ইমার্জেন্সি পিল কি ?

জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইসিপি, ইমার্জেন্সি পিল

জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইমার্জেন্সি কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল (Emergency Contraceptive Pill – ECP) হলো এমন এক ধরনের পিল যা অরক্ষিত বা অনিরাপদ সহবাসের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার করলে গর্ভে সন্তান আসার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধে মহিলারা ইসিপি ব্যবহার করতে পারেন। জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইসিপি কোনো নিয়মিত পদ্ধতি নয়।

এটি শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইসিপি গর্ভধারণ রোধ করে, কখনও গর্ভপাত ঘটাতে সাহায্য করে না। অরক্ষিত সহবাসের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জন্মনিরোধক ব্যবহার করতে হবে।

তবে সহবাসের ১২ঘন্টার ভিতরে খেলে ভাল হয় অবশ্যই ৭২ ঘন্টার পরে খাওয়া উচিৎ নয় ।

কখন ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহার করবেন?

নিম্ন লিখিত কারনে ইমার্জেন্সি জন্মনিরোধক ব্যবহার করা বাঞ্চনীয়:

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন
  • সহবাসের সময় আপনি বা আপনার সঙ্গী যদি কোন জন্মনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার না করে।
  • যদি আপনি পরপর ৫ দিন জন্মনিরোধক বড়ি খেতে ভুলে যান ।
  • যদি সহবাসের সময় আপনার সঙ্গী কনডম সঠিক ভাবে ব্যবহার না করে থাকেন, অথবা কনডম ফেটে গিয়ে থাকে।
  • যদি আপনি মনে করেন যে, আপনার জরায়ুতে অবস্থিত জন্মনিরোধক (আই, ইউ, ডি) স্থান্যচুত হয়েছে!
  • যদি আপনার যোনিতে অবস্থিত ডায়াফ্রাম অথবা জন্ম নিরোধক ক্যাপ সরে গিয়ে থাকে ।
  • যদি নিরাপদকাল গণনায় ভুল হয় তাহলে ইসিপি ব্যবহার করতে হবে ।
  • যখন কোনো পদ্ধতি ছাড়া বা অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সহবাস হয় তাহলে ইসিপি ব্যবহার করতে হবে ।
  • যদি গর্ভনিরোধক ইনজেকশনের পরবর্তী ডোজ নিতে ২৮ দিনের বেশি দেরি হয়ে যায় তাহলে ইসিপি ব্যবহার করতে হবে।

জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইসিপি কোনো নিয়মিত পদ্ধতি নয়।

জরুরী গর্ভনিরোধক কিভাবে কাজ করে?

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িতে পাওয়া দুটি হরমোনের একটি হলো প্রোজেস্টিন এবং জরুরী গর্ভনিরোধকে এই হরমোনটি থাকে। নিরোধক পিল থেকে নিস্বরিত হরমোন ডিম্বাশয়কে ডিম্বাণু ছাড়তে বাধা দেয় এবং জরায়ুর ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুর যুক্ত হতে বাধা দিতে আপনার সার্ভিকাল মিউকাসকে ঘন করে দেয়।

সাধারণত নিষিক্ত ডিম্বানু জরায়ুর দেয়ালে আটকে যায় এবং গর্ভবস্থার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যায়। প্রোজেস্টিন জরায়ুর আস্তরণকে পাতলা করে দেয় যাতে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর দেয়ালে “বাসা বাধতে” না পারে।

এই জরুরী পিল গর্ভপাত ঘটায় না। আপনি যদি ইতিমধ্যেই গর্ভবতী হন, জরুরী গর্ভনিরোধক আপনার গর্ভাবস্থায় কোন প্রভাব ফেলবে না। তাই আপনি যদি গর্ভপাত ঘটাতে চান তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন।

জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইমার্জেন্সি পিল খাবার বড়ি কাদের জন্য?

  • কোনো নারী যদি ঝুঁকিপূর্ণ সহবাস করে কিন্তু গর্ভবতী হতে না চান, তবে তিনি সহবাসের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই খাবার বড়ি খেতে পারবেন ।
  • সাধারণত গর্ভধারণে সক্ষম সব নারীরা ।
  • যাদেরকে নিয়মিত খাবার বড়ি খেতে নিষেধ করা হয় তারাও এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।
  • সহবাসের সময় যারা পরিবার পরিকল্পনার কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করেন না ।
  • যদি কেউ পর পর ৩ দিন খাবার বড়ি খেতে ভুলে যান।

জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার বড়ি কীভাবে খেতে হবে?

