আমার প্যারেন্টিং জার্নি

লিখেছেন Rabeya Bosri Ohi

কেউ কেউ অনুরোধ করেন আমার প্যারেন্টিং জার্নি নিয়ে লিখতে। আমি বাচ্চাদেরকে কিভাবে গড়ে তুলেছি। হয়তো অনেকের কাজে লাগতে পারে। সেজন্য যে কারোই এ বিষয়গুলোতে লেখা উচিৎ, বলার মত যা কিছু আছে। ভুল , সঠিক, সবকিছু। আমি আমার জীবনে ভুল থেকে যেসব শিক্ষা পেয়েছি তা আর অন্য কোনকিছু থেকে পাইনি।

আল্লাহর অশেষ রহমতে মাহের ফুরক্বান আমার অত্যন্ত চক্ষুশীতলকারী। আমার এমন কোন কথা নেই যা শোনে না। যে কেউ ওদেরকে দেখে মুগ্ধ হয়। যেকোন ভাল কাজ তারা উৎসাহের সাথে করে। বিশেষ করে মাহের। ব্যতিক্রম যে হয়না তা না। তবে মাঝে মাঝে ওদের ভাল কাজ করার উৎসাহ দেখে আমিই অবাক হয়ে যাই। ওরা সত্যিই মন থেকে সঠিক কাজটা করতে চায়।

মাহের এর স্কুলের টিচারদের মুখে শুধু ওর প্রশংসা শুনতে পাই। তার আচার ব্যবহার বিষয়ে। ক্লাস পারফরম্যান্সের বিষয়ে। সেদিন ওদের প্রিন্সিপলের মুখে ওর প্রশংসা শুনে সত্যি নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল। বাচ্চাটা সবার দৃষ্টি কেড়েছে। প্যারেন্টস মিটিংয়ের দিন ওর ম্যাডাম আমাকে বলেছিল, আপনি এমন কি করেন আমি জানিনা। তবে মাহের এর পারফরম্যান্স এ আমি মুগধ।

মাহের বাসায় এসে তার নিজের পড়া নিজেই কমপ্লিট করে ফেলা, নিজের সব কাজ নিজে নিজে করার স্পৃহা, ফুরক্বানের টেইক কেয়ার করার ব্যাপারে তার উৎসাহ দেখে আমার চোখ জুড়িয়ে যায়।

কিছুদিন আগে স্কুল থেকে এসে আমি রেস্ট নিচ্ছিলাম। মাথায় টেনশন ছিল যে স্কুলের প্রজেক্ট ঠিকমত কমপ্লিট করাতে হবে। অনেক সময় দিতে হবে। বুঝাতে হবে। সেজন্য রেস্ট নিয়ে নিচ্ছিলাম। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি সে প্রজেক্টের কাজ অর্ধেক কমপ্লিট করে ফেলেছে।
খুশিতে আমি ওকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ স্পিনিং করলাম, অনেক অনেক চুমু দিলাম। সে এতবড় একটা কাজ নিজে নিজে করে ফেলেছে, আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরবর্তীতে পুরো প্রজেক্টটাই সে একা একাই কমপ্লিট করেছে। আমি হেল্প করতে চাইলেও বলেছে লাগবে না।

সব মিলিয়ে ওর প্রতি আমার ভাল লাগা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চক্ষুশীতলকারী সন্তানের উপযুক্ত উদাহরণ আমার কাছে মাহের (9 years)। ফুরক্বানও (3 years 11 months)।

এজন্যই আমার মনে হচ্ছে বাচ্চারা কিভাবে বাবা-মায়ের কথা বেশি করে শোনে, এই বিষয়ে কিছু পরামর্শ হয়তো আমার শেয়ার করা প্রয়োজন।

১. এক নাম্বারে আমি স্থান দিতে চাই সূরা ফুরক্বানের ৭৪ নাম্বার আয়াতকে।
স্বলাতে সালাম ফিরানোর পূর্বে এই দুয়াটা পড়া যে কত জরুরী। #দুয়া র থেকে বড় টিপস আর কিছু নেই।

২. দুই নাম্বারে যেটা বলা যায় সেটা হতে পারে বাচ্চাদেরকে অনেক বেশি #আদরকরা অনেক অনেক কোলে নেয়া, চুমু খাওয়া, সুড়সুড়ি দেওয়া। এতে করে যে বাচ্চারা শুধু আপনার অনুগতই হবে তা নয়, বরং বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং ব্রেইন ঋষ্টপুষ্ট হবে।

৩. তিন নাম্বারে হয়তো বলা যেতে পারে ওদেরকে অনেক বেশি #প্রশংসা করা। যেকোন ভাল কিছু করলেই সেটা যত ছোট ই হোক সেটা যে আমি খেয়াল করেছি এবং পছন্দ করেছি সেটা ওকে বুঝানোর জন্য প্রশংসাসূচক কিছু বলা। . যেমন আমি "মাশাআল্লাহ " বলি। থ্যাঙ্কিউ জানাই। অনেকসময় কোলে নিয়ে আদর করি। চুমু দেই। জড়িয়ে ধরে আদর করি।

৪. চার নাম্বারে হয়তো বলা যেতে পারে #কাউন্সিলিং বিষয়ে। আমি ওদের সাথে বিশেষ করে মাহের এর সাথে , যখন থেকেই সে কথা বলা ও প্রশ্ন করার বয়সে এসেছে, প্রচুর কথা বলি। বিশেষ করে যখনই ও কোন বিষয়ে প্রশ্ন করেছে তখনই সব কাজ ফেলে চেষ্টা করেছি তার সেই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত গুছিয়ে ঠান্ডা মাথায় সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে।

কারণ এই বিষয়টা অন্যসময় আমি এর চাইতে বেশি ভালভাবে শিখানোর সুযোগ আর পাবনা, যখন সে নিজে থেকে জানতে চাইছে, তখনকার চাইতে। এই বিষয়টাতে অনেক ধৈর্য্যের প্রয়োজন। অনেকসময় মাথা অস্থির লাগে।

পুরোটা পড়তে সহজে লগিন করুন

গুগল বা ইয়াহু বাটনে ক্লিক করে লগিন করুন। সমস্যা হলে সাপোর্টে নক করুন
সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ অক্টোবর 27, 2021