আমার ছেলে আলী মারা যাওয়ার পরদিন থেকে কেমন জানি একটা জীবনে চলে এসেছিলাম। মনে হয়েছিল, একটা বাঁধা ধরা রুটিন জীবন হঠাৎ শেষ হয়ে গেলো! আমি পুরোপুরি অবসর হয়ে গেলাম হঠাৎ!
আইশার বাবার অবস্থা হোয়েছিল আরো কষ্টের। প্রতিদিন সকাল ৮ টায় আলীর nicu তে কল করে ওর খবর নিতো। ওকে কবর দিয়ে এসে নিজের অজান্তেই কবরস্থানের লোকদের ঠিক ৮ টায় কল করে জানতে চাইছিল, " ওর কবরের পাশে বাঁশের বেড়া টা দিয়েছেন?" বেড়া দেয়ার পর জিজ্ঞেস করত কল করে , " বেড়া টার রং সবুজ করার কথা ছিল, করেছেন?"
আমি ওকে বলেছিলাম এসব বন্ধ করতে নাহলে পাগল হয়ে যাবে। আমার মেয়ে আইশা, ছোট কোন বাচ্চা দেখলে মন খারাপ করে ফেলত। আমার ছোটবোনের একটা ছেলে হয় আলীর পর। ও যেন আমরা আইশার সব কিছু ঘিরে রাখলো। আমার মন খারাপ ছিল, মনে হতে লাগলো, নিশ্চয়ই কোনো বিরাট পাপ করেছি যার শাস্তি পাচ্ছি। তখন এক আপু বলেছিলেন, "তুমি আল্লাহর ব্যাপারে যা ভাববা , ওনাকে তেমনি পাবা। যদি মনে করো পাপ করেছো শাস্তি পাচ্ছো তাহলে তাই আর যদি ভাবো আল্লাহ্ মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন তাহলে তাই। আল্লাহর ব্যাপারে ভাল ধারণা রাখবা। আর মুমিনদের সেটাই কাজ।
"আলহামদুলিল্লাহ। এরপর থেকে মনে হলো, ইসতিগফার চালিয়ে যাবো আজীবন। আর আল্লাহর কাছে আর একবার মা হাওয়ার তৌফিক চাবো।