বাজারে ১ ডোজ গর্ভনিরোধক বড়ি পাওয়া যায়। ।

  • কিছু খাওয়ার পরপরই বা ঘুমের আগে এই গর্ভনিরোধক বড়ি খাওয়া ভালো ।
  • অরক্ষিত সহবাসের ১২ ঘন্টার ভিতর এই পিল খেতে হবে। তবে কোনো ভাবেই ৭২ ঘন্টার পরে নয়।

জরুরি গর্ভনিরোধক পিলের অসুবিধা-

  • নিয়মিত পদ্ধতি হিসেবে এই খাবার বড়ি ব্যবহার করা যায় না। অন্যান্য জন্মনিরোধক পদ্ধতির মতো এটা কার্যকরও নয়।
  • সহবাসের মাধ্যমে ঘটা যৌনরোগ প্রতিরোধ করে না যেটা কনডম করতে পারে।
  • পদ্ধতিটি শুধুমাত্র জরুরিভাবে ব্যবহারের জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
  • ইসিপির কার্যকারিতা দুটি বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয় । মনে রাখবেন, গড়পড়তা হিসাবে ৮৫% ক্ষেত্রে এটি কাজ করে।
  • অনিরাপদ সহবাস ও ইসিপি ১ম ডোজ-এর মধ্যে সময়ের ব্যবধান এবং মাসিক চক্রের কোন সময় অনিরাপদ সহবাস হয়েছে ।
  • ইসিপি ব্যবহারে স্বল্প স্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন- বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, মাথা ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, অবসন্নতা এবং স্তনে ব্যথা হতে পারে
  • অনেকের মাসিকের অসুবিধাও হতে পারে ।

জরুরি গর্ভনিরোধক পিলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে
  • মাথা ব্যথা হতে পারে
  • মাথা ঝিমঝিম করতে পারে
  • অবসন্নতা বোধ হতে পারে
  • স্তনে ব্যথা হতে পারে
  • মাসিকের সমস্যা হতে পারে
  • যোনিপথে রক্তক্ষরণ হতে পারে তবে ভয়ের কিছু নেই।
  • যদি পিল খাওয়ার পর ৩ ঘন্টার ভিতর বমি হয়ে যায় তাহলে সাথে সাথে আরো একটা পিল খেতে হবে।

ইমার্জেন্সি পিল কত ধরণের

বাংলাদেশের বাজারে এখন অনেক কোম্পানীর ইমার্জেন্সি কনট্রাসেপটিভ পিল পাওয়া যায়। যেগুলো ২ দিন থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ব্যাবহার সিস্টেম আছে। অসুরক্ষিত মিলনের পর অনেকেই ইমার্জেন্সি পিলের সাহায্য নিয়ে থাকেন।তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে।

জরুরি গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহারে সতর্কতা

একই মাসে একাধিকবার জরুরি গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহারেও স্বাস্থ্যগত কোনো ক্ষতি নেই। তবে ব্যবহারকারীকে জানতে হবে যে –

  • অতিরিক্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (বিশেষ করে অনিয়মিত রক্তস্রাব মাথা ব্যথা) হয়ে থাকে।
  • জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইসিপি পরিবার পরিকল্পনার কোনও নিয়মিত পদ্ধতি নয়। এটি শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়।
  • ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার বা গাইনোকোলজিস্ট -এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অরক্ষিত যৌন মিলনের পর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ইমার্জেন্সি পিল খান অনেক নারীরা। এই পিলের সাইড ইফেক্ট বা অপকারী দিকই বেশি। মাসে ১ বারের বেশি বা ঘনঘন ইমার্জেন্সি পিল খাওয়া উচিত নয়। যেসব মায়েরা বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করান তাদের ক্ষেত্রে এই পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই পিল গুলো খেলে বুকের দুধের পরিমান কমে যায়।

এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ইমার্জেন্সি পিলের ব্যবহারে মায়ের জিনগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বারবার ইমার্জেন্সি পিল ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ে নানা প্রতিক্রিয়া হতে শুরু করে। যার ফলে জিনগত পরিবর্তন হয় আর তার প্রভাব সরাসরি পড়ে গর্ভজাতের উপরে। ফলে তার ক্রোমোজমে ত্রুটি দেখা দেয়।

তাই শুধুমাত্র জরুরী প্রয়োজনেই ডাক্তারের পরামর্শ সাপেক্ষে জরুরি গর্ভনিরোধক পিল গ্রহন করুন।

সম্পাদনা: নেজাম উদ্দীন
ছবি কৃতজ্ঞতা: মিশিগান ইউনিভার্সিটি হেলথ সার্ভিস

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা