প্রবাসে করোনাকালীন সময়ে দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানের অভিজ্ঞতা হল।প্রথম সন্তানের বেলায় উত্তেজনা উৎসাহ আর আতঙ্কের এক মিশ্র অভিজ্ঞতা ছিল। দ্বিতীয় সন্তানের বেলায় অভিজ্ঞতার কারণে কিছুটা নির্ভার থাকলেও, প্রত্যেক প্রেগনেন্সি যে ভিন্ন সেটা উপলব্ধি করেছিলাম।
আমার প্রথম প্রেগনেন্সির কথা একটু বলি। প্রথম সন্তান জন্ম গ্রহণ করে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ৪২ সপ্তাহে। ইন্ডিউস করার মাধ্যমে পেইন উঠানোর কারণে লম্বা সময় (১৫ ঘন্টা) লেবারে থাকতে হয়েছিল। এপিডুরাল নেয়ার কারণে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়েছিল, যার কারণে ১০ সেন্টিমিটার সার্ভিক্স ওপেন হওয়ার পরেও পুশ করতে দুই ঘন্টার বেশি সময় লেগেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে পুশ করা সত্ত্বেও বাচ্চার মাথা বের হচ্ছিল না। তিনবার ফরসেপ দিয়ে চেষ্টার পর ডেলিভারি না হওয়া, বাচ্চা অনেকক্ষণ টিউবে থাকার কারণে যখন বাচ্চার শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছিল, ডাক্তার নার্ভাস হয়ে বলছিল আমাদের হাতে আর অল্প কিছু সময় আছে বাচ্চাকে নিরাপদে বের করে নেয়ার। তখন শুধু আল্লাহকে বলছিলাম এই যাত্রায় এতদূর আসার পর আমাকে নিরাশ করো না, আমার সন্তানকে নিরাপত্তার সাথে দুনিয়াতে পাঠাও। এর ৫ মিনিটের মাঝে আমার সন্তান দুনিয়াতে আসে, আর আমি নিস্তেজ হয়ে যাওয়া শরীর নিয়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলছিলাম “ আলহামদুলিল্লাহ”।
দ্বিতীয় প্রেগনেন্সিতে তাই লক্ষ্য ছিল শুরু থেকেই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং একটু পড়াশুনা করে আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব প্রস্তুতি নেয়া। আট মাস চলাকালীন ডাক্তার জানালো বাচ্চার মাথা নিচের দিকে যা বেশ ভালো একটি লক্ষণ, তা সত্বেও প্রথম সন্তান যেহেতু নির্ধারিত সময় পার হয়ে জন্মেছিল, তাই এবারও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে। এরমধ্যে আমি যে শহরে থাকে সেখানে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে অনেক বিধি-নিষেধ আরোপ করছিল এবং ডাক্তার-নার্স দ্বিধার সাথে দূরত্ব নিয়ে সেবা দিচ্ছিলেন। তার ওপর হসপিটালে ডেলিভারির আগে আবশ্যক করোনা টেস্ট করিয়ে পজিটিভ আসলে আইসোলেটেড রেখে খুব সতর্কতার সাথে সেবা দেয়া হচ্ছিল।
আমার মায়ের সাথে শেয়ার করলে মা ও বললেন বেশি বেশি দোয়া করার কথা। ডেলিভারির কয়েক মাস আগে থেকেই চেষ্টা করতাম শরীরটা ভালো থাকলে তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য। লম্বা সময় ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম আমার জন্য যেন সব কিছু সহজ হয়, সময়ের মধ্যেই যেন আমার সন্তান দুনিয়াতে আসে। অন্যতম একটি দোয়া ছিল প্রসব বেদনা যেন কম হয় আর এপিডুরাল এর প্রয়োজন যেন না হয়। আমি খুব বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতাম যে আমার দোয়া বৃথা যাবেনা।
