আমি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আমার হাসবেন্ড বিবিএ ফাইনালে পড়েন। উনি পরিবারের একমাত্র সন্তান। তাই বিয়ে ও সন্তান নেয়া হলো আমাদের খুব তাড়াতড়ি। যদিও উনার বয়স তখন ২৩ আর আমার ২২, কিন্তু আমাদের বাচ্চা হবার সিদ্ধান্ত আমরা খুব ভেবেচিন্তে নিয়েছিলাম।
আমি তখন নিয়মিত ক্লাস করতাম, পরীক্ষা দিতাম। তো ডেলিভারির সময় আসার কয়েকদিন বাকি, আম্মু ডাক্তার সেলিনা খানকে একদিন গিয়ে বললেন, "ওর তো অনেক কষ্ট হবে, তাই সিজার করে ফেলেন।"
ডাক্তার আম্মু কে বললেন, "আপনার মেয়ের তো কোনো সমস্যা নেই, কেন আমি সিজার করব? এত ছোট মেয়ের কেন আমি খুঁত করব? সময় যাক।"
আম্মু বাসায় এসে আমার বড় ফুপুকে ফোন দিয়ে বলেন, "আপা জানেন? আপনার ভাস্তি ডাক্তারের সাথে কিনা বলে নরমাল ডেলিভারি করাবে, বলেন তো আপা ওর কত কষ্ট হবে, ওর কত বড় সাহস, আমি তো বলসি সিজার করতে।" ফুপুজিও বললেন, "তাইতো,আমার ছেলের বউরা তো সবাই সিজার করেছে। নরমালে তো অনেক কষ্ট, প্রভা এত কষ্ট করতে পারবে না।"
