পরিবারে শিশুর আগমনের পূর্বে কিছু জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে থাকে। শিশুর জন্মের তারিখ যতো ঘনিয়ে আসে প্রস্তুতির তোরজোড় ততো বেশি হয়। আমাদের দেশে নানি-দাদিরা ছোট ছোট কাঁথা সেলাই এ বসে যান। মায়েরা টুকটাক শপিং সেরে ফেলেন। আর বাবারা মায়েদের সখ পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যান। ফুফু খালারা মার্কেটে গেলেই খোঁজেন ছোট্ট সোনাটার জন্য কী নেওয়া যায়।
এ সকল প্রস্তুতি গ্রহনের সময় যদি কোন গাইডলাইন পাওয়া যায় তবে মন্দ হয় না। তাই আজ আপনাদের সাথে শিশুর আগমনে প্রস্তুতি গ্রহনের কিছু গাইডলাইন শেয়ার করছি।

জামাকাপড়

ক) নিমা: ৮-১০টা। মার্কেটে সহজেই খুঁজে পাবেন বাচ্চাদের নিমা অথবা আপনি ঘরেও বানিয়ে নিতে পারেন পছন্দমত প্রিন্টের পাতলা ভয়েল কাপড়ে। তবে খেয়াল রাখবেন নিমাগুলো যেন আরামদায়ক হয়। সামনে বোতাম অথবা পেছনে ফিতা দুই ধরনের নিমাই ব্যবহার করতে পারেন।
খ) বাইরে পড়ার জামা: ৩-৪ সেট ০ সাইজের বাইরে পড়ার ফ্রক অথবা ফতুয়া। বেশি জাঁকজমক এবং কারুকাজ করা জামা এড়িয়ে চলুন। এগুলোতে শিশু অস্বস্তি বোধ করে।
গ) রম্পার: ইদানীং রম্পারের চল অনেক বেড়েছে। আলাদা করে প্যান্ট পড়াতে হয়না বলে অনেক সুবিধা হয়। শীত এবং গরমের জন্য আলাদা ডিজাইনের রম্পার মার্কেটে বিক্রি হয়।
ঘ) ন্যাপি: ১২টা। এটিও রেডি মেইড কিনতে পারেন অথবা পছন্দের রঙের কাপড় দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন।
ঙ) বিব: ৬টা। ছোট শিশুদের অনেক সময় লোল পড়ে সে জন্য কিনে নিতে পারেন বিভিন্ন ডিজাইনের বিব।
চ) মোজা: ৩-৪ জোড়া। শীতকালের জন্য বেশি জরুরি। গরমকালে প্রয়োজন হয়না।
ছ) ব্লাংকেট অথবা র‍্যাপার: ২টা। হুড আলা গুলো বেশি চলে, শিশুকে পেচিয়ে নিতে সুবিধাও হয়।
জ) কাঁথা: ১২-১৪টা। ছোট এবং মাঝারি সাইজের।
ঝ) ছোট রুমাল: ৪-৬টা। শিশুর হাত, পা, মুখ মোছার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। অনেকে পাতলা ওড়নার টুকরাও ব্যবহার করে থাকেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন নিয়মিত কাপড়গুলো পরিষ্কার করা হয়।
বছরের কোন সময়টাতে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তার উপর নির্ভর করে জামা কাপড় কিনতে হবে। এবং খেয়াল রাখতে হবে ফেব্রিক যেন আরামদায়ক হয়। শিশুদের জন্য সুতির কাপড় ব্যবহার করাই সবচেয়ে উত্তম।

এ সম্পর্কিত লেখাঃ প্রসবকালীন প্রস্তুতিঃ হাসপাতাল ব্যাগ কেমন হওয়া চাই?

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা

ক) ডায়াপার: বড় ১প্যাকেট। মার্কেটে এখন দেশি এবং বিদেশি ভালো মানের ডায়াপার পাওয়া যায়। পছন্দ অনুযায়ী বড় ১প্যাকেট কিনে ফেলবেন।
খ) তুলা: বাচ্চাদের জন্য ছোট ছোট প্যাকেট এ কটন বলস পাওয়া যায়। শিশুর নাভি, চোখের পাশের ময়লা পরিষ্কার এর জন্য কটন বলস ব্যবহার করা হয়।
গ) সাবান ও শ্যাম্পু অথবা হেড টু টো: শিশুর বয়স উপযোগী ভালো ব্র‍্যান্ডের সাবান শ্যাম্পু আলাদাভাবে কিনে নিতে পারেন অথবা একসাথে হেড টু টো কিনে ফেলুন। কোডোমো এবং মাদার কেয়ার বর্তমানে জনপ্রিয় দুটি ব্র‍্যান্ড।
ঘ) ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিম: নিয়মিত ব্যবহারে র‍্যাশ হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
চ) ওয়েট ওয়াইপস: ভাল মানের ওয়েট ওয়াইপস ব্যবহারে শিশুকে জীবাণুমুক্ত রাখা যায়।
ছ) বাথ টাওয়াল: বাথ টাওয়াল কেনার সময় মনে রাখতে হবে সেটা যেন ভাল ভাবে পানি শুষে নিতে পারে।
জ) নরম চিরুনি ও ব্রাশ: শিশুর জন্মের পর মাথা খুব নরম থাকে একারনে চুল আচড়ানোর জন্য শিশুদের উপযোগী নরম ব্রাশ ও চিরুনি পাওয়া যায়।
ঝ) বেবি কটন বাডস।
ঞ) নখ কাটার সেফটি সিজার অথবা নেইল কাটার।
ট) প্লাস্টিক ব্যাগ : ময়লা ডায়াপার এবং আবর্জনা ফেলার জন্য।
ঠ) বাথ টাব অথবা গোসল করানোর জন্য গামলা।
ড) ঝুড়ি : শিশুর ময়লা কাপড় কাঁথা রাখার জন্য।
ঢ) ক্লিপ হ্যাংগার

শিশুর খাবার

৬ মাস পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট।
ক) ছোট ফিডার
খ) ব্রেস্ট পাম্প মেশিন। শিক্ষার্থী অথবা চাকুরীজীবি মায়েদের জন্য খুবই দরকারি একটি জিনিষ।
গ) ক্লিনিং ব্রাশ
ঘ) বটল ক্লিনার

বিছানাপত্র

ক) ইউরিন ম্যাট
খ) ব্লাংকেট: গরমকাল না শীতকাল সেটার উপর নির্ভর করে কিনতে হবে।
গ) মশারি

দোলনা

অনেকে সখ করে দোলনা কিনে থাকেন। মার্কেটে কাঠ, রড এবং বেতের দোলনা পাওয়া যায়।

বেবি কট

বাচ্চাদের আলাদা শোবার ব্যবস্থা হিসেবে বেবি কট অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন।

এছাড়াও আরো অনেক কিছুই নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কিনে নিতে পারেন অনাগত মেহমানটির জন্য।

এ সম্পর্কিত লেখাঃ নবজাতকের জন্য শপিং লিস্ট