আপনি এখন গর্ভধারনের তেরতম সপ্তাহ শুরু করেছেন, অর্থাৎ আপনি গোটা গর্ভধারনকালীন সময়ের এক তৃতীয়াংশ প্রায় অতিক্রম করে ফেলেছেন। অন্য সময়ের তুলনায় হয়ত এখন আপনার একটু বেশীই ক্লান্ত লাগে। একদিকে নতুন শিশুর আগমন নিয়ে খুশী আবার অন্যদিকে মুড সুইং নিয়ে বিব্রত বেশীর ভাগ মায়েরাই থাকেন। প্রথম বাচ্চার বেলায় যেমন আগ্রহ/উত্তেজনা বেশী কাজ করে, দ্বিতীয়-তৃতীয় বা পরের বাচ্চাদের বেলায় নতুন বাচ্চার চিন্তার সাথে সাথে আগের বাচ্চাদের দেখাশোনার বিষয়টি মা’কে ক্লান্ত করে রাখে। প্রতিটা গর্ভধারণ আসলেই স্বতন্ত্র।

তেরতম সপ্তাহে আপনার শরীরে যে পরিবর্তন আসবে

এই সপ্তাহে এসে আপনি বেশকিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখবেন। সাধারনত প্রথমদিকে যাদের খুব বেশী মাথাঘুরানো, বমি/বমিভাব থাকে, আস্তে আস্তে কমতে থাকে। দ্বিতীয় ট্রাইমিষ্টারে যেয়ে আপনি অবস্থার আরো উন্নতি আশা করতে পারেন। তাছাড়া এই সময়ে গর্ভপাতের সম্ভাবনাও কম থাকে।
অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহ সরবরাহের জন্য আপনি চামড়ার নীচে দৃশ্যমান নীল ধমনী দেখতে পারেন। প্রথমদিকের তুলনায় ক্লান্তি কমে আসতে পারে। সহবাসের এর প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। অনেকের স্তনে কোলষ্টারোম তৈরী শুরু হয় এর মধ্যেই, যা আপনার বাচ্চার জন্মের পরপর তার প্রথম খাবার। অনেকের অল্প পরিমান স্পটিং (Spotting) হয়। কিন্তু পরিমানে বেশী হলে, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন অনেকেই।

বাচ্চার ডেভেলপমেন্ট

আপনার ভেতরের শিশুটির একটা ছোট্ট লেবুর সমান। লম্বায় তিন ইঞ্চির কাছাকাছি আর ওজন প্রায় এক আউন্স। কিন্তু এই ছোট্ট শরীর ইতিমধ্যে অনেক কিছু করতে শিখেছে। মাথা নাড়তে পারে, হাই তুলতে পারে, পা ছুঁড়তে পারে এমনকি হেঁচকিও তোলে কখনো সখনো। আকারে এখনো অনেক ছোট দেখেই আপনি তার নাড়াচাড়া বাইরে থেকে বুঝতে পারেন না এখনো।

এইসময় বাচ্চার ত্বক এতই পাতলা যে বাইরে থেকে শিরা-উপশিরা দেখা যায়। মাথাই শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ এখন। হাড়ের গঠন চলছে। অন্ত্র, পাকস্থলী আর কন্ঠনালী গঠিত হচ্ছে। মেয়ে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ডিম্বানু বিশিষ্ট ওভারী। ফুসফুসের গঠন হচ্ছে। এটি হলেও বাচ্চা এম্বেলিক্যাল কর্ড থেকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সংগ্রহ করতে পারবে। বাচ্চা এমনিওটিক স্যাকের ভেতর থাকে, যেটা আসলে একটা পানিপূর্ন (এমনিওটিক ফ্লুইড) থলে। যখনি কিডনী কাজ করা শুরু করে, এই ফ্লুইড বাচ্চা খেয়ে ফললেও প্রস্রাব করে দেয়।এই সপ্তাহে

আপনার জন্য টিপস

  • পুষ্টিকর খাবার এবং প্রচুর পরিমানে পানি খান। প্রেগন্যান্সী মানেই যে দুইজনের খাবার খেতে হবে- এটা ভুল ধারনা। যা খাচ্ছেন, তার পুষ্টিমানের দিকে খেয়াল রাখুন।
  • স্ন্যাক্স হিসেবে ভাজাপোড়া খাওয়ার চাইতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন কিনা ভেবে দেখুন।
  • খাবারে আয়রন, প্রোটিন, ক্যালসিয়ামের পরিমানের দিকে খেয়াল রাখুন। বাচ্চার গঠনে এই খাদ্য উপাদান সহায়ক।
  • হাঁটাহাঁটির অভ্যাস না থাকলে এখনি শুরু করুন। হালকা ব্যায়াম করুন বাড়ীতে বসেই। যারা আগে থেকেই ব্যায়াম করেন, তারা প্রেগন্যান্সি রিলেটেড ওয়ার্কাউট শুরু করুন। কারন স্বাভাবিক সময়ের অনেক কিছু আপনি এসময় করতে পারবেন না। যেমন উপুড় হয়ে শুয়ে করা কিছু ইয়োগা পোজ।
  • আপনার বি এম আই (Body Mass Index) স্বাভাবিক থাকলে (১৮.৫-২৪.৯), প্রেগন্যান্সিতে আগের ওজনের চাইতে ২৫-৩৫ পাউন্ড বাড়লেই যথেষ্ট। কম/ অতিরিক্ত ওজনের ব্যাপারে সতর্ক হোন। যমজ বাচ্চার ক্ষেত্রে তা বেড়ে হবে ৩৭-৫৪ পাউন্ড।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে পানি রাখুন সাথে সবসময়। পানিজাতীয় সবজি, ফল বেশী খান। গরম কাল হলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী পানি পান করুন।
  • স্বামীর সাথে কোথাও থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেন। এতে মন ভালো থাকবে, সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ প্রাইভেট প্রেগন্যান্সো ডট কো ডট ইউকে