নরমাল বা সিজার দুটো ই কঠিন - বার্থস্টোরী

লিখেছেন আচল খন্দকার

বিয়ের ২.৫ বছর কোনরকম বেবি প্ল্যানিং ছিল না,,

হঠাৎ আশে পাশের সবার কথায় যখন রেডি হলাম আগেই প্রি প্রেগ্ন্যান্সির ডক্টর দেখালাম,,

আমার শুরু থেকেই ফিজিক্যাল কোন প্রবলেম ছিল না কিন্তু দুর্বলতা কাজ করতো শরীরে একটা,,ডক্টরকে নিজের সব হিস্ট্রি শোনাই,,

উনি নরমালি সবধরনের টেস্ট দেন,,থাইরয়েড ধরা পরে ৬,আর একটা বড় সাইজের ওভারিয়ান সিস্ট(তখনো কি সিস্ট জানি না,আইডিয়া ছিল না তাই ওভারিয়ান ই জানতাম,৫.৫ ছিল)

ডক্টর বললেন ৩ মাস সিস্টের মেডিসিন নাও তারপর বেবির কথা ভাবা যাবে,,এর মধ্যে টেনশন ভয় তো আছেই,,৩ মাস পর চেকআপে গেলাম,,টিভিএসে দেখা গেল বড় সাইজ হওয়ায় যাচ্ছে না,,থাইরয়েডও ৬ ই আছে,,ডক্টর ডিরেক্ট বললেন ল্যাপারোস্কপি লাগবে,,স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেলাম,,এত অল্প বয়সেই সার্জারীতে যাব,,

সার্জন দেখালাম,,উনি আবারও সব টেস্ট দিলেন,,১মাস পর যেতে বললেন,,সে অব্দি সিস্টের আকার টিভিএসে আসলো ৪.৮,,

সার্জন বললেন বেবি নাও,,সি সেকশনের সময় সিস্ট রিমুভ করে ফেলব,,

আমি আরেকজন সার্জন দেখালাম উনি ক্যান্সারের টেস্ট দিলেন যে সিস্ট টা ক্ষতিকর নাকি,, আলহামদুলিল্লাহ সিস্ট টা নন ক্যান্সারাস আসে,,

কিন্তু বেবি নিতে গিয়ে আবার পিছালাম যে সময় নেই,,থাইরয়েড কন্ট্রোল হোক,,তখন ছিল ৫,,

৬ মাস পর আমি আবার আরেকজন সার্জন দেখাই,,উনি সব রিপোর্ট সব হিস্ট্রি দেখে বলেন,,তোমার সিস্ট টা ওভারিতে না,,এর জন্য তোমার শারীরিক কোন প্রবলেম নেই,,তোমার সিস্ট টা টিউবের উপরে,,যা শারীরিক ক্ষতি করবে না+বেবি নিতেও প্রবলেম নেই,,ন্যাচারালিই হবে,,

আমি আশ্বাস পেলাম,,ফলিক এসিড আর প্রেগ্ন্যান্সির মেডিসিন লিখলেন,,কিন্তু আমি শুধু ফলিক এসিড আর থাইরিন চালিয়ে গেলাম,,

এর মাঝে গ্যাপ চলে গেল ১ বছর,,চিন্তা ভাবনা বাদ দিলাম যেন আগে শরীর রেডি হয়,,

এ ও অনবরত বেবি হয় না কেন,নাও না নাকি হয় না,ছোট বড় কেউ বাদ দেই জিগ্যেস করার,,আমি যদি বলতাম এগুলো কোন রোগ না তারা অট্ট হাসি হাসতো,,কিন্তু আমার ছিল রবের প্রতি কঠিন বিশ্বাস আর ওইযে ডক্টর এর একটা কথা তোমার ন্যাচারালিই হবে,,

