ছবি কৃতজ্ঞতা : মম জাঙ্কশন

দ্বিতীয় সপ্তাহেও গর্ভধারণের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে অনুভব করতে পারবেন না, কারণ দৃশ্যমান কোন পরিবর্তন এখনি ঘটবে না। কিন্তু শরীরের ভেতরে পরিবর্তন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। গর্ভকালীন দরকারি বিভিন্ন হরমোন তৈরি হচ্ছে।

আপনার শরীরে যা পরিবর্তন আসবে

আপনার শেষ মাসিক শুরু হয়েছিলো দুই সপ্তাহ আগে। এখন অথবা যে কোন সময়ে ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) হতে পারে। আপনি যদি গর্ভধারণ করে থাকেন, তাহলে দুই বা তিন সপ্তাহের মধ্যেই বাসায় বসে বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে জানতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আগামী নয় মাসের মধ্যে আপনার আর মাসিক হচ্ছে না। অনেকের তেমন কোন লক্ষণ না থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণের লক্ষণগুলো এই সময় থেকে বোঝা যায়- যেমন বমি ভাব, ক্লান্ত লাগা, মাথা ঘোরানো, স্তনের নরমভাব ইত্যাদি।

বাচ্চার ডেভেলপমেন্ট

নির্দিষ্ট সময়ে আপনার শরীরে যে ডিম্বানু তৈরী হয়েছে, তা শুক্রানু সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (Zygote) তৈরী করে। ৪৬ জোড়া ক্রমোজোমের ভেতর X আর Y ক্রমোজোম সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারনে ভূমিকা রাখবে, যা বোঝা যাবে আরো বেশ কয়েক সপ্তাহ পর। এই ডিম্বানু নিষিক্ত হয়ে জরায়ুর দেয়ালে গেড়ে বসবে। সেখানে ধীরে ধীরে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে আস্ত-মানব সন্তানের আদল পাবে। ভ্রুণের (Fetus) জন্য এই দ্বিতীয় সপ্তাহটা বেশ গুরুত্বপূর্ন। এসময় ভ্রুণের আকার থাকে খুব ছোট, অনেকটা, ০.১ থেকে ০.২ মিলিমিটার লম্বা। খালি চোখে দেখার প্রশ্নই আসে না।

এ সপ্তাহে আপনার জন্য টিপস

  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন। কম কিংবা বেশী ওজন দুইটাই প্রেগন্যান্সীর জন্য ক্ষতিকর।
  • শারীরিকভাবে এক্টিভ থাকুন।
  • মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
  • ফলিক এসিড সমৃদ্ধ প্রি-ন্যাটাল মাল্টিভিটামিন খান।

আপনি গর্ভধারণ করেছেন কিনা তা বুঝতেই পার হয়ে যায় প্রথম ক’টি সপ্তাহ। পরিকল্পনা অনুসারে হলে, এখন থেকেই শুরু করুন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস। আপনি যাই খাবেন, আপনার ভবিষ্যত শিশুর উপর তারই প্রভাব পড়বে। জাঙ্কফুড (Junk Food) খাওয়া কমিয়ে দিন। শাকসবজি ফল-মূল বেশী করে খান। যদি শারীরিক বা মানসিক কোন সমস্যার জন্য ওষুধ খেয়ে থাকেন আগে থেকে, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন। কারন অনেক সাধারন সমস্যার জন্য খাওয়া ওষুধও গর্ভকালীন সময়ে সন্তান ও আপনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিখুশি থাকুন। সামনের সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিন।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন

 

 

লেখাটি রিভিউ করেছেন –

ডাঃ ফাতেমা ইয়াসমিন
এফসিপিএস(অবস্টেট্রিক্স ও গাইনোকোলজি)
কনসালট্যান্ট, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল।

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা