জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস, ইনডাকশন এবং নরমাল ডেলিভারী।

লিখেছেন Sumaiya Sheikh

অনেক ব্যস্ততায় আমি আমার ৩য়, ৪র্থ বার মা হওয়ার গল্প শেয়ার করিনাই, যদিও অনেক কিছু শিখার ছিলো ওই দুইবার ও।

এবার কিছু ব্যাপার শেয়ার না করলেই না। তাই এলোমেলো ভাবে লিখার চেস্টা। কারো উপকারে আসলেই ভালো।

এপ্রিলের ১৫ তারিখ, ৩৮ সপ্তাহ যেদিন শুরু হলো, আমাকে ইন্ডিউস করা হয়, জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস এর জন্য। বাচ্চা বড়। ব্লাড প্রেশার মেপে, ব্লাড টেস্ট নিয়ে, বেবীকে মনিটর করে, আরো অন্যান্য টেস্ট এর জন্য কাজ এগিয়ে প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন পেসারী টা ঢুকিয়ে দিয়ে যায়।

২৪ ঘন্টা পর খুলবে মাঝে ৬ ঘন্টা পর পর মনিটরিং। আমার প্রেশার, বেবীর হার্টবীট ঠিক ছিল। সুবহান আল্লাহ! কন্ট্রাকশন ভালোই ছিলো সারাদিন। থেমে থেমে।

কাজ কিছু হওয়া উচিত ছিলো তাতে যদিও ২৪ ঘন্টা পর দেখা গেল সারভিক্স ডায়ালেটেড হয়নি একটু ও, যদিও ইফেইসড হইসে। বিরক্তি আসলো। ৫ম বার মা হচ্ছি, বডির তো কাজটা আরো দ্রুত করা উচিত।

যাই হোক, আসল খেলা তো বডি দেখাবে সেই রাতে!

বিকেল সাড়ে 5 টায় চেক করে গেল যে খুলেনি সারভিক্স, আবার আরেকটা ঢুকিয়ে দিয়ে গেল। উদ্দেশ্য ২৪ ঘন্টা আরো অপেক্ষা করা যাতে ডায়ালেটেড হই এটলিস্ট ২ সেন্টি মিটার। তাহলে পানির স্যাক টা রাপচার করিয়ে দিবে।

পাশের বেডে এক সিস্টার 5 দিন ধরে এডমিটেড। তার বাচ্চা এতো কিছুর পর ও দুনিয়ায় আসতে চাচ্ছেনা। আরেক সোমালী সিস্টারের ও সেইম হাল। বাচ্চার পজিশন কিছুতেই চেইঞ্জ করানো যাচ্ছেনা। সেদিন তার সীজার হলো বিকেলে। বাকীরা সবাই প্যাথেডিন ইঞ্জেকশন নিচ্ছে... উহ আহ করতেসে। চিৎকার করে যাচ্ছে। আর আমি চুপ! কন্ট্রাকশনের সাথে বুক ভরে শ্বাস নেই, চলে গেলে রিল্যাক্স করি, একটু একটু হাটি।

আমি রাতে খাবার খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। ঈশার ওয়াক্ত হতে অনেক দেরী।এর মাঝে ওরা এসে একবার মনিটর করে গেল সাড়ে এগারোটার দিকে।

আমি উঠে ব্রাশ করে, ওদের কাছ থেকে আবার খাবার,প্যারাসিটামল চেয়ে নিলাম, কারন একটা হাইপো শুরু হচ্ছিল আমার। মেপে দেখি সুগার লেভেল ২.৯. বডি বডির কাজ করতে করতে টায়ার্ড আর ক্ষুধার্ত হচ্ছিলো। খাবার খেয়ে প্যারাসিটামল খেয়ে ঘুমানোর জন্য বেডে গেলাম।

প্যারাসিটামল খেলে কি হবে! তীব্র কন্ট্রাকশনে ঘুম ভাংগে রাত তিনটার দশ পনেরো মিনিট আগে। আমি উঠে টয়লেটে গেলাম, ফ্রেশ হলাম, পানি খেলাম। দেখি ব্যাথাটা বাড়ে! হাজব্যান্ড কে ডাকলাম। সে বলে ফজরের পর আসবে কিনা! আমি বললাম না, বেবী আসা মিস করবা তাহলে, এখন ই আসো।

ফোনে একটা এপ ছিলো, কন্ট্রাকশন ট্র‍্যাকার। আমি নোট নিতে শুরু করলাম। কয়েকটার বাদে এপ জানায় "গো টু দ্যা হস্পিটাল" কারন প্রতি ৩-৫ মিনিট এ ব্যাথা আসে যায়! আমি একটু টু শব্দ ও করিনাই এতোক্ষণ।  কেবল স্লো এন্ড ডীপ ব্রিথিং ছাড়া। হীপ দোলানো, সেমি স্কোওয়াট ছাড়া। ব্লাড সুগার চেক করে দেখলাম শরীরের মেহনত যাচ্ছে খুব। সুগার নেমে গেছে ৩.৯ এ। একটা খেজুর ভেতরে কাঠবাদাম ঢুকানো, খেয়ে যমযম খেয়ে নিলাম। পিশু করে এলাম। হাজব্যান্ড আসতে আসতে ঘন্টা লাগালো, যদিও বাসা কাছেই, দশ পনেরো মিনিটের রাস্তা বড়জোড়। ৪:১৪ এর দিকে যখন লোকটা আসছে তখন প্রতি তিন মিনিটে ব্যাথা আসে, ৫০-৫৭ সেকেন্ড থাকে। আর ওই এপ্স যখন ই ইন্টেন্সিটি জানতে চাচ্ছিল, আমি শুরু থেকেই সব সময় "মডারেট" চুজ করেছি।

হাজব্যান্ড এলে ব্যাথা ৫০-৫৭ সেকেন্ড করে স্থায়ী হচ্ছিলো। মাঝে দেড় থেকে তিন মিনিটের রেস্ট। তীব্রতা ডেস্ক্রাইব এর অপশনে "slight" "mild" "moderate" "strong" "intense" অপশন গুলা ছিলো।  এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, আমার ছোট ছেলে হওয়ার সময় একদম শুরু থেকেই ব্যাথাটা তিন মিনিট পর পর এসেছিল। প্রতি দশ- বারো মিনিটে তিনটা ব্যাথা। এবং আমি চাচ্ছিলাম রাত টা একটু ঘুমিয়ে নিতে কারন বাচ্চা হলে ম্যাটেরনিটি ওয়ারডে হাজব্যান্ড কে এলাউ করেনা রাত দশ টার পর ও। তাই আমি সেবার মেন্টালি রেডি ছিলাম না।

কিন্তু লেইবারের ধর্ম ই হলো নিজেকে সপে দেয়া। রিল্যাক্স করে দেয়া। তাই এবার ব্যাথায় সেইরকম মানসিক প্রস্তুতি ছিলো। এবার একজন সাপোর্টিং পার্টনার রাতেও থাকতে পারবে। এটা জেনে রিল্যাক্সড ছিলাম।

প্রতিবার মোচড় এলেই আস্তাগফিরুল্লাহ পরার ট্রাই করেছি, আর মনে মনে ভেবেছি আমার বাচ্চাটা জলদি আসতেছে। পজিটিভ ভাবে ভাবার কারণে এম্নিতেই তীব্রতার পাশাপাশি একটা ভালো লাগা ও কাজ করেছে।

আর হাজব্যান্ড কে বলেছিলাম কোমড়ের দুইপাশে চেপে দিতে।  ব্যাথা এলেই একটু "উহ" শব্দেই ও জোড়ে কম্প্রেস করতো, যেটা একটা এক্সট্রা ব্লেসিং এবং সুথিং ব্যাপার ছিলো। আর সেটাকে আমি ব্যাথা না ভেবে চেস্টা করেছি "চেপে বাচ্চাকে বের করে দেয়ার সোজাসাপ্টা কাজ" হিসেবে।

যা হোক, প্রতিবার ব্যাথায় আমি এপ্স এ গিয়ে "মডারেট" অপশন চুজ করেছি। রাত ৪ঃ১৫ এর পর থেকে সেটাকে "স্ট্রং" হিসেবে মার্ক করেছি। কারন আমি ধরেই নিয়েছিলাম গতোবারের মতো তিন মিনিটে ব্যাথা এসে সেটা ৬০- ৯০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে।

