বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বাসায় বসে চর্চা করা কোন পদ্ধতি ১০০% নিশ্চয়তাসহ কাজ করে না

হয়তো আপনার প্রসবের তারিখ আর সপ্তাহখানেক বাকি, কিংবা এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই এ সময় বাবা-মা তাদের হবু সন্তানের মুখ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন। ফলে তারা ইন্টারনেট আতিপাতি করে খুঁজেন কিভাবে বাসায় বসেই প্রসব বেদনা তরান্বিত করা যায়। ইন্টারনেটে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েব সাইটের ফোরামও এ ধরনের আলোচনায় পূর্ণ। যেখানে পরামর্শ হিসেবে মসলাযুক্ত খুব ঝাল খাবার থেকে শুরু করে ক্যাস্টর অয়েল খাওয়া পর্যন্ত কি নেই! কিন্তু বাস্তবতা কি বলে- আসলেই কি এসব টিপস কাজ করে? শিশু জন্মদান বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, এসবের পক্ষে ততটা ভাল কোন প্রমান নেই।

‘প্রসব বেদনা তরান্বিত করার জন্য হোম মেইড কোন পদ্ধতি নেই যা শতভাগ নিশ্চয়তাসহ কাজ করে’, এলিজাবেথ স্টেইন নামের একজন আমেরিকান মিডওয়াইফ বলেন। তবে এ ক্ষেত্রে হাসপাতালে দেয়া ঔষধই বেশি কার্যকর ও নিরাপদ। বাদবাকি বেশিরভাগ টেকনিক-ই গুজব এবং কখনো কখনো মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও কয়েকটি টেকনিক বেশ সম্ভাবনাময়।

প্রসববেদনা শুরুর আগে

মানসিক প্রস্তুতি

প্রসব বেদনা অনেক মায়ের ক্ষেত্রেই ভীতি তৈরি করে। যেকোন বিষয়ে মানসিক প্রস্তুতি ,সবকিছুকে সহজ করে। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই এই প্রস্তুতির জন্যে হয় এন্টিনাটাল ক্লাস। মানে প্রসব পূর্ববর্তী ক্লাস, মূলত যার লক্ষ্য থাকে, গর্ভবতীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট রাখা। সম্ভবা মায়েরা সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ ৮-১০ সপ্তাহে এই ক্লাসগুলো করে থাকেন (সূত্রঃ NHS-UK)। এসব ক্লাসে নিচের বিষয়গুলো শেখানো হয়ঃ

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে পাবলিক টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন
মাতৃত্বের বিভিন্ন নোটিফিকেশন পেতে হোয়াটসএপ গ্রুপে যোগ দিন। এই গ্রুপে শুধুমাত্র এডমিন মেসেজ পাঠান।
  • গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, এবং করণীয়
  • গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভাস, ওজন নিয়ন্ত্রণের খুঁটিনাটি
  • প্রসবের পূর্ববর্তী, প্রসবের সময়ের বিবরণ
  • প্রসব ব্যথাকে সহজ করে নেওয়ার কৌশল এবং মানসিক প্রস্তুতি

বাংলাদেশে এখনো এধরনের ক্লাস শুরু হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তাই গর্ভবতী মা নিজ উদ্যোগে বা তার স্বামী উক্ত বিষয়গুলোর উপর বই ও ইন্টারনেট থেকে পড়াশুনা করতে পারেন। এই পড়াশুনাই একজন সম্ভাব্য মা’কে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তুলবে।

গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম

সবক্ষেত্রে সব বিশেষজ্ঞই ব্যায়ামের কার্যকারিতা স্বীকার করেন। তার মধ্যে আছে স্কোয়াটিং, কেগেল এক্সারসাইজ, বাটারফ্লাই পোজ, সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা, প্রেগনেন্সি যোগাসন। দীর্ঘ হাঁটাহাঁটিকে গুরুত্ব দিতে পারেন। তবে হার্পার নামের একজন ডাক্তার বলেন, “লম্বা হাটাহাটি ভাল ব্যায়াম, তবে আমি মনে করি না এটা প্রসব বেদনায় কোন সাহায্য করে”। এলিজাবেথ স্টেইন অবশ্য বেশ কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবিষয়ে, “অল্প হাটাহাটি ভালো, তবে ক্লান্তিকর লম্বা হাটাহাটির ভক্ত আমি নই। ক্লান্ত হয়ে প্রসববেদনা আনা মনে হয় ভাল চিন্তা না”।

যাই হোক, আপনার মূল লক্ষ্য হলো সক্রিয় থাকা । হাঁটাহাটি বা ব্যায়ামের মানে এই না যে আপনি বিশ্রাম নিতে পারবেন না। গর্ভাবস্থায় বিশ্রাম খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর ব্যায়াম করতে হবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেই।

প্রচলিত পদ্ধতিসমূহ

আকুপাংচারের সাহায্য প্রসব বেদনা

সম্ভবত আকুপাংচার প্রসব বেদনা তরান্বিত করে, তবে এখনই নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আকুপাংচার হচ্ছে দেহের বিভিন্ন আকু-বিন্দুতে ইনেজকশনের সুচের চেয়েও বড় বিশেষ এক ধরনের পিন ভেদ করিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রেখে চিকিৎসা করা। শত শত বছর ধরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মুহুর্তেই প্রসববেদনা ওঠানোর জন্য এটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা’র একটা ছোট গবেষনায় দেখা গেছে যেসব মহিলা আকুপাংচার চিকিৎসা নেন তাদের ঔষধের সাহায্য ছাড়াই প্রসব বেদনা ওঠার সম্ভাবনা বেশি। ৫৬ জন গর্ভবর্তীর মাঝে চালানো এই গবেষনায় অর্ধেককে ৩টি আকুপাংচার সেশন দেয়া হয়। বাকিদের কোন সেশন দেয়া হয়নি। আকুপাংচার নেয়া ২৮ জন গর্ভবর্তীর ৭০% স্বাভাবিকভাবে প্রসব বেদনার স্টেজে গেছেন যেখানে না নেয়া মহিলাদের মাঝে এই হার ৫০%। গবেষকদের একজন বলেন, ‌’আকুপাংচার দেয়ার ফলে সিজারিয়ান হবার হার ৫০% পর্যন্ত কমে এসেছে, তবে এখনো ততটা নিশ্চয়তাসহ বলা যাচ্ছে না। বরং এ বিষয়ে আরো গবেষণা দরকার’।

সহবাদ কি প্রসব বেদনা আনতে পারে?

এবিষয়ে জানতে আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ুন।

নিচে বর্ণিত পদ্ধতিগুলোতে শিশুজন্মদান বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এর কারণ হলো, হয় এসব পদ্ধতির পক্ষে ততটা শক্ত কোন প্রমাণ নেই, অথবা এগুলোতে ঝুঁকি জড়িত। যাই হোক না কেন, এ ধরনের কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তার বা মিডওয়াইফের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না।

ঝাল খাবার

খুব ঝাঝালো ঝাল খাবার খেয়ে প্রসব বেদনা আনা বেশ জনপ্রিয় ধারণা। তবে এটা জেনে রাখুন জরায়ু ও পাকস্থলির মাঝে সরাসরি কোন যোগসুত্র নেই। তাই এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে কোন বিশেষ খাবার পেটে সংকোচন ( contraction) নিয়ে আসবে। হার্পার জানান এধরনের কোন ঘটনা বা প্রমান তিনি কখনো দেখেন নি।

