শিশুদের হাতেখড়ি-প্রসঙ্গ যখন বই

লিখেছেন Samiha Nabila

আগের লেখায় শিশুর আবেগ ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া নিয়ে লিখেছিলাম। বলছিলাম শিশুর আবেগকে বাবা মা হিসেবে আমাদের গাইড করতে হবে, তাকে সাহায্য করতে হবে সে যা অনুভব করছে সেটা বুঝায়। শিশুর সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়ায় আবেগ যেমন কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে, তেমনি তার পড়াশুনার অভ্যাসেও "কৌতুহল" নামের আবেগের ভূমিকা রয়েছে। শিশুর পাঠের অভ্যাস গঠনে আরো বেশ কিছু বিষয় জড়িত।

কথিত আছে শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ড যেমন পিঠকে সোজা রাখে, শিক্ষা তেমন মানসিকতা ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে; আত্মপরিচয় দান করে, চিন্তা করার দক্ষতা তৈরী করে। এখানে আবেগ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কেননা নিয়ন্ত্রণহীন আবেগ মানুষের চিন্তাক্ষমতা কেড়ে নেয়। আর পড়াশুনায় স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ার জন্য চিন্তাদক্ষতার কোন বিকল্প নেই।

তো যদি শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে তারা শিখলেও শিক্ষা দ্বারা উপকৃত হতে পারবেনা। ভয়, আশা, লোভের মাঝে তাদের জীবন আবর্তিত হবে। যা তাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন তো বটেই, প্রভাবিত করবে তাদের আধ্যাত্মিক জীবনকেও। ঈমান ও আমল সংক্রান্ত বিষয়ে সে হয়ে পড়বে উদাসীন। সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল হিসেবে এটা বাবা-মায়ের ইহ ও পরকালের জন্য ক্ষতিকর।

পড়ানোর আগে তাই তাদেরকে আবেগিক ভারসাম্যে রাখতে হবে। যেহেতু পড়ার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি কৌতুহলের আবেগটা কাজ করে তাই আবেগিক দিকে কৌতুহলটাকে ধরে রাখতে শেখানোটাই প্রথম পদক্ষেপ। আর বাবা-মায়ের নিজেদের আবেগ ভারসাম্যে থাকলেই সন্তান অনুরূপ ভারসাম্য শিখবে- এক্ষেত্রে বলতে হয়, পরিবেশই সবথেকে বড় শিক্ষক। যদি এমনটাই হয়, তাদের আবেগের চাহিদাটি গুরুত্ব পায়, তাহলে পড়াশুনার ক্ষেত্রে তাদেরকে অতিরিক্ত শাসন করে, বকে, মেরে ধরে পড়তে বসালে তারা যে আদৌ পড়াশুনায় উৎসাহী হবেনা সেটা বলাই যায়।

পুরোটা পড়তে সহজে লগিন করুন

সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ জুন 14, 2023