গর্ভপাত: কখন এবং কখন নয়

লিখেছেন Dr. Nazia Sultana Shuvra

গর্ভপাত বা এবোরশন এর মানে হলো ইচ্ছাকৃত ভাবে সন্তান নষ্ট করা। এটা ডাক্তাররাও অনেক সময় করে থাকেন রোগীর জীবন বাঁচনোর জন্য।তবে আজকাল অনেক পুরুষ বা মহিলারা এটা করান অনিচ্ছাকৃত বা ভূলবশত গর্ভ ধারণ করে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, তা বিবাহিত বা অবিবাহিত সম্পর্ক যেটাই হোক। 

যারা গর্ভপাত করাতে আসেন তারা যেসকল যুক্তি দেখান তা হচ্ছে,
১। আমাদের এখন নেয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
২। আমার আরো বাচ্চা আছে তাই আর চাইনা।
৩। বিয়ে হয়েছে তুলে নেয় নাই তাই জানলে লজ্জার ব্যাপার।
৪। আয় কম তাই ভরণপোষন করতে অক্ষম।
৫। মাত্রই একটা বাচ্চা হলো এখনো ছোট তাই আরেকটা নিলে লালন পালনে অসুবিধা।
৬। বিয়ে হয়নি কিন্তু বাচ্চা চলে এসেছে।
৭। বহু বছর কোনো পদ্ধতি ছাড়াই ছিল কিন্তু এমনটা হয়নি কখনো।
৮। বিয়ে হয়েছে কিন্তু লেখাপড়া করছে সামনে পরিক্ষা।
৯। আগেও বহুবার নষ্ট করেছেন কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করেন না এভাবেই চলে যাচ্ছে।

কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে ডাক্তাররাই বাচ্চা নষ্ট করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং তা মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য, ঝুঁকি গুলো হলো:
১। এমন কোনো হার্টের অসুখ যেখানে গর্ভ ধারণ একেবারেই নিষিদ্ধ, জীবন চলে যেতে পারে।
২। কিডনী বা লিভার এর এমন কোনো অসুখ যার কারণে গর্ভধারণ করলে মায়ের জীবনের সমূহ ঝুঁকি রয়েছে
৩। গর্ভধারণ হয়ে গেছে আর ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং এই মুহুর্তেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
৪। বার বার সিজারের কারণে ডাক্তার যদি মনে করেন পরবর্তীতে বাচ্চা আসলে জরায়ু ফেটে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে।
৫। গর্ভস্থ সন্তানের যদি এমন কোনো গঠনগত ত্রুটি ধরা পড়ে যা নিয়ে জন্মালে সে বেশীক্ষণ বাঁচবে না, যেমন, মাথার খুলি অথবা কিডনী গঠন না হওয়া ইত্যাদি।
এমন আরো কিছু কারণে ডাক্তাররা এবোরশনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ইসলামও বড় ক্ষতি থেকে বাঁচতে অনেক ক্ষেত্রে ছোট ক্ষতিকে সমর্থন দেয়।

বেশিরভাগ অনাকাংখিত গর্ভধারনের কারণ বাচ্চা না আসার জন্য ভালো কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যাবস্থা গ্রহণ না করা।
১। বেশিরভাগ মনে করেন নিয়মিত মাসিক হওয়া মানে সব ক্লিয়ার হয়ে যাওয়া বাচ্চা আসবে না আর তাই তারা কোনো ব্যাবস্থা নেন না। যা সব থেকে বড় ভূল ধারণা, আর সবচেয়ে বিপদজনক। নিয়মিত মাসিক হওয়া মানে নিয়মিত ডিম আসা আর তাই গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।
২। বেশিরভাগ মনে করেন, মাসিক হওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ সময় আর নিরাপদ সময় মেনে চললেই হয়, এটাও আরেকটা বড় ভূল। কোনো সময়ই ১০০ ভাগ নিরাপদ নয়।
৩। অনেকে মনে করেন বীর্যপাত বাইরে করলে সন্তান আসে না এটাও ভূল। 

পুরোটা পড়তে সহজে লগিন করুন

গুগল বা ইয়াহু বাটনে ক্লিক করে লগিন করুন। সমস্যা হলে সাপোর্টে নক করুন
সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ মে 11, 2020