কিন্তু বোনেরা, প্রতিটা প্রেগ্ন্যাসি আলাদা, লেইবার আলাদা। একি মায়ের প্রতিটা লেইবারে বডি আলাদা ভাবে কাজ করে। আমার কোন কন্ট্রাকশন ৫৭ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না।

অথবা, হয়তো ব্যাথা এতো বেশি ছিলো যে, ইনিশিয়াল স্টেজের তীব্রতা আমার কাছে কিছুই মনে হয় নি। আমার মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার ক্যাপাসিটি কম হলেও, ফিজিক্যাল পেইন থ্রেশহোল্ড মারাত্মক হাই। আলহামদুলিল্লাহ। 

তাই আমি ব্যাথার সবচে ইন্টেস সময় টা যখন পার করছিলাম, তখনো আমি সেটাকে ইন্টেন্স না ভেবে মেন্টালি রেডি ছিলাম যে আরো ইন্টেন্স কিছু আসবে ট্রাঞ্জিশনের সময়! তাই আমি সেটাকে "ইন্টেন্স" মার্ক না করে "স্ট্রং" হিসেবে মার্ক করছিলাম। আর এটা আমাকে ওয়ারস্ট একটা ব্যাথার জন্য এতোটাই রেডি করেছিল যে, আমি বুঝিও নি আমি ওলরেডি ট্রাঞ্জিশনের একদম কাছে।

এক ফাঁকে buzzer চেপে এক মিডওয়াইফকে জানিয়ে দিলাম তিন মিনিট পর ব্যাথা হচ্ছে স্ট্রং। সে ওকে বলেই চলে গেল আমার মিডওয়াইফকে খুঁজে আনতে।

৪:২০/৩০ এর দিকে হাজব্যান্ড ওদের কে ডেকে বল্লো, ”শী ইজ ইন এক্টিভ লেইবার, প্লীজ টেক হার টু দ্য ডেলিভারি সুইট!”

আমি মনে মনে ভাবছি,”না!  ডেলিভারী সুইটে নিলেই তোরা আমাকে মনিটর করবি, স্ট্র‍্যাপ করবি, শুয়ায়ে রাখবি... তারচে আমি এখানেই ভালো। দাঁড়িয়ে আছি, সেমি স্কোওয়াটে যাচ্ছি, রেস্ট করতে মন চাইলে ওল ফোর এ ফরওয়ার্ড লীনিং এ আছি বিছানার মাথার কাছে। আমার মতো করে ব্যাথা ম্যানেজ করছি.. আমার বরং ইনডাকশন লাউঞ্জেই হয়ে যাক বেবী!

ওরা দেখে ”ওকে” বলে চলে গেল। হাজব্যান্ড বলে ফজর আদায় করে নেই, কখন কি হয় বলা যায় না।। লোকটা নামাজে দাঁড়ালো, আমার তখন খুব অসহায় লাগা শুরু হলো। মনে হলো আমার কি হবে! ভালোই তো আরাম হচ্ছিলো যখন হীপ কম্প্রেশন দিচ্ছিলো দুপাশ থেকে।।এখন একা কিভাবে কোপ করবো! (মূলত আমি তখন ট্রাঞ্জিশনে আছি, একটু পর ই চাপ ফীল করবো) আর তার সুন্নাহ শেষ করে ফরযে শুরু হলো সুর করে রেসিটেশন। মেজাজ তখন অত্যধিক খারাপ হচ্ছে কারণ আমি আর পারছি না। ভ্যাজাইনা, কোমড় পেট ছিড়ে নিচে নেমে যাচ্ছে এমন অনুভূতি।  আমার ফাইটিং এর হাতিয়ার একটাই। স্লো আর ডীপ করে শ্বাস নিয়ে যাওয়া চোয়াল নরম রেখে। কারন, নরম রিল্যাক্সড চোয়াল মানেই, নরম রিল্যাক্সড সারভিক্স!

ওরা দলবলে কয়েক জন ঢুকলো। হাজব্যান্ড তখনো নামাজে, ফরজ এর শেষ রাকাতে।

এসে ওরা বলতেসে, "সুমাইয়া ক্যান ইয়ু প্লীজ লাই ডাওন, উই নীড টু চেক ইয়ু এন্ড টেক ইয়ু টু দ্য ডেলিভারী রুম!”

