মেয়েদের শরীরকে আল্লাহ্ সন্তান ধারণ, প্রসব ও দুধ খাওয়ানোর জন্য নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন। মানবসৃষ্টির শুরু থেকেই এই অলৌকিক বিষয়গুলোর ওপর সবার আস্থা আছে। প্রাকৃতিক, ওষুধবিহীন প্রসবের পর বুকের দুধ খাওয়ানোর বাইরে আর কোন উপায় গত শতাব্দীর আগে বের হয়নি।
এসব নতুন সুযোগের ব্যবস্থা আসার পর নারীরা তাদের শরীর ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে অনাস্থা পোষণ করতে শুরু করেছে। প্রসবব্যথা ও প্রসবের সময় মেডিক্যাল হস্তক্ষেপের সূচনা এমন পার্শব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে যা নারী ও শিশুদের ওপর অপরিবর্তনীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে। এর সাথে এসেছে ফিডারের ব্যবহার ও মানবসৃষ্ট বাচ্চাদের দুধ।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে নারীরা সবসময়ই জানত সন্তানপ্রসবের সময় ব্যথা হবে। কিন্তু যখন আমরা প্রসবের আধুনিক সভ্যতার দিকে তাকাই তখন এমন একটা সমাজ দেখতে পাই যেখানে মেয়েরা প্রসবব্যথার অজানা কষ্টকে এতটাই ভয় পায় যে তারা সেটা এড়াতে মেডিক্যাল সাহায্য কামনা করে। দুর্লভ কয়েকজন আছে যারা এখনো তাদের শরীরের নিখুঁত নকশায় আস্থা রাখে এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, ওষুধবিহীন প্রসবের পথ বেছে নেয়। এসব “প্রাকৃতিক মায়েরা” বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের সন্তানদের ফিডারে দুধ খাওয়ানোর বিপরীতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বুকের দুধ খাওয়ানোকে বেছে নেয়।
সৌভাগ্যজনকভাবে, সন্তানপ্রসব নিয়ে শিক্ষাদান সাড়া বিশ্বে সহজলভ্য হতে শুরু করেছে, যদিও মুসলিম সমাজে এখনো বিরল। যেসব নারীরা তাদের শরীর এবং গর্ভাবস্থা, প্রসবব্যথা, প্রসব ও স্তন্যপান প্রক্রিয়ার শারীরবৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করে (এবং কিভাবে সর্বোচ্চ উপায়ে এর জন্য প্রস্তুতি নেয়া যায় তা জানতে চেষ্টা করে) তারা বুঝতে পারে যে ব্যথানাশক ওষুধ ও মেডিক্যাল হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা প্রসব করতে এবং পরবর্তীতে ফিডার ও ফর্মুলা দুধ ছাড়াও বাচ্চাকে খাওয়াতে সক্ষম।
