baby-eating-habits-matrittoস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ধরে রাখা সারা জীবনের প্রক্রিয়া। তাই এর শুরু হতে হবে বাচ্চার খাদ্য গ্রহনের প্রথম দিন থেকেই।

বাচ্চা কতটুকু খাবে এটা ঠিক করার দায়িত্ব বাচ্চাকেই দিন। কোনদিন বাচ্চা বেশি খেতে চাইবে, আবার কোনদিন কম খাবে। কারণ আপনার মতোই বাচ্চাদের খাবারের রুচি কম বেশি হতে পারে। বেশিরভাগ সময় বাচ্চাদের পেট ভরে গেলে খাওয়া থামিয়ে দিবে। আপনি যদি জোর করে বেশি খাওয়ান, তবে অন্যান্য খাবার সে নাও খেতে চাইতে পারে। আবার জোর করে খাওয়ানোর ফলে তার ওভার-ইটিং বা বেশি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

যেকোন খাবারে দু-ধরনের উপাদান থাকে। শক্তিদায়ী উপাদান যা শরীরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে শক্তি যোগায় আর বৃদ্ধিকারী উপাদান, যা বাচ্চাদের দৈহিক গঠনকে সাহায্য করে। নিচে আমরা খাবারকে চারটা গ্রুপে ভাগ করেছি। আপনার বাচ্চাকে এই চারগ্রুপ থেকে মিলিয়ে খাওয়াতে পারেন।

  1. ফল ও সবজী
  2. রুটি, ভাত, আলু ও পাস্তা
  3. দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার
  4. মাছ, গোশত, ডিম ও বিভিন্ন বিচি জাতীয় খাবার

বাচ্চার খাবারকে আমরা চিনি বা মধু জাতীয় পদার্থ দিয়ে অহেতুক মিষ্টি স্বাদ দেই,যেটা না করা সবচেয়ে ভালো। এছাড়া বাচ্চার খাবারে লবণ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ বাচ্চার কিডনী হয়তো এই লবণের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে না।

যদি আপনি বাচ্চাকে প্রথম থেকেই বিভিন্ন স্বাদের, গন্ধের খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন, তবে পরবর্তী জীবনে সে হয়তো সব ধরনের খাবারে অভ্যস্থ হবে সহজেই।

যেকোন নতুন খাবার প্রথমবার খাবারের সময় বাচ্চা চোখেমুখে অদ্ভুত অভিব্যক্তি ফুটে উঠতে পারে। এরমানে এরকম না যে সে খাবারটা অপছন্দ করেছে। সম্ভবত সে খাবারের ফ্লেভার বা ধরনে আশ্চর্য হয়েছে। তাই চিন্তিত হবেন না।

কোন খাবার যদি বাচ্চা খেতে না চায়, তবে সেদিনই জোরজবরদস্তি না করে সেই খাবার আরেকদিন দিয়ে দেখুন। কারণ কোন খাবার বাচ্চারা কমপক্ষে ৮ বার খেয়ে দেখার পর সেটা আনন্দের সাথে খাবে। তাই খুব ধৈর্য্য ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ান।

খাবারের সময় বাচ্চাকে খাবার নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখতে দিন। যখনই বাচ্চা কোন কিছু ধরতে পারে, তখন তাকে সেদ্ধ খাবার {যেমন গাজর, চিকন করে কাটা আপেল] হাতে দিন, যাতে সে চুষে দেখতে পারে। এরফলে বাচ্চা বিভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা নিতে পারে। এভাবে হাতে খাবার দেয়ার ফলে বাচ্চার আত্মবিশ্বাসও বাড়ে এবং বাচ্চা বিভিন্নধরনের খাবার চেখে দেখার ব্যাপারে উদ্যমী হয়।

বাচ্চারা বড়দের দেখে শিখে। তাই আপনার খাবারের টেবিলে বাচ্চার জন্য একটা চেয়ার বরাদ্দ রাখুন। বাচ্চাকে খাওয়ানোর সময় আপনিও তাকে দেখিয়ে খেতে পারেন। এতে সে বুঝতে পারবে আপনি খাবারটি উপভোগ করছেন। হয়তো সে আপনাকে অনুকরণ করবে। বাচ্চার বয়স নয় মাস হলে সে আপনার বেশিরভাগ খাবার খেতে পারবে।

খাবারের সাথে বাচ্চা সম্পর্ক ইতিবাচক হওয়া চাই। খাবারকে কখনো পুরষ্কার বা ঘুষ হিসেবে ব্যবহার করবেন না। বরং বাচ্চাকে খুশি বা উজ্জীবিত করতে তাকে বেশি করে আদর করুন, চুমো দিন।

মায়ের দুধের পাশাপাশি বাচ্চার জন্য সবচেয়ে ভাল পানীয় হচ্ছে পানি। এছাড়া আপনি বাচ্চাকে ফল বা সবজি জুস করে দিতে পারেন। যদিও এধরনের খাবার বাচ্চার ততটা দরকার নেই।

যদি বাচ্চাকে জুস জাতীয় খাবার দিতেই হয় তবে তাতে ১০ ভাগ পানি ও ১ ভাগ ফল/সবজি দিয়ে ভাল মতো ব্লেন্ড করে নিন। শুধুমাত্র দুপুরে বা রাতে তাকে এধরনের জুস জাতীয় খাবার দিন কারণ এতে তার দাত জুসের এসিডিটি ও চিনি থেকে রক্ষা পাবে।

লেখাটি আপনার সব প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি? সেক্ষেত্রে আপনি ফেসবুকে মাতৃত্ব গ্রুপে যোগ দিতে পারেন। মাতৃত্ব হলো বাংলাভাষী মা ও হবু মা'দের ভাব আদান-প্রদানের মাধ্যম।"

ছবি কৃতজ্ঞতা