ইউরিন ইনফেকশন খুবই পরিচিত একটি সমস্যা বিশেষত মেয়েরা এই সমস্যায় বেশি ভুগেন। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ২ জনে একজন নারী ও ১০ জনে একজন পুরুষ ইউরিন ইনফরমেশন এ ভুগেছেন। নারীদের বেশি হওয়ার কারণঃ নারীদের মূত্রনালীর সাইজ টা তুলনামূলক ভাবে ছোট, মলদ্বারের কাছাকাছি থাকে মেনোপজে, প্রেগন্যান্সিতে ইউ টি আই একটি ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষণ তাই এটা খুব গুরুত্ব দিতে হবে কারণ অপরিপক্ক গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়স হলে এটা দেখা দেয় – প্রস্টেট বড় হয়ে গেলে, মূত্রনালী পথে এ পাথর হলে, রোগ প্রতিরোধ কমে গেলে ডায়বেটিস হলে ইউরিন ইনফেকশন হয়।

কীভাবে বুঝবেন?

যদি আমরা একটু সতর্ক থাকি তাহলে সহজেই এই সমস্যাটা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারব ইন শা আল্লাহ। আগে জেনে নেই এর লক্ষ্মণ গুলোঃ

  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া।
  • ফ্রিকুয়েন্সি বা বারবার যাওয়া।
  • সম্পূর্ণ রূপে প্রস্রাব না হয়, আবার যেতে ইচ্ছে করা।
  • তল পেটে ব্যথা।
  • হঠাৎ প্রস্রাব চাপ লাগা, যেটাকে আর্জেন্সি বলে থাকি।
  • সাথে আরো থাকতে পারে –
  • জ্বর।
  • বমি বমি ভাব।
  • খাবারে অরুচি।

কিভাবে প্রতিরোধ করতে পারি?

পারসোনাল হাইজিন মেইনটেইন করাঃ

নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা প্রতিবার বাথরুমের পর ভালো করে প্রাইভেট পার্ট পরিষ্কার করা, আরামদায়ক ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আন্ডার গার্মেন্টস পরিধান করা৷ বিশেষ করে মাসিকের সময় খুব সতর্কতার সাথে হাইজিন মেইনটেইন করা এই সময় ইউরিন ইনফেকশনের চান্স বেশি থাকে, তাই সঠিকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে হবে। ৫ ঘন্টার বেশি সময় একটি প্যাড না পরা।

প্রস্রাব চেপে না রাখা ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়াঃ

অনেকেই বিশেষ করে মেয়েরা বাড়ির বাইরে অনেকেই মূত্রত্যাগ করতে চান না। এই দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। প্রস্রাব যদি মূত্রাশয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়, তাহলে তাতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে সমস্যা গুলোও বাড়তে থাকে তাই ইউরিন ইনফেকশন দূর কররে উত্তম উপায় হলোঃ প্রচুর পানি পান করা এবং ইউরিনেশনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয়া।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন

ডাবল ভয়েডঃ

একবার ইউরিন পাস করে কয়েক মিনিট পর ইউরিন পাস করা।

ইন্টারকোর্স এর আগে ও পরে ইউরিন পাস করা।

ভিটামিন সি

নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ কমিয়ে দিতে পারে ইউরিনারি ইনফেকশনের সম্ভাবনা। প্রচুর ভিটামিন এ, ই, সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। টক ফল, আমড়া, পেয়ারা, শসা এবং প্রচুর শাকসবজি খেতে হবে।

পোশাক পরিচ্ছেদ

ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরতে হবে। টাইট জামা পরলে ইউরেথ্রা ও সেটার আশপাশ বেশি ঘামতে পারে।

যথাযথ চিকিৎসা

যাদের বার বার ইনফেকশন হয়, তারা ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস

যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ইউরিন ইইনফেকশন হলে কি করতে পারি?

যদি সমস্যা খুবই কম থাকে তাহলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলেই সুস্থ হওয়া সম্ভব তবে যদি বেশি সমস্যা হয় এক দিনের বেশি থাকে বা কিছুদিন পর পর ই এমন হয় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত কারণ তখন এন্টিবায়োটিক লাগতে পারে। ইউরিন মাইক্রোসকোপিক ও ইউরিন কালচার সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা আবশ্যক। বারবার ইনফেকশন হলে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।

ঘরোয়া চিকিৎসা গুলো হলোঃ

অবশ্যই প্রথমে ইউরিন প্রতিরোধে যে কাজ গুলো উপরে বলেছি সেগুলো করতে হবে। পাশাপাশি-

✔️ বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। ভিটামিন সি জাতীয় জুস চিনি ছাড়া – লেবুর জুস, ক্রেনবেরি জুস, মাল্টা জুস খাওয়া যেতে পারে ইত্যাদি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে পারেন কারণ এরা ইউরিন এসিডিক করে রাখে ফলে ব্যাকটেরিয়া গ্রু করতে পারে না।এ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খেতে হবে। মাছ ও মুরগির মাংসও খেতে পারেন।

তবে কফি, কোল্ড ড্রিঙ্ক, অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে।

✔️ প্রোবায়োটিক – প্রোবায়োটিক খাওয়া যেতে পারে যেমন টক দৈ। টক দইতে ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিকস থাকে। যা রোগ-জীবাণু ছড়ানো ব্যাকটেরিয়া দূর করতে পারে। তাই টকদই প্রতিদিন খাওয়া উচিত।

✔️ এক গ্লাস কুসুম দুধে ১ চামচ হলুদ গুড়া মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খেলে খুব দ্রুত ই সমস্যা সেরে যায় – হলুদ এন্টি ইনফ্লামেটরি তাই ইনফেকশন কমিয়ে দেয়।

✔️ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে বেকিং সোডা দ্রুত মূত্রনালীতে সংক্রমণ সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। আধ চামচ বেকিং সোডা এক গ্লাস পানিতে ভাল করে মিশিয়ে দিনে এক বার করে খেলেই প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা ভাব কমে যেতে পারে। তবে বেশি মাত্রায় বেকিং সোডা শরীরের ক্ষতি করতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

✔️ ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করলে কোর্স পুরো শেষ করুন। ভালো বোধ করলেও অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করা জরুরি।

যেকোনো রোগে সচেতন থাকা অনেক বেশি জরুরি। নিযে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি

– ডাঃ সায়মা সাজ্জাদ মৌসি

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা