আমি বাচ্চাকে ফর্মূলা (কৌটার দুধ) দিতে চাই, কিন্তু সবাই বুকের দুধ খাওয়াতে বলে কেন?
বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। বুকের দুধে আছে বাচ্চার জন্য সবচেয়ে ভাল পুষ্টি উপাদান এবং এন্টিবডি, যা তাকে বিভিন্ন ধরনের অসুখবিসুখ থেকে রক্ষা করে। এমনকি বুকের দুধও বাচ্চার শারীরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়, যেটা কোন ফর্মূলা করতে পারে না। আর মা হিসেবে আপনিও এ থেকে উপকৃত হন– যেমন বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে বাচ্চার সঙ্গে আপনার বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং আপনার জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ফর্মূলার ক্ষেত্রে যেমন প্রাকৃতিকভাবে এন্টিবডি পাওয়া হয় না, তেমনই ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা বেশি দেখা যায়।
যদি আপনার ও বাচ্চার কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে, তাহলে আপনার উচিত বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করানো, অন্তত পক্ষে প্রথম কিছুদিন। যাতে করে আপনার প্রাকৃতিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাচ্চার শরীরে স্থানান্তরিত হয়। অথবা আপনি বুকের দুধ ও ফর্মূলা একসাথে চালিয়ে দেখতে পারেন।
অনেক মা এভাবে বাচ্চাকে বুকের দুধ ও ফর্মূলা একসাথে দিয়ে থাকেন। আপনি যদি এই পদ্ধতিতে এগুতে চান, তবে বাচ্চাকে বুকের দুধের পাশাপাশি দিনে একবার করে ফর্মূলা দিতে পারেন। অনেকে অবশ্য একেবারে ভিন্ন পথে আগান। তারা ফর্মূলা ও দুধ দুটোকেই সমান গুরুত্ব দেন। যাতে তিনি দরকারের সময় একটু স্বস্তি পান। হতে পারে মধ্যরাতে বাচ্চার দুধের তৃঞ্চা পেল, তখন বাচ্চার বাবা তাকে ফর্মূলা বানিয়ে খাওয়াতে পারেন।
এত কিছুর পরও কেবল ফর্মূলা খাইয়েও বাচ্চা পালন সম্ভব, এবং তা স্বাস্থ্যসম্মতও বটে। হতে পারে আপনি কিছুদিন বুকের দুখ খাইয়ে ফর্মূলা শুরু করতে পারেন, অথবা শুরু থেকেই ফর্মূলা দিতে পারেন। ফর্মূলায় সাধারণ বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ দেয়া থাকে। এধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়া বর্তমান সময়ে খুব সম্ভব, কারণ কর্মজীবি মহিলার সংখ্যা এখন একেবারেই নগণ্য নয়। কর্মজীবী মায়েদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ সংরক্ষণের পদ্ধতিও আছে। এই বিষয়ে জানতে এই আর্টিকেল পড়ুন। এছাড়াও অন্য কারণগুলো এরকম-
