পেলভিক ফ্লোর ব্যয়ামঃ গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও আজীবনের জন্য
পেলভিক ফ্লোর (Pelvic Floor) ব্যয়াম নিয়ে আলোচনা হতে কমই শোনা যায়। কিন্তু গর্ভাবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়াম এটি। গর্ভাবস্থা পরবর্তী সময়েও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই ব্যয়াম ব্লাডার, স্ত্রীজননেন্দ্রিয় বা পুংজননেন্দ্রিয় এবং পশ্চাদ্দিককে ঘিরে থাকা পেশীর দৃঢ়তা বাড়ায়। নারী ও পুরুষ উভয়েই এই ব্যয়াম থেকে উপকৃত হতে পারেন। মূলত, এই ব্যয়াম থেকে সারাজীবন উপকারিতা পাওয়া সম্ভব।
পেলভিক ফ্লোর পেশীকে কেজেল (Kegel) পেশীও বলা হয়। ১৯৪০ সালে ডাঃ আর্নল্ড কেজেল এই পেশী ও এর দৃঢ়তা বজায় রাখার জন্য ব্যয়ামের গুরুত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। এই পেশী একটি দোলনার মতো যা সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে ধরে রাখে, এমনকি গর্ভাবস্থায় শিশুকেও ধরে রাখে।
দুর্বল কেজেল পেশীর কারণে হওয়া সমস্যাসমূহ
গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের সময় এই পেশীর দৃঢ়তা কমে যায়। ফলে মা হওয়ার পর অনেক নারীই সামান্য হাঁচি, কাশি দেয়ার সময় বা হাসার সময় প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। বিবাহিত অন্তরঙ্গ মূহুর্তগুলোও ভালোভাবে উপভোগ করা যায় না। দুর্বল কেজেল পেশীর কারণে অর্শ্বরোগ, ইউটেরাইন প্রোলাপ্স (জরায়ু আক্ষরিক অর্থে মায়ের শরীর থেকে বের হয়ে আসা) হতে পারে। প্রসবের সময় শিশুকে এই পেশীর ভেতর দিয়ে যেতে হয় এবং এর দৃঢ়তা না থাকলে বাচ্চা এর ভেতর দিয়ে সহজে বের হয়ে না এসে হেঁচড়ে বের হবে।
