"আমি আর চাই না "
বাক্যটা বলে, হাস্পাতালের বিশাল রুমে এক এক জন প্রসূতি মা চিৎকার করে কান্না করে যাচ্ছেন, সময় আনুমানিক রাত ৩/৪ টা বাজে। যেন কলিজা ছিড়ে যাবে কান্নায়! কি ভয়ঙ্কর কান্না! মনে হচ্ছে গলা কেটে ফেলি তাও বাচ্চা জন্ম দেবার কষ্ট নিতে পারছিনা! তো আমাকে যথারিতি একটা বেড এ দিয়ে গেল, ততক্ষনে আমার পেইন চলে গিয়েছে, যার জন্য ওনাদের চিৎকার এ ভয় কিছুটা কম পেলেও মনে হচ্ছিলো জীবনের সব চেয়ে ভূল করে ফেলেছি! হাসি মুখ,অন্তরে ভয় এদিক সেদিক দেখি আমি!!
যদিও ওনারাও প্রসব যন্ত্রণাতে এমন ই ভেবেছিল বুঝাচ্ছিল !! পাশে তাকিয়ে দেখছি আমার আম্মু ওনাদের কান্নাতে কান্না করছেন দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে! আমি বললাম তুমি ওনাদের কান্নাতেই কান্না করছো?! পরে লজ্জামিশ্রিত হাসি দিলো আম্মু!
চলে আসি শুরু থেকে ইন শা আল্লাহ
২০২০
প্রেগ্ন্যাসির ৩৫ সপ্তাহ কেবল হাসপাতাল যথাক্রমে খোজা হচ্ছে এখনো, আসলে হাসবেন্ড এখনো ঠিক করতে পারেনি যে কোনটাতে যাবো লাস্ট টাইমে।
তো সেবার ওনার অফিসের কাজে যেতে হবে চট্রগ্রাম তাই আমাকে বাবার বাসায় দিয়ে যেতে চাচ্ছেন কিন্তু কেন জানি মন মানছিলনা, তাও জোর করে দিয়ে আসলেন। আমি চেয়েছিলাম আরো পরে যাবো। করোনার সিজন চলছিলো তখন ও, এদিকে বাবার বাসায় সবার জ্বর হচ্ছে এক এক করে। বাবার বাসায় আসার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আমার পেট খারাপ হোল, সাথে জ্বর।
আমার ভাইয়া গাইনি ডাক্তার কে ফোন দিয়ে দিয়ে ঔষধ এনে দিচ্ছিলেন। জ্বর কমে গেলেও পেট খারাপ আর ভালো হচ্ছিলো না।
তো এত কিছুর মধ্যে আমি বাচ্চার নড়াচড়া কাউন্ট করার ব্যাপার ভুলেই গিয়েছিলাম। দুই তিন দিন এরকম চলার পরে হঠাত সেদিন বিকেলে দেখলাম কোমর ব্যাথা করছে ভাবছি পেট খারাপের জন্য মনে হয় এমন হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে ব্যাথা বেড়েই যাচ্ছিলো। ওয়াশরুমে গিয়ে চেক করে দেখি আঠালো লালচে স্রাব যাচ্ছে, আমি মাতৃত্ব সাইটে পড়েছিলাম যে এরকম টা লেবার পেইন হলে হয়।
এদিকে হাসপাতাল ঠিক করাও নেই কোন। কোথায় যাই! আমার রেগুলার ডাক্তার কে ফোন দিলে তিনি বললেন যে যদি আমি মনে করি এটা লেবার পেইন তাহলে যেন চলে আসি! আমার খুব রাগ হোল ওনার উপর! উনি ডাক্তার উনি বলবেন যে হ্যা এটা এই অবস্থা তোমার এখন চলে আসো তুমি, তা না!
গন্ডোগোল লেগে গেল কোথায় যাবো সেটা নিয়ে। কিছুদিন আগে হাসবেন্ড এর এক বন্ধুর ওয়াইফ এর বাচ্চা হয়েছে আদ্ব -দ্বীন মগবাজার হাসপাতালে, নরমাল ডেলিভারি তে৷
