১২৬ কেজি ওজন নিয়ে আমার ভিব্যাক (VBAC) করার গল্প

লিখেছেন SH Tamima

আমার স্টোরিটা তাদের জন্য যারা ওভার ওয়েটের কারনে নর্মাল বা ভিব্যাক করার সাহস পান না।

প্রথমেই বলে রাখি, আমার বয়স এখন ২৭।

১৪জানুয়ারি ২০২৬ এ আমার ৩য় মেয়ে ভিব্যাকের মাধ্যমে দুনিয়ায় আসে।

বিয়ের পর কোনো ধরনের মেডিসিন বা পিল আমি নেইনি।

শারিরীক ভাবে আমার কোনো রকম অসুস্থতা বা কমপ্লিকেশন ছিল না। ৩টা প্রেগনেন্সিতেও আমার সব রিপোর্ট নর্মাল ছিল। শুধু এই ৩য় প্রেগন্যান্সিতে থার্ড ট্রাইমেস্টারে আমার প্রেগন্যান্সি ডায়াবেটিস ধরা পরে।

আমার একটাই সমস্যা। সেটা হচ্ছে ওভার ওয়েট। যার কারনে আমার সার্ভিক্স ওপেন হতে চায় না। ডেলিভারি টাইম অনেক লং হয় আর অস্বাভাবিক পেইন হজম করতে হয়।

১ম মেয়ের সময় ছিল ১১৩ কেজি। নর্মাল ডেলিভারি।

২য় মেয়ের সময় ১১৬ কেজি। সিজার।

৩য় মেয়ের সময় ১২৬ কেজি। ভিব্যাক। আলহামদুলিল্লাহ!

প্রথম মেয়ের সময় ৩ দিন পেইন হজম করে লাস্টে নর্মাল হয়।

দ্বিতীয় মেয়ের সময় হুট করে পানি ভেঙে যায়। বাবু শুকনায় পরে যায়। পটি করে দেয়। ১৫ ঘন্টা ট্রাই করেও নর্মাল না হওয়াতে লাস্টে ইমার্জেন্সি সিজার করতে হয়।

তৃতীয় মেয়ের সময় ভিব্যাকে আমার কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর ছিলঃ

*ওজন অনেক বেশি। যেটা নর্মাল হোক বা সিজার উভয় ক্ষেত্রে রিস্কি।

*সিজারের গ্যাপ কম। মাত্র ২১ মাস। অথচ মিনিমাম ২ বছর গ্যাপ থাকা দরকার ছিল।

* থার্ড ট্রাইমেস্টারে প্রেগন্যান্সি ডায়বেটিস ধরা পরে। যেটা ভিব্যাকের রিস্ক আরো বাড়িয়ে দেয়।

* বাচ্চার ওজন বেশি। আমার জন্য আইডিয়াল ওয়েট ছিল আড়াই থেকে সর্বোচ্চ ৩ কেজি। কিন্তু আমার মেয়ের ওজন ছিল সাড়ে ৩ কেজি।

এছাড়া আমার সময়ের আগে পানি ভাঙার কেইস তো আছেই। এত এত কমপ্লিকেশন এর মাঝে আমার পজেটিভ সাইট ছিল মাত্র দুটাঃ

*আগে একবার নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।

* স্কার থিকনেস ভালো। সিজারের সেলাইয়ের জায়গায় কোনো ব্যথা ছিল না।

আমার আগে যেহেতু একবার নর্মাল হয়েছে তার মানে আমার বডি নর্মালের জন্য উপযোগী। শুধুমাত্র এই একটা ক্ষীণ ভরসায় সংযুক্তা সাহা ম্যাডাম আমাকে শুরু থেকে ভরসা দিয়ে এসেছেন আমার নর্মালেই হবে।

উনার ব্যাপারে মিক্স রিভিউ আছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমি যথেষ্ট ভালো ট্রিটমেন্ট পেয়েছি। আমার মনে হয় না দেশে আর কেউ আমাকে নিয়ে ভিব্যাকের রিস্ক নেবার সাহস করতেন। প্রতিবার ভিজিটের সময় আমি শুধু উনাকে এটাই বার বার জিজ্ঞাসা করতাম যে " ম্যাম! আমার আসলেই নর্মাল হবে তো?"

