পরিচ্ছন্নতা, মাস্ক ও অন্যান্য নিয়ম মানতে হবে, আম্মা সেটা পারবে না। শেষের দিকে এসে আমাকে বকা ঝকা শুরু করলো। আমি ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে কান্না করা শুরু করলাম। আর বললাম, পরে এসে তোমাকে নিয়ে যাবে।

আসর এর সময় হয়ে যাওয়াতে আমি অজু করতে গিয়ে দেখি ওয়াটার ব্রেক করেছে। সাড়ে চারটায় বাসা থেকে হসপিটালে রওয়ানা হলাম সবার থেকে বিদায় নিয়ে। কন্ট্রাকশনের মাঝে গ্যাপ ছিলো ১০ থেকে ১২ মিনিট।

আমার ডাক্তার একটু আগে চলে গেছেন। আর ডিউটি ডাক্তার যিনি, আজকে উনার প্রথম দিন কাজে :)।

আমার দুই কন্ট্রাকশনের মাঝে গ্যাপ ছিলো তখন ৮ থেকে ১০ মিনিট, সারভিক্স ৩ সেমির বেশি খুলে গেছে। প্রায় ৪ সেমি। মিউকাস প্লাগ পড়ে গেছে, কিন্তু পানি বেশি বের হচ্ছে না। স্যালাইন দিবে, হাতে ক্যানুলা করবে, কিন্তু রগ পাওয়া যায় না, এডেমার কারণে হাত ফুলে ঢোল।

ইতিমধ্যে সাড়ে ৬টা বাজে তখন। আমার ব্যথা তখন ১৫ ঘন্টার বেশি। অবশেষে ২ জন মিলে আমার হাতে ক্যানুলা করতে পারলো, সাপোজিটরি দিয়ে পেট ক্লিন করতে বলল, পেইন ৭ মিনিটে নেমে এসেছে তখন। আমার ডাক্তারকে ফোন করা হলো। উনি নরমাল স্যালাইন দিতে বললেন, সাথে এন্টিবায়োটিক। কিন্তু পেইন বাড়ানোর মেডিসিন দিতে না বললেন। কোনো পেইন ম্যানেজিং মেডিসিনও দিলেন না। ডিউটি ডাক্তার স্পিকার অন করে কথা বলছিলো, তাই সব শুনতে পারছিলাম। আমাকে স্যালাইন স্টার্ট করার পর আমার ডাক্তার প্রতি আধা ঘন্টায় কল করে আপডেট নিয়েছেন।

এর পর নার্সদের ডিউটি বদল হলো। নতুন নার্স এসেই আমাকে শুতে বলল। আর আজব ভাবে কন্ট্রাকশন গ্যাপ বেড়ে গেলো। আমি অনেক অনুরোধ করলাম দাঁড়াতে দিতে ও হাঁটার জন্য, কিন্তু আমার কথা শুনলেন না। একটু পর এসে চেক করে দেখলেন সারভিক্স ওপেন হয়েছে আরও, কিন্তু আমার কন্ট্রাকশনের গ্যাপ বেড়ে ১০/১২ মিনিট হয়ে গেছে। তাড়াহুড়ো করে আমাকে ডেলিভারি রুমে নিয়ে গেলেন।

একটু পর পর পিভি চেক করছেন, আর ডিউটি ডাক্তার নতুন তাই পুরোটাই নার্স এর উপর নির্ভরশীল ছিলেন। ডেলিভারি রুমে এসে ডাক্তার কে আমি বললাম আমি হাঁটতে চাই। কিন্তু নার্সদের চাপে উনি হাঁটতে দিতে ভয় পাচ্ছেন। এসময় আমার ডাক্তার নিজে আসতে পারেননি, তাই অন্য একজন সিনিয়র নার্সকে পাঠালেন। উনি আসলে আমি উনাকে বললাম, দেখেন, এইটা আমার ৩ নাম্বার বাচ্চা। আমাকে হাঁটতে দেন, নইলে আমাকে নিয়ে সারা রাত বসে থাকা লাগবে। তখন ম্যাট্রন পারভীন আপু আমাকে একজন আয়া খালাকে সঙ্গে দিয়ে হাঁটতে দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ১০ মিনিট হাঁটার পর কন্ট্রাকশন ৪ মিনিট গ্যাপে শুরু হলো।

কিন্তু আমার পানি বের হচ্ছিল না। আমাকে আবার বেড এ উঠতে বলল। আবার পিভি চেক করবে। কিন্তু আমি এবার জোর দিয়ে না করলাম। বললাম, দেখেন ওই ১ ঘন্টা শুয়ে থেকে দেরি করায় দিসেন। আর এতো টেস্ট করলে ইনফেকশনের চান্স বাড়ে। মুখ প্রায় খুলে গেছে, আর কী টেস্ট করবেন? তখন নার্স আমাকে বলে, আপনার বাচ্চা অনেক বড়, নরমাল হবে না, খালি খালি পেইন নিচ্ছেন। আমি দোয়া পড়ব না উনাকে খামচি দিব, চিন্তা করছি!!! সাথে আয়া খালা অনবরত কোমর, পিঠ ম্যাসাজ করে দিচ্ছিল। উনি দোয়া পরে ফুঁ দিয়েছিল পুরো সময়।

আমার কন্ট্রাকশন ৪০ সেকেন্ডে নেমে আসলে আমি ডাক্তারকে বললাম, আপু, আমাকে বেডে উঠতে দেন এখন। আলহামদুলিল্লাহ তার পর ৫/৬ পুশ দিয়ে আমার বাবুটা পৃথিবীতে চলে আসলো। ১৭ঘন্টা পেইন, কোনো ব্যথানাশক পেথিডিন বা লেবার ইন্ডিউস করার মেডিসিন ছাড়া নরমাল ডেলিভারি, আলহামদুলিল্লাহ। আমাকে বাবুকে দেখালো, আমি সালাম দিলাম। আয়াতুল কুরসি আর সুরা ফাতিহা পরে ফুঁ দিলাম। ততক্ষণে এশার আযান শুনতে পারছিলাম।

এখানে একটা টুইস্ট আছে, বাবু প্রায় ফুল/প্লাসেন্টাসহ বের হয়। বাবু হবার পর পানি পুরো বের হয় আর ৩০/৪০ সেকেন্ডে প্লাসেন্টা বের হয়ে গেছে। সুবহানআল্লাহ, আর এ কারণেই আমার এত্তো গুলো টিয়ার হয়। ডাক্তার লোকাল দিতে প্লাস এপিসিওটমির কাটা দিতে দেরি করে ফেলেছে। ১ পাশে কাটা আর আরো ২ পাশে টিয়ার হয়। আমাকে সেলাই দিতে ডাক্তারের ৩০ মিনিটের বেশি লাগে। ৬ টা লোকাল ইঞ্জেকশন দিয়েছে কিন্তু আমার লেডি পার্ট অবশ হয়নি। কিছু করার ছিল না। যেই আমি তিনটা ডেলিভারিতে কান্না করিনি সেই আমি সেলাই দেয়ার পুরো ৩০ মিনিট কান্না করেছি। একদিকে আমি কাঁদি, পাশে আমার বাবু কাঁদে।

বাবু

আমাদের অবাক করে দিয়ে, আমার আবার ছেলে হয়েছে, আলহাদুলিল্লাহ। বেশির ভাগ মানুষ বলেছিলো আমার মেয়ে হবে 🙂 এখন নাম নিয়ে পড়লাম বিপাকে, যেহেতু আমরা মেয়ের নাম রেখেছি, ছেলের না।

বাবু মাত্র আড়াই কেজি, এত্তো ছোট্ট, তবে সুস্থ আলহামদুলিল্লাহ্‌।

আমি ও কমপ্লিকেশন

প্রথম ৩ মাস কিছুই টের পাইনি, যদিও ৩০ দিনে টেস্ট করে টেস্ট পজিটিভ এসেছিল। তারপর শুরু হল বমি, এসিডিটি, হাত পা ফোলা। আমার মাথা ঘুরত না, দুনিয়া ঘুরত। চোখে রীতিমত অন্ধকার দেখতাম। কোনো মেডিসিন খেতে পারতাম না, বমি হতো। পানি খেলেও বমি। অনেক খিদে লাগতো। কারো রান্না খেতে পারতাম না। একটু খেলে ও বমি। তলপেটে ব্যথা ছিল, হাত পা খিচুনি ছিল। ঘুম হারাম। মাইগ্রেন আমার চিরসঙ্গী। ইউরিন ইনফেকশন হলো ৩ বার, তার পর জেস্টেশনাল ডায়বেটিস। সাড়ে চার মাস থেকে ফলস পেইন ছিলো। ২২টা রোজা রাখতে পেরেছিলাম।

৩ মাসের সময়ে প্রচণ্ড জ্বর হয়েছিল, করোনা হতে পারে, অসম্ভব কিছুনা। টেস্ট করানো হয়নি, সিরিয়াল পাইনি।

রান্না, ঘরের কাজ, ঘর মোছা, কাপড় ধোয়া, পাতিল মাজার কাজ সব করেছি ৬ষ্ঠ মাস পর্যন্ত। তার পর ওয়াশিং মেশিন কিনেছি। সাহায্যকারী ছিলো না। হাজব্যান্ড ঘরে থেকে অফিস করতো, বাচ্চা হবার ১০ দিন পরে অফিসে জয়েন করেছে। সকালের নাস্তা ও রেডি করতো, এখনও করে আলহামদুলিল্লাহ।

ব্যায়াম করতে পারিনি, ব্রিদিং আর কেগেল ছাড়া, লো লাইং প্লাসেন্টা ছিলো। আর তলপেটে ব্যথা, ফলস পেইনের চাপে সোজা হয়ে দাঁড়ানো/হাঁটা ভুলে গিয়েছিলাম। তার সাথে বমি, আর পেলভিসে ব্যথা। দাঁড়িয়ে রান্না, নামাজ, আর সাড়ে চার বছরের মেয়ের পেছনে ছুটাছুটির পর আমাকে কেউ হাঁটতে/ব্যয়াম করতে বললে তখন আমার তার মাথায় বাড়ি দিতে ইচ্ছে করতো। অথচ এই আমি সাড়ে ৩ মাসের প্রেগন্যান্সি নিয়ে দিনে ৬বারের বেশি ৭তালা উঠা নামা করেছি আলহামদুলিল্লাহ।

রোজা আর কুরবানীর ঈদে ১০/১২ আইটেম রান্না একা হাতে করা থেকে সব কাজ একা করেছি। প্রতি উইকএন্ডে আমার বাসায় গেস্ট আসে। সব কাজ একাই করতাম। সাথে ২ বাচ্চার পড়াশুনা, অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, সব আমি দেখাশোনা করেছি।

৮ম মাস থেকে জেস্টেশনাল ডায়বেটিস ধরা পড়ায় যা খেতাম তাও কঠিন হয়ে গিয়েছিল। প্রেগন্যান্সির আগে আমার ওজন ছিলো ৬৫ কেজি, ডেলিভারির দিন ওজন দাঁড়ালো সাড়ে পঁচাত্তর। এডেমা, সারা শরীরে পানি। Usg তে বাচ্চা অনেক ছোট আসল। ব্লাড টেস্টে হিমোগ্লোবিন একদম মার্জিনে।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে আমি অনেক হেল্প পেয়েছি। কতোটা পেয়েছি, সেটা আমার আর আমার আল্লাহর কাছে হিসেব থাক।

আশেপাশের মানুষের কাছে আমি অনেক অলস, আরামদায়ক প্রেগন্যান্সি টাইম পার করেছি। আমি কোনো স্পেশাল কিছু খাইনি। অন্য দের জন্য রান্নার পর আর নিজের জন্য রান্না করতে ইচ্ছে করতো না। কেউ আমার জন্য কিছু পাঠালেও ভাগ পেতাম না। কিছু কাছের মানুষ এর কথা শুনলে মনে হতো আমার ফ্যামিলি ফেরেশতা এসে চালিয়ে দিয়ে যায়। এমনকি আমার মাই বলেছে আমার নাকি লেবার পেইন বেশি ছিলো না। আল্লাহ্‌ ভালো জানেন।

দোয়া

আমার কিছু প্রিয় দোয়া আছে। সেগুলি পড়তাম। সুরা বাক্কারার আয়াত গুলো, ৩০ পারার সুরা গুলো। ভালো না লাগলে সুরা এর অর্থ পড়তাম। বসে নামাজ পড়তাম। ৬ মাস এর পর সিজদা দিতে পারতাম না। আল্লাহ্‌ এর কাছে দোয়া করেছি, যেনো সুস্থ সন্তান দেন। তবে আফসোস, আরো দোয়া করার সুযোগ ছিলো, পারিপার্শ্বিক কারণে, আলসেমির কারণে, নিজের বোকামির কারণে সুযোগ নষ্ট করেছি।

নিজেকে পরিবর্তন

অনেক স্ট্রং হয়েছি। মানুষের উপর নির্ভরতা কমেছে। আলহামদুলিল্লাহ মানুষ চিনতে আরো সহজ হয়েছে। সমাজের চেয়ে নিজের মানসিক শান্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এটা শিক্ষা পেয়েছি।

করোনা ও সুরক্ষা

সবাইকে আসতে না করে দিয়েছিলাম। দোয়া করতে বলেছিলাম। হাসপাতালে যেয়ে/ আগে কাউকে জানানো হয়নি।

বাসায় গেস্ট এলাউড না।

প্রসব পরবর্তী যত্ন

আমার ডেলিভারি হয় ৬ই অক্টোবর, রাত পৌনে আটটার দিকে। আমাকে রুমে দেয়া হয় রাত সাড়ে নয়টায় আলহামদুলিল্লাহ। অনেক ব্লিডিং হচ্ছিল। শরীর ফুলে গিয়েছিলো পানিতে। পরদিন সকাল ১১টায় বাসায় চলে যাই।

এসে গোসল করেছি। মেয়েকে খাইয়ে দিয়েছি। ছেলেকে ক্লাস করিয়েছি। আগের দিন রান্না করা ছিল। তাই দুপুরে রান্না করিনি। রাতে রান্না করেছি। তার ২ দিন পর থেকে আমি নিয়মিত রান্না, ৩ বাচ্চা পালা, রাত জাগা, রোদ দেয়া, ক্লাস করানো, গোসল করানো সব করেছি। ৩টা টিয়ার, আর কাচা সেলাই নিয়েই করেছি আলহামদুলিল্লাহ।

বেবী ব্লু বা ডিপ্রেশন

আছে। মানুষ সহ্য করতে পারি না। মেজাজ খারাপ থাকে। বড় ২ জনকে সময় দিতে পারছি না। ঘরে আটকে আছি। যদিও আমার ঘরেই ভালো লাগে। বাইরে বের হলে ক্লান্ত লাগে। খুব ক্লান্ত লাগে। কিছু হলেই হাজব্যান্ডের উপর রাগ লাগে। খুব অল্প তে বড় ২ বাবুদের সাথে রেগে যাই, কন্ট্রোল করতে পারি না। আফসোস করি। সরি বলি। তারপর নিজে আরো গিলটি ফীল করি।

শেষ কথা

আল্লাহর কাছে করা দোয়া, তিনি কবুল করেছিলেন, পাগলের মত সুস্থ বাচ্চা আর নরমাল ডেলিভারি চেয়েছিলাম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সহজ করে দিয়েছেন, আর আমার সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু আল্লাহর দুইটা ওয়াদা মনে করি, তিনি সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। আর কষ্টের পরে নিশ্চয়ই স্বস্তি আছে। এখন আল্লাহর এই ৩ জন বান্দাকে ঠিক মতো যেন মানুষ করতে পারি, সেই দোয়া করি।

(লিখেছেন উম্ম সালমান)

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা