গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের ইনফেকশান (Urinary Tract Infection-UTI) এবং সন্তান জন্মের পরে Urinary incontinence এর কারণ
গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের ইনফেকশন বা মুত্রনালীতে সংক্রমণ সাধারণ তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা না হলে মা এবং গর্ভস্থ শিশু উভয়ের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন এবং জরায়ুর আকার বড় হওয়ায় এই ঝুঁকি বাড়ে।
এর লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া,বারবার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে ব্যাথা, দুর্গন্ধযুক্ত প্রসাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন তা না হলে সময়ের আগে সন্তান প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম নেওয়া বা কিডনি সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
বিষয়সূচী
গর্ভাবস্থায় মুত্রনালীর সংক্রমণ কেন হয়?
১. হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় প্রোজেস্টরণ হরমোন বেড়ে যাওয়ায় মুত্রনালীর সাথে কিডনির সংযোগকারী পেশিগুলোকে শিথিল করে দেয়, ফলে প্রসাবের সরবরাহ ধীর করে দেয়, ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধি সহজ করে দেয়।
২. মুত্রাশয়ের উপর চাপ: জরায়ুর অবস্থান প্রস্রাবের থলির (urinary bladder) ঠিক উপরে হওয়ায় যখন জরায়ু আকারে বড় হয় তখন মুত্রাশয়ের (urinary bladder) উপর চাপ তৈরি করে, এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৩. দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে
৪. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
সাধারণ লক্ষণ
১. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যাথার অনুভূতি
২.বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা(যদিও গর্ভাবস্থায় ঘন ঘন প্রসাব হওয়া স্বাভাবিক এবং নিরাপদ)
৩.তলপেটে ব্যাথা, ভারিভাব,বা অস্বস্তি মনে হওয়া
৪.দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব বা প্রস্রাবের রঙ ঘোলাটে হওয়া
৫.প্রস্রাব করার তীব্র ইচ্ছা যদিও প্রস্রাব সামান্য হয়
৬.জ্বর, কাঁপুনি বা বমি বমি ভাব(যদি কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে)
UTI এর সাথে জড়িত ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় UTI এর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এটি গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে-
- সময়ের আগে শিশু জন্ম দেওয়া(preterm labor)
- কম ওজনের শিশু জন্ম দেওয়া
- মুত্রনালীর সংক্রমণ থেকে মুত্রাশয়ে/urinary bladder (সিস্টাইসিস) এ সংক্রমণ হতে পারে
- কিডনির সংক্রমণ (পাইলোনেফ্রাইটিস)পর্যন্ত হতে পারে যা গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে
ঘরোয়া প্রতিকার
১. প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা
২. প্রস্রাব আটকে না রাখা
৩. ব্যাকটেরিয়া দূর করতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা( দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা)
৪. প্রস্রাবের পর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
৫. ক্যাফেইন বা আ্যলকোহল গ্রহণ কমিয়ে দেওয়া
৬. সহবাসের আগে এবং পরে ব্লাডার খালি রাখা
সন্তান জন্মের পরে urinary incontinence হওয়ার কারণ
কাশি দিলে, হাসলে, বা ভারি কিছু তুললে অনেক সময় প্রসাব বের হয়ে যেতে পারে, যেটাকে Urinary Incontinence বলে। অনেকে লজ্জার কারণে বিষয়টি কাউকে বলেন না। কেউ ভাবেন এটি বয়সের কারণে হচ্ছে আবার অনেকে ভাবেন সন্তান জন্মের পর এরকম হওয়া স্বাভাবিক।
এর বড় কারণ হলো পেলভিক পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়া। এগুলোকে কেগেল পেশিও বলা হয়। এটি শরীরের নীচের অংশের অঙ্গগুলোকে ধরে রাখতে এবং প্রস্রাব ও পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় এই মাংশপেশিগুলো শিশুকে সমর্থন দেয় এবং প্রসবের সময়ও সাহায্য করে। এ সময় অতিরিক্ত ওজন বহন করায় পেশিগুলো দূর্বল হয়ে যায়।
এছাড়াও এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল মায়েদের সন্তান জন্মের সময় এপিসিওটমি (প্রসবের সময় যোনিপথ কাটা) অথবা forceps ব্যাবহার করা হয় তাদের পেলভিক পেশি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রস্রাব ও মল (urinary and fetal incontinence) ধরে রাখতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া পেলভিক ফ্লোর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা গেছে-
- বেশি সংখ্যক সন্তান ধারণ করা
- বেশি ওজনের শিশু জন্ম দেওয়া ( মোটামোটি ১০ পাউন্ড বা ৪.৫ কেজির বেশি)
- প্রসবের সময় এপিসিওটমি করা
- জন্মের সময় যাদ শিশুকে বের করার জন্য forceps ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করা হয়
কিভাবে কেগেল মাংশপেশি শক্ত হয়?
আমাদের জন্য আশার আলো এটা যে কেগেল ব্যায়াম এর মাধ্যমে কেগেল পেশি শক্তিশালী করা সম্ভব। এই ব্যায়াম করার জন্য প্রথমে বুঝতে হবে কোন পেশিগুলো ব্যবহার করতে হবে। এটা চিহ্নিত করার জন্য প্রস্রাব করার সময় মাঝপথে থামিয়ে দিন, যে পেশিগুলো কাজ করবে সেগুলোই কেগেল মাংশপেশি।
এখন এই ব্যায়াম করার জন্য পেশিগুলোকে চেপে ধরুন, কয়েক সেকেন্ড রাখুন, তারপর ছেড়ে দিন এইভাবে ব্যায়াম করতে হবে। গভীর শ্বাসের সাথে এই ব্যায়াম করতে পারেন।
কেগেল ব্যায়ামের আগে মুত্রথলি খালি রাখুন, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
তথ্যসুত্র
১. BORN IN THE USA, writer: Marsden Wanger
2. AMANI Birth Student Workbook
3. Urinary incontinence in pregnancy - HSE website