প্রতিবারই উনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলতেন "তোমার জন্যে তো সিজারও অনেক রিস্কি। বরং নর্মালের চান্স ৯৫%।"

এভাবে উনি প্রতিবার আমাকে সাহস যুগিয়েছেন।

এছাড়া আমি শুরু থেকেই ডিটারমাইন্ড ছিলাম যে, যেভাবেই হোক আমাকে নর্মালেই করতে হবে। কারন সিজার নর্মাল দুটারই অভিজ্ঞতা থাকায় আমি ভাল করেই আমার সহন ক্ষমতা সম্পর্কে জানি। সিজারের চেয়ে নর্মাল অনেক বেটার।

এবার ডিটেইলস এ বলিঃ

আমার ডেলিভারি ডেট ছিল ২৮ জানুয়ারি। অথচ ম্যাম আমাকে ১২ তারিখেই এডমিট হয়ে যেতে বললেন।

ডেটের আগেই তারা পেইন উঠিয়ে ভিব্যাক করান।

প্রথমে এই ব্যাপারটা নিয়ে ভয়ে ছিলাম। মাত্র ৩৮ সাপ্তাহে আমার কোনো পেইন টেইন কিছু নাই। এই সময়ে এত জলদি কেমনে পেইন উঠিয়ে নর্মালে হবে?!

পরে ১৩ তারিখ আল্লাহ ভরসা করে এডমিট হয়ে গেলাম।

দুপুর ২টায় প্রথমে আমাকে বেলুন ক্যাথেটার পরানো হয়।

ওটায় কি যে অসহ্য এক ব্যথা! মনে হচ্ছিল জরায়ূটা টেনে কেউ নামিয়ে ফেলতেছে।

কিছুক্ষন হাটাহাটি করার পর ক্যানোলা পরানো হয়। কি কি জানি মেডিসিন পুশ করে। এতে ব্যথা বাড়া শুরু হয়। ব্যথা বাড়তে থাকলে ওরা পিভি চেক করতে গিয়ে ক্যাথেটার খুলে ফেলে। কিছুক্ষন পর আবারো আরেকটা বেলুন ক্যাথেটার পরিয়ে দেয়।

অনেকক্ষন ব্যথা নিয়ে হাটাহাটি করার পর বেলুন অটো খুলে যায়। ব্যথা একদম গায়েব হয়ে যায়। এরপর আমাকে এক ঘন্টা কোনো কিছুই করেনি। আমি এই সময়টা ঘুমিয়ে এনার্জি বাড়িয়ে নেই।

ঘুম থেকে উঠার পর সন্ধ্যায় আনুমানিক ৫টায় ওরা আমার ওয়াটার ব্রেক করে দেয়। সাথে সাথে আবারো ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। তখন সার্ভিক্স ৩ সে.মি. মাত্র ওপেন হয়েছে।

আমাকে পেইনলেস ডেলিভারির সার্ভিস নিব কি না জিজ্ঞাসা করে। আমি সম্মতি জানালে কিছুক্ষন পর একজন ডাক্তার এসে এনেস্থেসিয়ার মতো কি জানি একটা ইঞ্জেক্ট করে আমার মেরুদণ্ড ও কোমরের হাড়ে। কোমরে চিকন ক্যানোলার মতো কিছু একটা পরিয়ে রাখে। ইঞ্জেক্ট করার সময় ওটার ব্যথায় আমি অঝোরে কাঁদতে থাকি। প্রচুর ঘামতে থাকি।

পেইনলেস মানে অনেকে ভাবে কোনো ব্যথাই বুঝি হবে না। আসলে তা না। নর্মালে লেবার পেইন তো অবশ্যই হজম করা লাগবে। তবে পেইনলেসে এপিডুরাল নেওয়ার মাধ্যমে ব্যথার মাত্রাটা কমিয়ে ফেলা হয়। সহনীয় মাত্রায় আনা হয়।

আমার সাথে ওইদিন আরো ৮জন ভর্তি হয়। ওখানে আরো ভিব্যাকের পেশেন্টও ছিল। কিন্তু আমি ছাড়া আর কাউকে পেইনলেসের সার্ভিসটা নিতে দেখিনি। এর মাঝে ২ জন বাদে বাকি সবার নর্মালেই হয়।

আমি ছাড়া বাকিরা ওইদিন ভোরের মধ্যে খালাস হয়ে যায়। অথচ আমার আরো একদিন সময় লেগে যায়। কারন বার বার পেইন কমাতে এপিডুরাল নেয়ায় আমার সার্ভিক্স ওপেন হতে আরো লেইট হয়ে যাচ্ছিল।

তবে আমার জন্য এই পেইনলেস সার্ভিসটা ছিল ব্লেসিং। কারন লেবার পেইনে কোমরে যে অস্বাভাবিক ব্যথা শুরু হয় ওটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না।

পেইনলেস নেয়ায় কোমর ব্যথাটা অনেকটা চলে যেত কিন্তু ভেতর থেকে পুশের ব্যথাটা থাকতো। তো যখনই চাপ অনুভব হতো আমি পুশ করতাম ও বঙ্গাসন করতাম।

যেটা কোমর ব্যথা সহ করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।

হয়ত তখন জলদি ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিতাম।

তো সন্ধ্যায় পানি ভেঙে দেবার পর হাটাহাটি করতে থাকলাম। ১৫/২০ মিনিট পর পর চাপ অনুভব হতো। এভাবে অনেকক্ষন হাটাহাটির পর রাত ১১টায় পিভি চেক করে বলে সাড়ে ৩ সেন্টিমিটার। এরপর এপিডুরাল দিলে ব্যথা বন্ধ হয়ে যায় প্রায় আধা ঘন্টার মতো। হালকা হালকা ব্যথা করছিল শুধু।

আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যাই। এভাবে ঘুমের মধ্যেই ব্যথায় কাতরাতে থাকি। আধা ঘন্টা পর ব্যথার মাত্রা বাড়লে ওরা আরো আধা ঘন্টা অপেক্ষা করিয়ে এপিডুরাল দিত। এই আধা ঘন্টা তখন ব্যথা হজম করতাম। এরপর এপিডুরাল দিলে আবারো আধা ঘন্টার জন্য ঘুমাতাম।

এভাবে রাত ৩টায় উঠে আবারো হাটাহাটি শুরু করি। পুশ করি, স্কোয়াট করি, হিপ রোটেশন ও বঙ্গাসন ইত্যাদি করতে থাকি। ব্যথা বাড়তে থাকে।

ব্যথা এরপর ১/২ মিনিট পর পর আসতে থাকে।

ওরা পিভি চেক করে দেখে মাত্র ৪সে.মি।

এতক্ষন হাটাহাটির পর মাত্র ৪সে.মি. দেখে হতাশাই লাগতেসিলো।

অথচ আমার সাথে আরো দুজন হাটাহাটি করছিলো। তারা রাতে এডমিট হয়েছিল। তাদের ৫টার মধ্যেই ডেলিভারি হয়ে যায়।

সবাই ভেবেছিল ওদের আগেই আমার হয়ে যাবে। অন্তত ওদের পর পরই হবে। বাট সবার ডিউটি শেষ হয়ে যায় অথচ আমার কোনো বাচ্চা নামার কোনো নাম গন্ধ নাই।

এরপর সারারাত হাটাহাটির পরেও ফজরের সময় চেক করে দেখে এখনো ৪সে.মি.। 💔

এরপর আবারো এপিডুরাল দিলে আমি ঘুমিয়ে যাই। কিন্তু এখন ১৫ মিনিট পর পরই ব্যথা আসছিল। তবে সার্ভিক্স ওপেন হয় না দেখে ওরা এপিডুরালের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

আধা ঘন্টা পর পরেই এপিডুরাল দিতে থাকে।

এভাবে ফজর পার হয়ে সকাল ৭টা। ক্লান্তিতে আমার মাথা ঘুরাচ্ছিল। পায়ে কোনো শক্তি পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমাকে হাটতে হবে। দুজন ধরে ধরে আমাকে হাটাচ্ছিল। ব্যথায় চিৎকার করছিলাম।

ডিউটি ডাক্তার এসে বকা দিতে থাকেন। এত ব্যথা দেখে চেক করে দেখেন সেই আগের মতই ৪সে.মি.।

এরপর সংযুক্তা ম্যাম এসে চেক করেন। উনাকে পরে ডিউটি ডাক্তার বলেন বার বার এপিডুরাল নেয়ায় আমার প্রোগ্রেস হচ্ছে না। এদিকে আমি অল্পতেই নাকি চিৎকার করছি।

ম্যাম তখন এপিডুরাল সহই উনাকে আগাতে বলেন। কারন এছাড়া আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। তবে এখন শুয়ে থেকেই পেইন ম্যানেজ করতে বলেন। বার বার হাটাহাটিতে পানি কমে যাচ্ছিল।

এভাবে আবারো লম্বা সময় চলে। এরপর আমাকে সেলাইন দেয়। এদিকে লাগাতার ডাবের পানি খেয়ে যাচ্ছিলাম। স্যুপ খাচ্ছিলাম। সেলাইনটা দেবার পর শরীরে আমার একটু এনার্জি পাই।

শুয়ে অনেকক্ষন পেইন ম্যানেজ করার পর পিভি চেক দিয়ে দেখে যেই লাউ সেই কদুই। এখনো ৪ সে.মি. এর চেয়ে বাড়েনি। অথচ দুপুর হয়ে গেল। একদিন পার হয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

এদিকে ওরা সার্বক্ষণিক বাচ্চার হার্টবিট অবজারভেশনে রাখছিলো।

লাস্টে ওরা সিদ্ধান্ত নেয় আমাকে আর এপিডুরাল দিবে না। ওভার ডোজ হয়ে গেছে। এখন রেগুলার পেইন ম্যানেজ করেই নর্মাল ডেলিভারি করতে হবে। নতুবা সিজারে যেতে হবে। এই মুহুর্তে এসে কেউ আর আমাকে আশা দেখাতে পারছিল না। এদিকে আমিও এত লম্বা সময় পেইন খেয়ে খেয়ে একেবারে ক্লান্ত।

এরপর বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয় আবার হাটাহাটি। এপিডুরাল ছাড়া চরম মাত্রার ব্যথা। আমি চিৎকার করে পুরা হাসপাতাল গরম করে ফেলতেসিলাম। এইবার বুঝি আর বাঁচবো না। কোমর একদম ভেঙে যাচ্ছে।

একঘন্টা এটা সহ্য করার পর লাস্টে চিল্লায়ে বললাম আমাকে এপিডুরাল দেন নাইলে আমি বাঁচবো না।

পরে বাধ্য হয়ে ওরা ৫টায় আমাকে এপিডুরাল দেয়।

তখন পিভি চেক দিয়ে দেখে সাড়ে ৪ সে.মি.। মানে কিছুটা ওপেন প্রোগ্রেস হচ্ছে।

আবারো শুরু হয় হাটাহাটি ও নানান ব্যয়াম। ননস্টপ ব্যথা আসতেই থাকে। মনে হচ্ছিল মালাকুল মাউত এসে পড়েছে।

ওই সময়েও আমি বার বার বলতেসিলাম আমাকে মেরে ফেলেন তাও আমি সিজারে যাব না। এদ্দুর যখন আসছি তাইলে নরমাল না হলে এখন আমার আধা মরা হয়ে বাঁচারও দরকার নাই। সিজারের পেইন নেবার ক্ষমতা আমার এখন আর নাই।

এরপর ২ ঘন্টা মানে ৭টা পর্যন্ত এপিডুরাল ছাড়া পাগলের মতন টানা পেইন খেতে থাকি। ৭টায় চেক দিয়ে বলে ৫সে.মি.। এই অস্বাভাবিক পেইনেও মাত্র ৫!

আমার এখন আসলেই বাঁচার ইচ্ছা নাই।

আমার করুণ অবস্থা দেখে ৭টায় ওরা আবার এপিডুরাল দেয়। কিন্তু এখন এপিডুরালেও কাজ হচ্ছে না। কোমর ব্যথা শুধু সামান্য কমছে। আমাকে বার বার সবাই পুশ করতে বলছে।

দাঁড়িয়ে পুশ করার শক্তি আমার ছিল না। আমার প্রথম ডেলিভারির এক্সপেরিয়েন্স অনুযায়ী এবার চিত হয়ে শুয়ে থুতনি বুকে লাগিয়ে পা কিছুটা বঙ্গাসনের মতো করে ধরে পুশ করতে থাকি। কোমর ব্যথা কমে যাওয়ায় এবার পুরো শক্তি দিয়ে পুশ করতে থাকি।

এভাবে ২০ মিনিট পর আমার বাথরুমের চাপের মতো অনুভব হলে ওদের সাথে সাথে জানাই। কিন্তু মাত্রই তো ৫ সে.মি. ওরা চেক দিয়েছে। তাই ভেবেছে আরো সময় লাগবে।

কিন্তু এর ৫ মিনিট পরেই সাথে সাথে বাবুর মাথা চলে আসে। ম্যাম আর ডিউটি ডাক্তার দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন। সবাই তাড়াহুড়ো করতে থাকে। আমাকে পুশ বন্ধ করে আরেক বেডে শিফট হতে বলে। কিন্তু এই সময়ে ওই শক্তি কই! তাও লাস্টে নিজের সব শক্তি এক করে শিফট হই।

তাড়াহুড়ো করে আমাকে লেবার রুমে নিয়ে যায়।

এরপর আবারো লেবার রুমের বেডে এই অবস্থায় নিজে নিজে উঠতে হয়। এই সময় পুশ ধরে রাখা অনেক কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল।

আমার মনে হচ্ছিল টিয়ার হয়ে যাবে। তাই সাথে সাথে ম্যামকে বলি আমার এপিসিওটমি করবেন প্লিজ। টিয়ার যেন না হয়।

সাথে সাথে ম্যাম অবশ করা ছাড়াই সাইড কেটে ফেলেন।! পর প্রতিটা স্টিচ আমি অনুভব করছিলাম। সম্ভবত অবশ এর মেডিসিন কাজ করেনি আমার উপর। পরে আরো হাইডোজ দিয়ে অবশ করান। কিন্তু এতক্ষন যে ব্যথাটা সহ্য করতে হয়েছে সেটা আল্লাহ আমার শত্রুকেও না দিক।

আমি অন্যান্যদের সাথে কথা বলে যতটুক বুঝলাম ওখানে মেইবি টিয়ারটাই বেশি হয়। কারন অনেকেরই শুনলাম সেলাই লাগেনি। টিয়ার হয়েছে। টিয়ারের চেয়ে এপিসিওটমি অনেক বেটার। আমার প্রথম ডেলিভারির এক্সপেরিয়েন্স অনুযায়ী বলা।

তবে ম্যামের মেডিসিন বেশ ভাল। আমার হিলিং প্রসেস জলদি হচ্ছে। ডেলিভারির পরের দিন থেকেই আমি হেঁটে বাসায় আসলাম। কোনো দূর্বলতা নেই। সব কাজ করতে পারছি।

এভাবে ১২৬ কেজি ওজনের পেশেন্টকে ওরা সাকসেসফুলি ভিব্যাক করাতে পেরে টিমের সবাই অনেক খুশি। রুমে ফেরার পর সবার উচ্ছাস দেখে আমি টের পাচ্ছিলাম।

আমার এই টানা ৩০ ঘন্টার জার্নিতে ম্যামের পুরা টিমের যে চেষ্টা দেখেছি তাতে আমার অবশ্যই এই কথা বলতে হয়, তারা সবাই অনেক ডেডিকেটেড। লাস্ট পর্যন্ত আপনার জন্য চেষ্টা করবে। ইভেন অন্যান্য পেশেন্টরা আমাকে নিয়ে হাসছিল "এত ওজন নিয়ে চলে আসছে নর্মাল করাতে"। কিন্তু ম্যাম ও উনার টিম একবারের জন্যেও আমাকে নিরুৎসাহিত করেননি। বার বার বিভিন্নভাবে ট্রাই করেই যাচ্ছিলেন।

আমার সামনেই আরো কয়েক জায়গার পেশেন্ট এসেছে যাদের অন্য হসপিটালে সিজার করতে হবে বলেছে। অথচ এখানে এসে মাত্র ৫/৬ ঘন্টায় নর্মাল ডেলিভারি হয়ে গেছে।

এখানে এতটুক আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে তারা স্বেচ্ছায় কখনোই সিজার করাবে না। একেবারে লাস্ট স্টেজ না হলে কখনোই সিজার করতে বলবে না। আপনাকে শুধু তাদের উপর ভরসা রাখতে হবে আর নিজে ডেডিকেটেড থাকতে হবে।

যদি এই হসপিটালে আপনাকে সিজার করতে হবে বলে দেয়, তার মানে আর কোনো ডাক্তারই আপনাকে নর্মাল করাবেন না।

অবশ্য কিছু কিছু বিষয় নিয়ে আমার কমপ্লেইন আছে। কমপ্লেইন বললে ভুল হবে মূলত তাদের ওয়েল বিং এর জন্যই বলা। যেমনঃ

* ম্যামের টিম ডেডিকেটেড হলেও অর্গানাইজড না। এলোমেলো লেগেছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। হয়ত এখনো ট্রেইন্ড হচ্ছে।

* এছাড়া গ্রেস হসপিটালের অনেক কিছুই এখনো ইনকমপ্লিট। এত হাই চার্জ অনুযায়ী সার্ভিস অনেক লো ও স্লো । ক্লিনলিনেস কম। এর চেয়ে অর্ধেক চার্জে আরো বেটার সার্ভিস দেয় বিভিন্ন হসপিটাল।

আমার দুই দিনে টোটাল হসপিটাল বিল ও অপারেশন চার্জ এসেছিল ১লাখ ৩০ হাজার।

মোটকথা এখানে আপনি মূল কাজে ডেডিকেশন পাবেন চিকিৎসায় কোনো কমতি রাখবে না। বাট অন্যান্য সার্ভিস ও খরচ আপনাকে কম্প্রোমাইজ করতে হবে। অবশ্য আশা করি ফিউচারে আস্তে আস্তে এসব ঠিক হয়ে যাবে। হসপিটাল নতুন মাত্র চালু হয়েছে।

অবশেষে বলব, মা হবার জার্নিটাই হচ্ছে একটা কঠিন পথ। এখানে আসলে শর্টকাট কোনো ওয়ে নাই। আল্লাহ যার জন্য সহজ করেন তার জন্য সহজ। আর যার জন্য কঠিন করেন তার জন্য পরীক্ষা।

সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ জানুয়ারি ১৮, ২০২৬