আমার কথা বলা বা নড়ার শক্তি নাই। উত্তর করলাম না। মাথা বেডে নিচে করে রেখে কেবল শ্বাস নিয়ে যাচ্ছি বেবীর কথা মাথায় রেখে। তারপর সোমালী আরেক সিস্টার, যাকে কিনা আমার মিডওয়াইফ এর দ্বায়িত্ব হ্যান্ডওভার করা হইসে সবে মাত্রই, ওই সিস্টার আবার বল্লো শুইতে। আমি বললাম " আই ফীল লাইক পুশিং!”

সে বলে "লাই ডাওন সুইটহার্ট,  হারি আপ!” আমার এডাল্ট ডাইপার ছিড়ে দিলো এক মিডওয়াইফ,  সে আরেক পাশ ছুটাইতে পারেনা, হাজব্যান্ড হেল্প করলো! আমি শুলাম। সিস্টার টা চেক করবে, তার আগে বল্লো, ”ডোন্ট পুশ ডোন্ট পুশ!” " হোল্ড অন!


" আর আমি - " আই কাাাাাান্ট স্টপ!” কিন্তু আমি কিছুই ফীল করতেসিনা উনার আংগুল! কারণ বাচ্চা তখন দুনিয়ায় আসার জন্য রেডি! স্ট্রং urge হচ্ছে পুশ করার, ওই মূহুর্তে কিভাবে পুশ না করে থাকা সম্ভব! হাগুর বেগ চেপে থামানো যায়, কিন্তু বাচ্চা হওয়ার বেগ বা আর্জ কিভাবে হোল্ড করা যায়! ওই সিস্টার চেক করেই বলে " টু লেইট, ঈটস হিয়ার, বেবী ইজ কামিং" আমি ততোক্ষণে পুশ করা শুরু করেছি!

দেখলাম একটা গাশে ওই সিস্টার এর বুক পুরা ভিজে গেল এম্নিওটিক ফ্লুইড এর স্যাক রাপচার হয়ে, যখন আমার বেবীর মাথা ইমার্জ করসে! পরিস্থিতি এমন যে, সবাই আমার পাশে। একজন বলতেসে, "সুমাইয়া এভ্রিথিং ইজ গনা বি ফাইন, ইয়ু আর ডুইং গ্রেইট! আ বিগ পুশ, ওকে?”

আরেকটাই বিগ পুশ, বেবী দুনিয়ায়!

১৭ এপ্রিল, সকাল ৪:৪১ মিনিটে, বাদ ফজর।  ইনডাকশন লাউঞ্জে আমার বেডের উপর। দুই মিনিটের কম সময়ে সে চলে আসছে!

আলহামদুলিল্লাহ। পাকনা এক নবীন মিডওয়ইফ কে বললাম ডিলেয় করতে কর্ড ক্ল্যাম্পিং এ!

সে জানালো পালস করা অফ করসে নাড়, এখন কাটতে পারি। আমি ও আর তাকায়ে দেখলাম না। নাড় কাটার পর দেখি গরম কি যেন আমার গায়ে পরলো। তাকিয়ে দেখি নাড়ে তখনো রক্ত ছিলো আর পুরোপুরি সাদা হয়নি। "ব্লাড ওয়াজ স্টিল দেয়ার‍" বলে ওর দিকে তাকাতেই ও বলে ঈটস নরমাল! মেজাজ খারাপ হইলেও কিছু আর বলতে পারলাম না।

পরে ওরা আমাকে বেড সহ ডেলিভারী রুমে নিয়ে গেল বাকী কাজ গুলা করতে।

ওখানে গিয়ে আমার ব্লিডিং আর থামেনা। দুই ঘন্টায় তিনটা প্যাড বদলে দিলো। নিচের ম্যাট ও ভরে যাচ্ছিল। প্রায় 600 এম এল বেশি ব্লাড গেল। যদিও টিয়ারিং ছিলো ফার্স্ট ডিগ্রী। আমার প্রথম বাচ্চার সময় ও দেশে এমন পোস্টপারটাম হেমারেজ ছিলো। পরে এক চাইনিজ ডক্টর এসে টং সহ আরো দুই তিন রকমের ইন্সট্রুমেন্ট ঢুকায়ে মোচড়ায়ে, হাত ঢুকায়ে নেড়ে চেড়ে ভেতর থেকে টাইনি এক মেম্ব্রেইন বের করলো। ওই জিনিসটাই মূলত রক্ত সব টেনে আনছিলো। বলে গেল আরো ব্লিডিং হলে আবার চেক করতে হবে! চেক করার প্রসেস টা এতো কষ্টদায়ক ছিলো সুবহান আল্লাহ!! সেই মূহুর্তে আমার বুক ফেটে কান্না এসেছে এবং কেঁদেছি ও।

