বীজ বপনের আগে যেমন জমি প্রস্তুত করতে হয়— আগাছা সাফ করে, পোকা-মাকড় দূর করে, মাটিতে পানি, সার, ও পুষ্টি উপাদান যোগ করে— ঠিক তেমনিভাবে কনসেপশনের আগেই হবু মায়েরও কিছু ‘মাস্ট ডু’ আছে। যেমন মাটিতে বপন করা বীজের ফলন মাটির গুণাগুণ ও অবস্থার উপর ডিপেন্ড করে, ঠিক তেমনিভাবে হবু মায়ের শরীর ও সুস্বাস্থ্যের উপর ডিপেন্ড করে তার অনাগত সন্তান কতটা সুস্থ, সবল, ও রোগমুক্ত হয়ে দুনিয়ায় আগমন করবে।
আল্লাহ্ দিলে সবচেয়ে বেস্ট হয় বিয়ের আগে থেকেই, আর না হলে বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার প্ল্যান করার অ্যাটলিস্ট কয়েক মাস আগে থেকেই হবু মায়ের কিছু প্রিপেরেটরী মেজারস বা সহজ বাংলায় যেটাকে বলে পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, নিজের শরীরকে প্রস্তুত করতে এবং নিজের গর্ভে আরেকটি মানবশিশুকে সুষ্ঠুভাবে ধারণ করতে। সেখান থেকেই কয়েকটি ইম্পর্টেন্ট বিষয় আমি এখানে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করবো।
এখন, যে বিষয়গুলো নিয়ে লিখবো ঠিক করেছি, সেগুলোর প্রত্যেকটি নিয়েই পাতার পর পাতা লেখা পসিবল। তবে আমি এখানে চেষ্টা করবো খুব বেশি ডিটেইলসে না গিয়ে যতটা পারা যায় ব্রিফলি লিখতে। এই পূর্ব প্রস্তুতিগুলো নিলে হবু মা ও তার অনাগত বাচ্চার সুস্থ থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়বে, বিইজনিল্লাহ্।
শুরু করি ওয়েট কন্ট্রোল বা ওজন নিয়ন্ত্রণ দিয়ে। প্রেগনেন্সিতে মায়ের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেও প্রবলেম, কম হলেও প্রবলেম [২]। ওজন বেশি হলে প্রেগনেন্সি চলাকালীন হাই ব্লাড-প্রেসার, জেসটেশনাল ডায়বেটিস, প্রি-এক্লাম্পসিয়াসহ নানান রোগ হানা দিতে পারে। আর ডেলিভারীর সময়ে বাচ্চার কাঁধ আটকে যেতে পারে [৩], অতিরিক্ত ব্লিডিং হতে পারে, এবং শেষে নরমাল ডেলিভারী না হয়ে সি-সেকশন করা লাগতে পারে।
