আমি দুই কিংবা তিন সন্তানের মা। তাদের সামলিয়েও ঘর পরিষ্কার করা, রান্নাবান্না করা, বাচ্চাদের গোসল করানো, খাওয়ানো—সবকিছু সুন্দরভাবে মেইনটেইন করতে পারি।
ঈদ হোক কিংবা যেকোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান, পুরো আয়োজন একা হাতে সামলে নিতে পারি। কুরবানির একটা আস্ত ভুড়িও এক বসায় পরিষ্কার করে ফেলতে পারি।
তা এত পেরে আপনার লাভটা কী?
এত কাজ পারার জন্য জামাই আর শ্বশুরবাড়ির মানুষজন কি আপনাকে একটু বেশিই মূল্যায়ন করে। একটু বেশিই আদরযত্ন করে?
নাকি এত কিছু করার পরও আপনার খুঁতই ধরে?
ঠিকমতো আপ্যায়ন করলেন কিনা, হাসিমুখে কথা বললেন কিনা, রান্নাটা ভালো হল কিনা, সবাই পেট ভরে খেতে পারল কিনা—এসবের হিসাবই দিতে হয় তো?
এই যে দুই, তিন কিংবা চারটা বাচ্চা সামলিয়ে সংসারের সব কাজ একা হাতে করলেন। তারপরও একদিন কারও না কারও মুখে শুনতে হল—
"এমন আর কী কাজ করো? বাচ্চা সামলাও আর একটু রান্নাবান্না করো!"
কিন্তু আপনি জানেন—
কতদিন শান্তিমতো ভাত খেতে পারেন নি। কতদিন ঠিকমতো ঘুম হয় নি। কতদিন শরীর খারাপ লাগলেও রান্নাঘরে দাঁড়াতে হয়েছে।
সবাইকে খাইয়ে, সব কাজ শেষ করে নিজে যে পাতিলের তলা থেকে কয়েক লোকমা ভাত খেয়েছেন এই খবর তামাম দুনিয়ার কেউ রাখে নি। রাখার প্রয়োজনও মনে করে নি।
তাহলে এত কিছু সামলিয়ে আপনার অর্জনটা কী?
দিনশেষে মানুষ আপনাকে বিচার করবেই। আপনি কাজ পারেন আর না পারেন—সেটা খুব বেশি কিছু বদলায় না।
বরং যে বেশি সামলাতে পারে, তার কাঁধেই আরও বেশি দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়।
আর বিনিময়ে জোটে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, কিছু অভিযোগ, আর নিজের কষ্ট চেপে রাখার অভ্যাস।
তাই সবকিছু পারতেই হবে—এই চাপটা নিজের উপর দিবেন না।
মানুষের সন্তুষ্টির শেষ নেই। আপনি জীবনভর উজাড় করে দিলেও কারও না কারও অভিযোগ থাকবেই।
প্রিয়া মায়েরা মাঝে মাঝে নিজের জন্যও একটু বাঁচেন। একটু বিশ্রাম নিন। একটু নিজের খোঁজও রাখুন।
সংসার সামলানো, বাচ্চা সামলানো অনেক বড় একটা কাজ।
কিন্তু সেই সংসার সামলাতে গিয়ে, বাচ্চা সামলাতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে না ফেলা—তার চেয়েও বড় কাজ। ❤️