এর মাঝে অনেক কথা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝে হাসবেন্ড ওয়াইফ চিন্তা করি মা বাবা হওয়ার,,ডক্টরের সাজেস্ট করা প্রেগন্যান্সির মেডিসিন খাই কিন্তু কাজ হলো না দুই মাস,,মনে ভয় লাগছিল যে তাহলে কি সমস্যা বাড়লো! এবার দুজন মিলে চেকআপের সিদ্ধান্ত নিলাম ঈদের পর,,রোজায় অনেক দুয়া করেছি,,আলহামদুলিল্লাহ কোন প্রিপারেশন ছাড়াই ন্যাচারালি রোজার পরের মাসে জানতে পারি আমি প্রেগন্যান্ট,,

আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ,,

সিমটমস কিছুই ছিল না,,অভুলেশন ট্র‍্যাক করে মাত্র ২৬ দিনেই পজিটিভ পাই,,শুধুমাত্র মাথাব্যাথা ছিল,,জার্নিও করি সেই মাসে অনেক যেহেতু জানতাম না,,

এত আর্লি এসেছিল বলে আমরা কনফিউজড ছিলাম,, আম্মুকে জানালাম,,আম্মুও বিশ্বাস করলো না,,কিন্তু আমিতো জানি এটা ভুল না,,তারপর হসপিটালে চলে গেলাম,,ডক্টরকে জানালাম আমার কাশি হচ্ছিল + ডাবল লাইনের কথা,,ডক্টর অদ্ভুত লুক দিয়ে বললেন এত আগেই কেন টেস্ট করেছো,,৬ সপ্তাহের আগে তো সিউওর হওয়া যায় না,,মন টা খারাপ হয়ে গেল,,

ডক্টর। বেটাএইচসিজি দিলেন আর্লি প্রেগ্ন্যান্সির জন্য,,দুইদিন পর রিপোর্ট আসবে,,

এই দুইদিন আমরা দুইজন এত টেনশন করেছি🥲 হাসবেন্ড বলছে না হলে নাই চিন্তা করছো কেন কিন্তু আমার ভিতর দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিলো,,আম্মু বোন ও কনফিউজড ছিল,,

মনকে শক্ত করে আবার গেলাম রিপোর্ট আনতে,,আলহামদুলিল্লাহ ৬২৩ নিয়ে ৪ সপ্তাহের প্রেগ্ন্যান্সি পজিটিভ আসে,,আমরা ডক্টর এর রুমে ঢোকার আগে গুগল করেছিলাম🫠

ডক্টর ও অবাক,,(কেন এত অবাক হচ্ছিলেন জানি না)বললো ভালো তো,,যাই হোক মেডিসিন লিখলো কিছু,,আমার ঠান্ডা কাশির জন্যও এন্টিবায়োটিক লিখলেন,,২ সপ্তাহ পর যেতে বললেন,,

কাউকে জানাতে না করলেন হাসবেন্ড কিন্তু আমি এত খুশি ছিলাম আর বলতেছিলাম আল্লাহ আমাকে এত বড় নিয়ামত দিয়েছে আমি কেন জানাব না,,সবাইকে বলেছিলাম,, আলহামদুলিল্লাহ ৭ সপ্তাহেই বাবুর হার্টবিট চলে আসে ,,আর্লি ওভুলেশন হয়েছিল,,সেদিন আমার আনন্দের কোন সীমা ছিল না,,বাসায় এলাম,,কিন্তু আমার মধ্যে প্রেগ্ন্যান্সির কোন সিম্পটম নেই,,আমিতো টেনশন এ পরে গেছি ,,কোন বমি নাই,,সবাইকে শুধু জিগ্যেস করতাম,,একজন বললো এটা বলতেছো যখন শুরু হবে তখন কেদে ফেলবা,,সত্যিই পরের দিন থেকে আমার বমি +গন্ধ শুরু হলো🤣🤣

ডিসিশন নিলাম বাবার বাড়ি চলে আসার,,কুরবানি ঈদের আগে প্রথম বাবু পেটে নিয়ে এসে ঈদ করলাম,,কি এক অনুভুতি,,মাত্র ২.৫ মাস তখন,,পেট বুঝা যায় না কিন্তু বার বার আয়না দেখা🥰

টাঙ্গাইলের অন্যতম নামকরা ডক্টর এর আন্ডারে চলে গেলাম,,১২ সপ্তাহে ওজন মাশাল্লাহ বেশি আসে+ডেলিভারি ডেট এগিয়ে যায় ৭দিন,,(তখনো জানতাম না গ্রোথের উপর ডিপেন্ড করে),,আর যেহেতু ফ্যামিলির সাথে থাকতাম আল্ট্রা মেডিসিন এসব নিয়ে কথা বলতেই থাকতো,,কিন্তু আমি কোনকিছুতে কোন ছাড় দেইনি,,

সত্যি বলতে আমার ৫মাস ই হরমোনাল চেঞ্জ গুলো হয়েছিল যা আমি মেনে নিতে পেরেছিলাম আহামরি বমি বা শরীর খারাপ লাগেনি,,গন্ধ টাই একটু কষ্টদায়ক ছিল,,

মাঝে একবার নিজের বাসায় গিয়েছিলাম কিন্তু এই গন্ধের কারণে চলে আসি আবার,,

আমি মন থেকে চাইতাম আমার একটা ছেলে বাবু হবে,,নাম হবে-আহমাদ,,

১৬ সপ্তাহেই নরমাল ইউ এসজিতে ডক্টর বলে দেন বেবি বয়,,রুম থেকে বেড়িয়েই আমি দাদুকে জরিয়ে ধরি খুশিতে🥰

২১ সপ্তাহেও বেস্ট হসপিটালে এনোম্যালি করাই,,সনোলোজিস্ট ছিল খুব ফ্রেন্ডলি,,আমাকে এ টু জেড দেখাচ্ছিল,,বাবুর নখ গুলোও,,তখন বাচ্চাটা ব্রিচ পজিশন এ ছিল আর এত এত বেশি নড়ছিল,,সবাই হাসাহাসি করতেছিলাম,,ফেস শট ও নিতে পারে নি ওও হাসতেছিলো,,তখনো ম্যাম বলেন তোমার ছেলে হবে,,

আমি শুরু থেকেই চাইতাম নরমাল ডেলিভারি কিন্তু বাসা থেকে সাপোর্ট পেতাম না যেহেতু সিস্ট ছিল,,

ডক্টর ও নরমাল ফ্রেন্ডলি ছিল না,,আমি শুরু থেকেই সব মেডিসিন নিতাম,,কুসংস্কার অনেক শুনেছি বেবি বড় হয়ে যাবে হ্যান ত্যান কিন্তু রিজিকের মালিক আল্লাহ,,

আর আমি বাবু পেটে নিয়ে অনেক জার্নি করেছি,,মন চাইলেই এদিক ওদিক চলে যেতাম খুব এক্টিভ থাকতাম,,রেস্টের টাইম বাদে বাকি টাইম টুক হাটাহাটি করতাম,,৩৬সপ্তাহ অব্দিও আমি দাঁড়িয়ে নামাজ পরেছি,,

ফরজের পর ই হেঁটেছি ,,আর ২৭এর পর টুকটাক এক্সারসাইজ শুরু করেছি,,শপিং করেছি,দুধ চা খেয়েছি,পেপে খেয়েছি,ইচ্ছা মত ফাস্ট ফুড খেয়েছি,,মানে ফুল ইঞ্জয় করেছি,,বাবুর সাথে কথা বলেছি,,

আমার এন্টোরিয়র প্লাসেন্টা ছিল তবুও খুব এক্টিভ মুভমেন্ট পেয়েছি,,

এর মাঝেও প্রেগ্ন্যান্সি তো আর সহজ জিনিস না🙂 নির্ঘুম রাত ও গিয়েছে,,মানসিক শারীরিক কষ্ট ও গিয়েছে,,

দুইবার এক্সাম ও দিয়েছি ৪ ঘন্টা বসে বসে,,

আর ১২ সপ্তাহ থেকেই আমার এসপিডি,রাউন্ড লিগামেন্ট,পেলভিক গার্ডল পেইন ছিল,,নাপা এক্সটেন্ড ছাড়া চলতো না,,

১২ সপ্তাহে আমার থাইরয়েড ও জিরোতে চলে আসে তবুও আমি মেডিসিন কন্টিনিউ করেছি,,

আমি প্রিন্যাটাল কোর্স করিনি তবে সকল জ্ঞান নিজে নিজে খুঁটে খুঁটে আহরণ করেছি মৌমাছির মতন,,করিনি বলতে সুযোগ হয়নি,,

এবার ৩২ সপ্তাহে হঠাৎ দুপুর বেলা আমার ফলস কন্সট্রাকশন শুরু হয়,,আমি যদিও বুঝতে পারছিলাম এটা ফলস পেইন কিন্তু বাসার মানুষ ঘাবড়ে যায়,,আর ব্যাথাও ছিল মারাত্মক,,যার হয়েছে সেই বুঝবেন,,

৪ ঘন্টা কন্সট্রাকশন নিয়ে ইমার্জেন্সি তে ছিলাম,,,

তারপর গাইনীর কাছে গেলাম উনি তেমন একটা তোয়াক্কা করলো না তাই এবার ডিসিশন নিলাম হসপিটাল+ডক্টর চেঞ্জ করার,,যাকে দেখাতে চেয়েছি উনিও তখন হস্পিটালাইড তারপর উনার রিপ্লেসে আসা ডক্টর কে দেখালাম,,

ফলস পেইন কেটে যায় ঠিক ই কিন্তু এস পিডি ,লিগামেন্ট পেইন পিছু ছাড়লো না

এসব নিয়েই আবার রেগুলার লাইফ লিড করলাম,,এর পরেও কয়েকবার আমার কন্সট্রাকশন হয়েছে কিন্তু কাউকে বলিনি কারণ ঘাবড়ে যেতো,,আমি মেডিসিন নিতাম কমে যেতো ,,

৩৬ এ গিয়ে ৪ দিন হয়ে গেলো তবুও লিগামেন্ট পেইন কমছিল না,,বাসা থেকে আবারও সিজারের জন্য প্যারা দিল,,তারা ভাবতো এটা আমার সিস্টের জন্য,,

কিন্তু আমি তাদের অনেক বলেও বুঝাতে পারতাম না,,

৩৬ এর পর আমার হাটাচলা টাফ হয়ে গিয়েছিল কারণ বাবুর ওয়েট বেশি ছিল,,আমার হাত পায়ে মোটেও পানি আসছিল না কিন্তু পেট ছিল বিশাল,,পানির পরিমাণ ও ঠিকঠাক থাকতো,,আমি রেগুলার ৪ লিটার পানি ইন্টেক করতাম,,

ততদিনে বাবুও সেফালিকে এসে গিয়েছে

এবার লিগামেন্ট পেইন সহ্য না করতে পেরে হস্পিটালে গেলাম ডক্টর ভলিজেল দিলেন আর নাপা এক্সটেন্ড ২ বেলা খাওয়া শুরু করলাম,,আসলে মেডিসিন থাকতে কষ্ট করা উচিত না এতে আরও মায়ের কষ্ট+পেটের বাচ্চার,,

আমি মেডিসিন নিয়ে ফেলতাম,,এক্সারসাইজ শুরু করে ফেললাম আর ডেইলি হাঁটা,,

এর মাঝে সিজারের একটা প্যারা ছিল,,রিপ্লেসের যে ডক্টর ছিলেন উনি আমাকে নরমালের সাপোর্ট দিলেও যখন গাইনী হসপিটাল থেকে ব্যাক করে তখন উনার কাছে যাই,,উনি বলেন বেবি বড়,হেড সাইজ বড় তুমি কি চাও,,আমি বললাম টাইম নিব উনি বিরক্ত হয়ে বললেন তাহলে ওয়েট করো,,বাসায় চলে আসলাম,,ওহ ততদিনে কিন্তু আমি ভালো ভাবে হাটতে পারি না,,লিগামেন্ট ব্যাথায়,,কুচকিতে টান ধরে ছিল,,সেই নিয়েই আমি এক্টিভ থেকেছি,,আসল কষ্ট শুরু হলো,,বসে নামাজ পরতাম,,কত সময় উঠতে পারতাম না আব্বু আম্মু কেউ টেনে তুলতো,,বেডে একজন উঠিয়ে দিত একদম নামাতো,,এদিক থেকে ওদিক হতে পারতাম না,,নির্ঘুম রাত,,

এর মাঝেই ৩৭ থেকে মাইলস সারকিট শুরু করলাম,সোমো স্কোয়াট ইত্যাদি ইত্যাদি

বললে শেষ হবেনা,,

যেহেতু বাসার কেউ ই নরমাল সাপোর্টিভ ছিল না তাই আমার লুকিয়েই সব করতে হতো,,বার্থ বল ও ইউজ করতে পারতাম না,,

আমার ফলস এর কন্সেন্ট্রেশন +পেইন ২৫দিন ছিল,,এর মাঝে হালকা হালকা হোয়াইট ডিস্টার্জ গিয়েছে,,পা গরিয়ে গিয়েছে সেটাও কাউকে জানাইনি,,

৩৭ এর শেষে গিয়ে চিন্তা বেরে গেলো ,,অসম্ভব ব্যাথা বেদনা,,পা ই ফেলতে পারতাম না,,দিন ফুরাতো না,,নরমালের ডিসিশন নেয়া এত সহজ ছিল না আমার জন্য কারণ এখনো অনেক সময় বাকি ছিল,,

আর বাবুর ওজন ততদিনে ৩২০০+,,আর এর জন্য ডেট ও প্রায় ১ মাস এগিয়ে আসে,,

এর মাঝে একদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও যাই পিভি চেক দিতে,,উনারা বলে হেড এঙগেজড তো হয় ই নেই,,

কিন্তু আমি জানতাম এটা লেবারের ঠিক আগ মুহুর্তে ও পসিবল,,

বাসায় চলে আসি,,

তারপর আমার মিউকাস প্লাগ যায়

ভেবেছিলাম সেদিন আমার ডেলিভারি হবে😑 বাট সেদিন ও ফলস কন্সট্রাকশন,,বাসায় চাপ শুরু হলো,,আশে পাশের সবাই ও তাগাদা শুরু দিলো,,

আমি মানসিক ভাবে ভেঙে পরছিলাম কারো কোনো সাপোর্ট পাচ্ছিনা,,

একদিকে ব্যাথা আরেকদিকে ভয় যে সিজারে নিয়ে ফেলবে,,

তারপর একদিন জোরে জোরে হেটেছি আর কেদেছি,,

বাবুর জন্য সব শপিং আমি করে ফেলেছিলাম আগেই,,

ভোর বেলায় পিরিয়ডের মতন ব্যাথা হচ্ছিল আমি তোয়াক্কা দেইনি কারণ ব্যাথা তো ২৫দিন যাবত হচ্ছিলোই,,

সকালে টিস্যুতে শো দেখি,,

কন্সট্রাকশন ট্র‍্যাকারেও বলে ৫+১+১ রিদম হসপিটালে যেতে,,

সবাই জাস্ট আমার ধৈর্য আর সাহস দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছিলো,,আমি ব্যাগ বের করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে হিজাব পরে রেডি🤣🤣

সেদিন ছিল ৩৮ সপ্তাহ ৪দিন,,

আমার খুশি লাগতেছিল কারণ যারা বলছিল এখনকার দিনে ব্যাথা উঠে না! নরমাল হয়না তাদের দেখাচ্ছি যে দেখো ব্যাথা উঠেই 🤣🤣 যদিও আমি একদম প্রাইমারি লেভেলে ছিলাম কিন্তু সবার কাছে ৩৮ সপ্তাহ মানে ১০ মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে বাচ্চা দাঁত নিয়ে আসবে🤣🤣

কিন্তু এত সচেতন আর এক্টিভ থেকেও একটা ভুল করি সেটা হলো ফেসবুক দেখে এক ফালতু হস্পিটালে যাই ডেলিভারির জন্য,,আমার সনোজোলিস্ট আমাকে আগেই না করেছিল তবুও যে কেন গিয়েছিলাম,,উনারা তাদের রোগী ছাড়া ডেলিভারি করান না কিন্তু ফেসবুকে রিলসে কত নাটক😑 একদিকে ব্যাথা আরেক দিকে এই দৌঁড় ঝাপ,,আর মেইন কথা আমার ডক্টর নরমাল ফ্রেন্ডলি ছিল না তাই সাহস পাইনি,

তারপর হসপিটালেই চলে গেলাম,,ইমার্জেন্সীতে ভর্তি হলাম পিভি চেক করে বললো ১.৫ সিমি ওওপেন্ড,,প্রগ্রেস কম+চান্স ও কম,,

আবার শুরু হয়ে গেলো যে সিজার করতে হবেই,,আমি বললাম আমি ওয়েট করব,,

মিডওয়াইফ আরো যখন বললো এটা "শো" তখন আমার আরো আশা কাজ করলো,,

আমি ননস্টপ হাঁটাহাঁটি করেছি,,ওয়াশরুমে যাওয়ার পর আমার ওয়াটার ব্রেক হয়,,আমি এখন সিউর হয়ে সবকিছু এক্টিভ্লি নিলাম,,সনোলোজিস্ট আসলো আল্ট্রা করলাম সিঙ্গেল কর্ড ছিল(এটা ৮মাস থেকেই ছিল)

হেড সাইজ বড়,হেড এংগেইজ হয়নি কিন্তু সনোলোজিস্ট আমাকে আশা দিল যে ধৈর্য রাখো,,আমি কেবিন নিলাম,,সেখানেও এক্সারসাইজ শুরু করলাম এর মাঝে একবার লেবার রুমে নিল ফিরিয়ে আনলো,,আমাকে হসপিটাল ও প্রেসার দিচ্ছিলো,,

এর মাঝে পিভি চেক করতে কেউ আসছে না আমি নিজে চেক দিয়েছি,,

কন্সট্রাকশন এর সময় এত পরিমাণ যন্ত্রণা 😑

এর মাঝে ফ্যামিলি মেম্বারকে ইমার্জেন্সি রুমে ডাকে,,

তাদের দুর্ভাগ্য বশত আমিও যাই সাথে,,উনারা খুব বুঝানোর চেষ্টা করলো রিস্ক আছে সিজারে ভর্তি করতেছি উনার ডক্টর সিজারে ভর্তি হতে বলে দিয়েছে ৪:৩০টায় সিজার ফাইনাল,,তখন ১ টা বাজে,,আমি বললাম আমি দেখতে থাকি ম্যাম আসলে সিজারে চলে যাব,,এর মাঝে পিভি চেক করে মিডওয়াফ কানে কানে বললেন ৩ সেমি ওপেন্ড ওয়েট করেন,,

আমার হাতে আরো ৪ ঘন্টা সময়,,আমি আকাশের দিকে চেয়ে রইলাম,,আর ২৫দিনের ফলস কন্সট্রাকশন এর কাছে লেবার পেইন আমার কাছে কিছুই মনে হয়নি সত্যি বলতে,,

যেই সিজারের কথা বলছে তাকেই ঝারি মারছি আর চুপ করে খাটমি মেরে হেঁটেছি কাঁদলে যদি সিজারে নিয়ে যায়🤣🤣

এবার নিয়ে গেলো ৩ টার দিকে লেবার রুমে,,নিজের বন সই নিজে করে লেবার রুমে গেলাম,,

সেখানেও আমাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছিল না কারণ পাশের রুমেই ওটি,,কিছুক্ষণ রেখে ওটিতে নিবে,,কিন্তু আমিতো নাছরবান্দা,,আমার বোন ছিল আমার সাথে ওকে ধরে ডিপ স্কোয়াট শুরু করি,,

বার্থ বল নামিয়ে রোলিং শুরু করি,,

মিডওয়াইফ আসেন,,অলরেডি ৬সেমি ইনক্রিসড,,

আলহামদুলিল্লাহ আমার আনন্দ দেখে কে,,আর আমি তাদের প্রশ্ন করেই যাচ্ছিলাম,,

লাস্ট চেকে মিডওয়াইফ কে জিগালাম উনি বললো আপনি জেনে কি করবেন? আপনি কি জব করেন,,তখন বল্লাম আমি জানতে চাই তখন অব্দি ৯-১০ সেমি ওওপেন্ড,,

এর মাঝে বাইরে থেকে প্রেসার এলো আমি সিজারের রোগী কিন্তু মিডওয়াইফ জানিয়ে দিলেন হেড এঙগেজড হয়ে গেছে

নাথিং টু ডু,,

তারপর এল পুশিং স্টেজ,,আল্টিমেটলি মা চাচিদের পুশিং মেথডেই পা বাড়ালাম কারণ ডক্টর চলে আসবে এই ভয়,,সিজারের সব মেডিসিন রেডি,,

আমি নিজেই বলছিলাম এপিসিওটমির কথা তাই করেছে,,

লাস্ট মোমেন্টে নার্স বললেন আপনার কিন্তু রিস্ক আছে বেবি আটকে গেছে+কর্ড পেচানো আপনি নো রিস্ক পেপারে সাইন করবেন! আমি বলছি আনেন সমস্যা নাই কিছুই হবে না,,আলহামদুলিল্লাহ,,পেপার আনতে আনতেই দেখে বাবু হয়ে গেছে,,আমি কি খুশি কি আনন্দ🥰🥰🥰 শুধু হাসতেছিলাম,,যত যত দুয়া শিখেছিলাম সব করতেছিলাক ওকে বুকে নিয়ে,,

তারপর শুরু হলো এপিসিওটমির কাজকর্ম,,ভাই লোকাল এনেস্থিসিয়া কোন কাজের না ব্যাথা লাগবেই🥲 তবুও হ্যাপি যে আমি সাক্সেস,,

বাবু ছিল ৩৪০০গ্রাম,,

সম্পূর্ন হেলদি একটা গুলুমুলু বেবি,,ডক্টর এসে দেখেন আমার বেবি হয়ে গেছে,,যদিও মিডওয়াইফ ও সার্টিফাইড,,ম্যাম ও আমাকে সাপোর্ট করেছে,,

বের হলাম সবাই বাহবা সাহস আর ধৈর্যের,, এগুলো আসলে সারসংক্ষেপ ,,এতটাও সহজ ছিল না,,

অবশেষে ১৫ ঘন্টার লেবার শেষ হয়,,

আমি একদিন থেকে চলে আসি,,

বাবুর ল্যাচিং+ফিডিং ,কেয়ার সেই প্রথম দিন থেকে এখন অব্দি একাই করছি,,বেবিকে পালতেও অনেক রেস্ট্রিকশন ছিল কিন্তু নিজের জ্ঞান কেই আমি প্রাধান্য দেই যার কারণে আলহামদুলিল্লাহ ২মাসে তার কোন ঠান্ডা বা গ্যাস ও হয়নি,,

আলমেটলি দুয়া,ধৈর্য আর প্রপার নলেজ থাকলে নরমাল ডেলিভারি ইজি,,আফটার ডেলিভারি প্রপার যত্ন নিয়ে আমার এপিসিওটমি ১৪ দিনেই স্বাভাবিক হয়ে গেছে,,

আমি সিজারকে ছোট করছি না কিন্তু চান্স নেয়ার সুযোগ থাকলে অবশ্যই ওয়েট করবেন,,সিস্ট,থাইরয়েড নিয়েও আমি সাক্সেস,,আল্লাহ সহজ করেছেন,,

আর এই গ্রুপের আপুরা ছিলেন আমার জন্য ব্লেসিং,,

আমার ফ্যামিলি,হাসবেন্ডের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ,,

নতুন দিন যাচ্ছে নতুন শিখছি,,কিন্তু প্যানিক হচ্ছি না,,

আদি যুগের বাচ্চার মতই বাচ্চা পালতেছি শুধু একটু আধুনিক টোটকায়,,

নরমাল বা সিজার দুটো ই কঠিন,,দুইজন ই মা হয়,,❤️❤️

সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