আমি সবসময় নিজেকে এবং আমার মত সকল মাকে আহ্বান করি বাচ্চার সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠা নিয়ে চিন্তা করার জন্য। বাচ্চার বেড়ে ওঠা নিয়ে কোন মা চিন্তা না করেন? ঘন্টার পর ঘন্টা খাওয়া নিয়ে, ঘুম নিয়ে যুদ্ধ হোক, বাচ্চাকে রোগ জীবাণু থেকে রক্ষার জন্য ঘর ঝাঁ চকচকে রাখাই হোক, সুষম পুষ্টিকর খাবার যোগান দিতে প্রতিদিন প্রোটিন, সবজির সুষম পরিকল্পনা আর রান্নাই হোক, বাচ্চার বেড়ে ওঠাকে ঘিরেই তো মায়েদের চিন্তা।
কিন্তু আমি যে চিন্তার কথা বলছি সেটা একটু আলাদা, অনেকখানি ঝুঁকিপূর্ণ। যাঁরা মনে করেন বাচ্চার পেটে ভালো ভালো খাবার যাওয়া আর হৃষ্টপুষ্ট বাচ্চা হওয়া তার সুস্থতার জন্য ভালো, তাঁরা তাই করছেন। অনেকে আবার বাচ্চার ভালোর চিন্তা করেই বাচ্চার খাওয়া তার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে করে সে খাওয়ার ব্যাপারে স্বাবলম্বী হয়। ফলস্বরূপ অনেকের বাচ্চাই আজকাল আর খাওয়া নিয়ে জ্বালায় না। জানে যে না খেয়ে থাকলে মা সাধবে না, ওকেই ক্ষুধা নিয়ে থাকতে হবে। এই আইডিয়াটা কোথা থেকে পেয়েছি আমরা? বেশিরভাগই হয় মা দাদীদের কাছে, অথবা হয়তো ফেসবুকে বা অন্য কোথাও অন্য কোন মায়ের অভিজ্ঞতা থেকে পড়ে বা শুনে।
রোগ জীবাণু নিয়ে পড়াশোনা করা অনেকেই আজকাল বলেন, বাচ্চাকে কাঁদামাটির মধ্যে ছেড়ে দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ঘর বাড়ি পরিষ্কারে বেশি খুঁতখুঁত স্বভাব না থাকাই ভালো। আমাদের যাঁদের জীবাণুর ব্যাপারে অত পড়াশোনা নেই, তাঁরা কেউ কেউ মানতে পারিনা, কেউ আবার মেনে নেই। যে যেটাই করি না কেন, ধারণাটা অন্যের কাছ থেকে পাওয়া।
তবে যে দুটো উদাহরণ দিলাম, সেগুলোতে আমাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কিছুটা সহজ, কেননা এগুলো নিয়ে এক্সপার্টরা অনেক গবেষণা ইতোমধ্যেই করেছেন, মোটামুটি নিশ্চয়তা দিচ্ছেন তাঁদের উপসংহারে। কিন্তু অন্যান্য অনেক ব্যাপার আছে সন্তান প্রতিপালনে যেগুলোর ব্যাপারে সঠিক এপ্রোচ কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সামনে নেই। এই প্রসঙ্গগুলো উত্থাপিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী, এবং এগুলোর উত্তর যে যার মত করেই খুঁজে নেন, অথচ কেউই নিশ্চিত না যে তাঁর চিন্তাটা সঠিক কিনা।
