ঢাকায় আসার পর আমার স্বামীর একটা মেজর অপারেশন হল। আমি আর আমার সতের মাসের ছোট্ট মুয়াজ তখন হসপিটাল এটেনডেন্ট হিসেবে ছিলাম চারদিন। রমজান মাস চলছিল তখন। ক্লান্তিতে ভেঙে আসা শরীর দেখে একপ্রকার বুঝে গিয়েছিলাম হয়তো আমি কনসিভ করেছি।
চাচ্ছিলামই অল্প গ্যাপে সন্তান আসুক। বাড়ি ফিরে চেক করে দেখলাম আলহামদুলিল্লাহ মুয়াজ একটা ভাই বা বোন পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যেই মুয়াজের একটা বড় অসুখ হল। কী অসুখ ডাক্তাররা ধরতে পারেন না। তখন ঢাকায় নতুন। আমার প্রথম ট্রাইমেস্টার গেল মুয়াজকে নিয়ে হসপিটাল দৌড়াতে দৌড়াতে। ঢাকার বড় কোন হসপিটাল বাদ থাকল না। প্রেগন্যান্সির কথা ভুলে বুকের মানিককে নিয়ে সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই হসপিটালে কাটতে লাগল। যেদিন ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট বা কোন টেস্টের দিন থাকত সেদিন মুয়াজের সারাদিনের খাবার দাবার রেডি করে নিয়ে যেতাম। ভাত, তরকারি, ফলমূল, দুধ, নাস্তা সব। হসপিটালের ক্যান্টিনে খেয়ে নিতাম আমরা, সাথে বাবুর খাবারগুলো গরম করে নিতাম।
মুয়াজের হাড়ের টিবি ধরা পড়ল। খুবই রেয়ার কেইস বাচ্চাদের জন্য। ট্রিটমেন্ট শুরু হল আলহামদুলিল্লাহ।
শারীরিকভাবে খুব দূর্বল হয়ে পড়লাম আমি। এত দুর্বল আগে কখনও হই নি। এত বেশি মর্নিং সিকনেস, মুয়াজের অভারঅল দেখাশোনা, ওর ডাক্তারদের এপয়েন্টমেন্টস, ওর ওষুধ খাওয়ানো, বাড়ির সব কাজ, সবমিলিয়ে আমার শোচনীয় দশা হয়ে গেল।