আনারস

প্রচলিত কথা অনুযায়ী শোনা যায়, আনারস প্রসব ত্বরান্বিত করে। এর ব্যখ্যা হিসেবে বলা হয়, আনারসের ব্রোমেলিন এনজাইমের কথা যা জরায়ুর মাংসপেশীর সংকোচন প্রসারণ বাড়িয়ে দেয়। তবে, পরীক্ষায় দেখা গেছে, আনারসের রস সরাসরি টিস্যুতে প্রয়োগ করলে তেমনটা হলেও হতে পারে,যা বাস্তবে সম্ভবপর নয়। তবে, অতিরিক্ত মাত্রায় আনারস পরিপাক প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে দেয়, যার ফলে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।(সূত্রঃ whattoexpect.com)

বেগুন

আটলান্টার এক রেস্টুরেন্টে বেগুনের একটা পারমিসান ডিশ বিক্রি করা হয়, প্রচলিত আছে যা খেলে দুইদিনের মধ্যে প্রাকৃতিক প্রসব শুরু হয়। তবে এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

খেজুর

গর্ভাবস্থায় খেজুর খুবই উপকারী। জর্ডানের এক হাসপাতালে এক গবেষণা চালানো হয়, ৬৯জন গর্ভবতী নারীর উপর যাদের গর্ভাবস্থায় অন্য কোন জটিলতা ছিলনা। তাদেরকে ৩৬সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ৬টি খেজুর খেতে বলা হয়। গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে যারা প্রতিদিন ৬টি খেজুর খেয়েছেন,তাদের প্রসব দ্রুত ত্বরান্বিত হয়েছে, অন্যদের তুলনায়। যারা খেজুর খেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে ত্বরান্বিত হয়েছে ৯৬% এবং যারা খাননি তাদের মধ্যে হার ৭৯%।

তবে এক্ষেত্রেও কিছু কিন্তু থেকেই যায়। প্রথমত,গবেষণাটি খুবই ছোট পরিসরে করা। দ্বিতীয়ত, খেজুরে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, সেক্ষেত্রে ডায়রিয়া হতে পারে অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে যদি মায়ের আইবিএস(ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল সিন্ড্রোম) থেকে থাকে, তার ফলশ্রুতিতে মা ও সন্তানের জন্যে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও ডায়াবেটিক মায়েদের জন্যে এত বেশি পরিমাণে খেজুর খাওয়া কখনোই উচিৎ নয়। (সূত্রঃ evidencebasedbirth.com)

কলা

কলা সমৃদ্ধ থাকে পটাসিয়াম দ্বারা।পটাসিয়ামের অভাবে মাংসপেশীর সংকোচন প্রসারণ দুর্বল হতে পারে। তাই, গর্ভাবস্থার শেষের দিকে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন অনেক বিশেষজ্ঞ।(সূত্রঃ parenting.firstcry.com)

ক্যাস্টর বা রেড়ীর তেল

ভেন্নার তেলের বহুল প্রচলিত নাম ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ীর তেল। ড. স্টেইন অনেকটা অনিচ্ছুকভাবেই এই তেলের কথা বলেন। ৩৮ সপ্তাহ পর দৈনিক খুব অল্প পরিমানে এই তেল গ্রহণ করা যেতে পারে। ‘রেড়ীর তেল সরাসরি জরায়ুতে কোন প্রভাব ফেলে না, বরং এটা অন্ত্রে উদ্দীপনা যোগায় যা জরায়ুতে প্রভাব ফেলে’। তবে এটা তখনই হয় যখন শরীর প্রসবের জন্য তৈরি হয়।

ড. হার্পার অবশ্য এটা কোনভাবেই সমর্থন করেন না, ‘ক্যাস্টর তেলে বরং মারাত্নক ডায়রিয়া হয় এবং এর ফলে মা’র শরীরে পানির অভাব হতে পারে। তাই আমি এর পক্ষে নেই”।

কোহস

কোহস নামের একধরনের ঔষধি অনেকেই এসময় ব্যবহার করেন যাতে প্রসববেদনা উঠে, যেটা শরীরে ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে। তবে হার্পার এর ব্যবহার নিয়ে বেশ সন্দেহবাদি, “এটা নিয়ে আসলে ততটা স্টাডি আমাদের হাতে নেই”। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার নবজাতকের হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন।(সূত্রঃ parenting.firstcry.com)