আর কতো কষ্ট,  কতো যন্ত্রণা সয় ? হাজব্যান্ড বলে এতো স্ট্রং একটা মানুষ তুমি, এভাবে কাঁদেনা!

আমি যেই মানুষ একটা শব্দ করিনি, মিডওয়াইফ রা অব্দি বুঝতে পারেনি যে আমি এডভান্সড লেভেলে আছি.. সেই মানুষ আর কতো সইবে?

আমার বাচ্চাগুলার কথা মনে হচ্ছিলো! ছোট ছানাটার মাত্র ১৪ মাস বয়স। মনে হচ্ছিলো আরেকবার হাত ঢুকায়ে আমাকে কষ্ট দেয়ার চাইতে মরে যাওয়া ভালো। আর পারিনা আমি। পুরোটা লেইবারে নো মেডিকেশন, নো এপিডিউরাল, নো গ্যাস এন এয়ার... পেইন টা নিজে নিজে ব্রিদিং এক্সারসাইজের মাধ্যমে ম্যানেজ করেছি, আর সেই আমি এখন কান্না করছি কষ্ট পেয়ে।

এরপর শারীরিক দূর্বলতা, নিপল ক্র‍্যাক (হাহা, ৫ বাচ্চার মায়ের ও হয়) বাচ্চার ওয়েট লস ১২% যেটা ওদের পলিসি অনুযায়ী খুব ই ”এলারমিং!” আমাকে মেন্টাল স্ট্রেসে রাখা বদগুলার ফরমূলা দাও বলে বলে!

আলহামদুলিল্লাহ সব মিলিয়ে এখন আল্লাহ স্ট্যাবল একটা পজিশনে রাখসেন। আমার কলিজা মেয়ে, আমি আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছি। আল্লাহ রহম করসেন আমাদের উপর।

নিজেকে সত্যি খুব একজন ওয়ারিওর মনে হইসে এবার। যার একটাই অস্ত্র ছিলো, স্লো এন্ড ডীপ ব্রিদিং!

কিছু জিনিস বোনেরা ভুলবেন না। লেইবার শুরু হলে মাস্ট-

১. কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করা।
২. ডায়াবেটিস এর মায়েরা ব্লাড সুগার কমে যাচ্ছে কিনা চেক করা!
৩. খেজুর বা অন্য কোন পুস্টিকর খাবার খাওয়া এনার্জির জন্য, যাতে লেইবার স্টল না করে।
৪. প্রতি ঘন্টায় পিশু করে আসা বেগ না পেলেও। শেষ বার পিশু করে আসার 15 মিনিটের মধ্যে আমার মেয়ের জন্ম হয়।
৫. পজিটিভ মাইন্ডসেট রাখা যে, প্রতিটা মোচড় মানেই বাচ্চা বুকে আসার এক ধাপ এগিয়ে আসা।।
৬. কোন একটা সময় "আর পারছিনা" "আমাকে দিয়ে হবেনা" এই সময়টার জন্য প্রস্তুত থাকা। এমন অনুভূতি মানেই একদম লাস্ট দিকেই চলে এসেছি, এবং আমি পারবো! সুবহান আল্লাহ! আল্লাহু আকবার!
৭. কেউ কন্ট্রাকশনের সময় পাশ থেকে হীপ এ চাপ দিলে খুব আরাম হয়।
৮. পেলভিসের ইনলেট, মিড পেলভিস, আউটলেট খোলার এক্সারসাইজ জেনে রাখা।
৯. জন্মদানের কয়েক ঘন্টা পর থেকেই কেগেল করা।

সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ জানুয়ারি ১৫, ২০২৬