সিজারের পর নরমাল: সম্ভবপর এক ঘটনা

পরদিন জিন্দা পার্কে যাবো তার আগে টেস্ট কিট পজিটিভ রেজাল্ট দিল। মেয়ের বয়স দুই বছর হতে আর দুই মাস বাকি। আল্লাহর সিদ্ধান্তে খুব খুশি ছিলাম, মুরব্বিদের দুশ্চিন্তা আঁচ করছিলাম যদিও। আমার মেয়েটা খুব বুঝদার মেয়ে, জ্বালানো বাচ্চাদের ক্যাটাগরিতে সে পড়ে না। আল্লাহ সহজ করবেন এই আশায় নিশ্চিন্ত ছিলাম৷ আর যত বয়সের পার্থক্যই থাকুক না কেন পরীক্ষা যেকোনো সময়, যেকোনো ভাবে আসতে পারে।

কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার সময় মেয়েকে ওর দাদীর বাসা থেকে নিয়ে নিজের বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ রেস্ট নিতাম। তারপর দুইজনের খাওয়া, গোসল, সলাহ শেষে আমার ছাত্রীরা আসা শুরু করতো। যেতে যেতে রাত ৮টা- ৯ টা বাজতো। তারপর অল্প একটু রেস্ট নিয়ে রান্না করতাম, মেয়ের বাবা আসতে আসতে রাত সাড়ে দশটা। প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর শাশুড়ি প্রায়ই রান্না করে পাঠাতেন, কাজ কমে যেতো। ঐ অবস্থায় মেয়েকে বুকের দুধ ছাড়ানো কঠিন হয়ে গেল। আম্মু এসে ক'দিন থাকলো। ৮-৯ দিনে আমার একরোখা মেয়ে বাস্তবতা বুঝে গেল, দুধ ছাড়াই অভ্যস্ত হলো।

সহজ জীবন হঠাৎ করে কঠিন হয়ে গেল সেকেন্ড ট্রাইমিস্টারে, যে সময়টা সবার অপেক্ষাকৃতভাবে সহজ হয়। মেয়ে একের পর এক অসুস্থ হচ্ছিল। একবার হাত পুড়ে গেল, একবার ফুড পয়জনিং, কখনো জ্বর, লাগাতার ঠান্ডা, পেট খারাপ। টানা তিন মাস আমার মেয়েটা কোল ছেড়ে নামতে চাইতো না। কোলে নিয়ে হাটতে হবে এই জিদ করতো শুধু৷ আমি শুধু মাত্র দশ মিনিট পিঠটা বিছানায় রাখার তৌফিক চাইতাম আল্লাহর কাছে,বেশিরভাগ দিনই পারতাম না। ছাত্রীরা আসলে বাথরুমে যাওয়া, সলাহ পড়া সহজ হতো।

রাতে ওর বাবা ফিরলে হাল ছেড়ে দিতাম। ক্লান্তি সত্ত্বেও অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে রাত জাগতো সে,সকালে দুজন ক্লান্ত হয়ে কিছুটা ঘুমাতো। একদিন সামগ্রিক অবস্থা দেখে চাকরি ছেড়ে দিতে বলল ও। থার্ড ট্রাইমেস্টারে এমনিতেও ছুটিতে চলে যাবো,তাই ধৈর্য ধরলাম। আম্মু বারবার আসার প্ল্যান করছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় বাতিল হচ্ছিল প্রতিটা পরিকল্পনা। আমি কয়েকদিন মারাত্মক গর্ভকালীন বিষন্নতায় চলে গেলাম বিশ্রামের অভাবে। কিন্তু নিজের যুক্তিবাদী মনের সাথে কথা বলে বেরিয়ে আসলাম ঐ বিপদ থেকে।

=> তুমি কেন রেস্ট চাও?
=> বাবুর জন্যে
=> রেস্টের অভাবে আত্মহত্যা করলে বাবু বাঁচবে?
=> না

পুরোটা পড়তে সহজে লগিন করুন

সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ মে 13, 2020