সান্ধ্য-প্রিমরোজের তেল

এটা একধরনের আমেরিকান ফুল যা ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বৈজ্ঞানিক নাম Oenothera। ড. হার্পার অবশ্য এর ব্যাপারে বেশ ইতিবাচক। এই তেলে একধরনের উপাদান আছে যা শরীরে প্রোস্টাগ্লানডিনে পরিণত হয় এবং এটা গলদেশ (cervix) কে নরম করে এবং প্রসববেদনা তরান্বিত করে। তবে হার্পার জানান, এটা নিয়েও আরো স্টাডি দরকার।

ওষুধনির্ভর পদ্ধতি

আপনার প্রসবের নির্ধারিত তারিখ যদি পার হয়ে যায় তবে আপনার ডাক্তার বা মিডওয়াইফ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রসব বেদনা তরান্বিত করার পরামর্শ দিতে পারেন। অধিক-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতীর ক্ষেত্রে একেবারে ৪০ সপ্তাহ বা তার আগেই ডাক্তাররা এধরনের পরামর্শ দেন। কম-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতীর জন্য সর্বশেষ কাট-অফ (cut-off) সময় হলো ৪২ সপ্তাহ। এরপর ডাক্তাররা কোনভাবেই গর্ভাবস্থা চালিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন না। হাসপাতালে প্রোস্টাগ্লানডিন পিল দেয়া হয় কিংবা যৌনাদ্বারে প্রয়োগ করা হয়। বেশিরভাগ সময়ই এটা প্রসববেদনা আনার জন্য যথেষ্ট।

এতেও কাজ না হলে পিটকয়েন নামের অক্সিটোসিন হরমোন প্রয়োগ করা হয় যা জরায়ুতে সংকোচন শুরু করে। তবে পিটকয়েন বা অক্সিটোসিন এর ব্যবহারে সতর্কতা আবশ্যক বলে হার্পার জানান।

যা কিছু বর্জনীয়

গর্ভাবস্থা যেমন সহজ করে দেখা হয়,তেমন-ই সহজ হয়।তবে প্রাকৃতিক প্রসব বেদনা আনতে গিয়ে যেন কোন বিপদ ডেকে না আনি সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রসব বেদনা ত্বরান্বিত করার পদ্ধতি সমূহ বর্জন করা দরকার হয়। সতর্কতা হতে পারে নিম্নরুপঃ

  • ব্যায়াম গর্ভাবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ (প্লাসেন্টা প্রেভিয়া, গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ ইত্যাদি)
  • কোন খাবারই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত পথ্যরুপে গ্রহণ উচিত নয়।
  • পেট মালিশ করে প্রসব ত্বরান্বিত করার পদ্ধতিকে কোনভাবেই সমর্থন করা হয়না।
  • অনভিজ্ঞ দাঈ দ্বারা বার বার পিভি(বাচ্চা ও জরায়ুমুখের অবস্থান জানতে পরীক্ষা) করাও বর্জনীয়

অপেক্ষার প্রহর… অবশেষে আপনার কাঙ্ক্ষিত সময় আসে, আপনি অনাগত যে সন্তানের মুখ দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন সে ভূমিষ্ঠ হয় । আপনার প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয়। আসলে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্তের জন্য অপেক্ষা করা সত্যিই কষ্টের। তবে ভাল কিছুর জন্য অপেক্ষা বাঞ্চনীয়। আর এ জন্যই হার্পার পরামর্শ দেন অপ্রয়োজনীয় টেকনিকের পেছনে না দৌড়ে ধৈর্য্য ধরুন। আপনার শক্তি সঞ্চয় করুন।

অন্যভাবে বললে, যতটা পারুন ঘুমিয়ে নিন।

লেখাটি রিভিউ করেছেন –

ডাঃ মাশরুরা মাহজাবিন
MBBS
General Practioner, Trained Mental health counselor

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা