ছোট বাচ্চা নিয়ে দূরপাল্লার বিমান ভ্রমন

প্রথমবার মেয়েকে নিয়ে একা দেশে গিয়েছি কানাডা থেকে, ১৫ মাস বয়স তখন তার। এরপর ছেলেকে নিয়েছি ৬ মাস বয়সে, তখন মেয়ে সাড়ে তিন বছর। এরপর আবার গিয়েছি যখন বাচ্চাদের বয়স এক বছর আর চার বছর। নানা কারনে একা ট্রাভেল করতে হয়েছে। নর্থ আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ বিশাল জার্নি। লম্বা সময় প্লেনে কাটাতে হয়। প্রায় ১৯ ঘন্টার বেশি। প্লেনের বদ্ধ জায়গায় জার্নি, বড়দের জন্যই কষ্টকর হয়ে যায়, আর বাচ্চাদের জন্য বলাই বাহুল্য। তার উপর মাঝখানের ট্রানজিটের সময় এক এক এয়ারলাইন্সে এক এক রকম। আমরা যারা দেশ থেকে এতটা দূরে থাকি, বাধ্য হয়ে অনেকসময় বাচ্চা নিয়ে একা ট্রাভেল করতে হয়। এক্ষেত্রে অনেকের অনেক রকম জিজ্ঞাসা থাকে। স্পেশালি যারা প্রথম এরকম লম্বা ট্রাভেল করবেন বলে প্ল্যান করছেন। তাই আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি, যদি কারো কাজে লাগে। 

বাচ্চাদের নিয়ে ট্রাভেলের ক্ষেত্রে প্রথমে যে জিনিসটা লাগে সেটা হলো মনোবল, যে আপনি পারবেন। শুরু থেকেই প্রচুর দু’আ করুন, যাতে আল্লাহ্‌ গোটা জার্নিটাকে আপনার জন্য সহজ করে দেন। বিশেষ করে একা হাতে এই লম্বা সময় জার্নি করতে হলে, আপনাকে মনে রাখতে হবে যে কষ্ট হবে, কিন্তু এটা অসম্ভব না। অন্তত সপ্তাহ খানেক আগে থেকে প্রস্তুতি  নিন ব্যাগ গুছানোর। বাচ্চার জন্য কী কী লাগতে পারে তার একটা লিস্ট করে ফেলুন। কাপড়-চোপড়, ডায়াপার, ওষুধ, খাবারদাবার, স্ন্যাক্স, দরকারে খাবার পানি সবকিছুর একটা লিস্ট করে ফেলুন। লিস্ট ধরে ব্যাগ গুছান, তাহলে কোন কিছু বাদ পরার সম্ভবনা থাকবে না। যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটে ওজনের একটা বিধিনিষেধ  থাকে ( ইকোনমিতে ট্রাভেল করলে বয়সভেদে বাচ্চারা একটা থেকে দুইটা লাগেজ পায়), তাই পরিকল্পনা মাফিক জিনিসপত্র গুছালে অনেক কিছু সহজ হয়। 

আপনার মনে হতে পারে এত কিছু সাথে নেয়ার দরকার কী, দেশে সবকিছু পাওয়া যায় এখন। সব পাওয়া যায় হয়ত, কিন্তু বাচ্চা যেসব জিনিসে অভ্যস্থ, তার জন্য সেগুলো নেয়া যুক্তিসংগত। যেমন ধরুন, ডায়াপার। সব ডায়াপার সব বাচ্চাকে স্যুট করে না। যে ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিম আপনি বাচ্চার জন্য ব্যবহার  করেন বা যেটাকে আপনার কাছে কার্যকর মনে হয়, জরুরী দরকারে সেটা আপনি হাতের কাছে নাও পেতে পারেন। যে বেবি সিরিয়াল বা বেবি ফুডসগুলো বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন, যা হয়ত সে পছন্দ করে খাচ্ছে, আপনি দেশে পৌঁছা মাত্রই তা জোগাড় নাও করতে পারেন। প্রথম বার দেশে ট্রাভেল করা বাচ্চাদের জন্য খাবার পানি (অন্তত শুরুতে কিছুদিন খাওয়ানোর জন্য হলেও) বেশ কাজের জিনিস। বাচ্চাকে আপনি দেশে নিয়ে একটা সময় পানি দিবেনই, কিন্তু তার আগে সে যদি আস্তে আস্তে জীবাণুর সাথে পরিচিত হয়, তাহলে শুরুতেই পেট খারাপের ধকল সহ্য করা লাগে না। 

লাগেজ গুছানোর পর হ্যান্ড লাগেজ, ব্যাকপ্যাক বা ডায়াপার ব্যাগ গুছাতে পারেন সবার শেষে। খুব প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অন্য কিছু সাথে না রাখাই ভালো। যে জিনিসগুলো খুব দরকার যাত্রাপথে, সেগুলো ছাড়া বাকিগুলো বড় লাগেজে নিয়ে নিন। হাত যত হালকা রাখতে পারবেন, তত আপনার জন্য ভালো। কারন পথে বাচ্চা সামলানোর মহান দায়িত্ব আপনাকেই একা পালন করতে হবে। কয়েকটা ব্যাগ না করে সম্ভব হলে একটা ব্যাগ নিন। হাত খালি রাখতে চাইলে ব্যাকপ্যাক নিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে হ্যান্ড লাগেজ টানার চাইতে অনেকে পিঠে ব্যাগ ঝুলানো বেশি পছন্দ করেন। আবার ব্যাক পেইনের মতো  সমস্যা থাকলে হ্যান্ড লাগেজও টানতে পারেন। কী নিবেন ব্যাকপ্যাকে? বাচ্চার পানির বোতল, স্ন্যাক্সস (শুকনো বেবি সিরিয়াল, ড্রাই ফ্রুটস, চিপস, কুকিজ এই ধরনের  খাবার), পর্যাপ্ত ডায়াপার-ওয়াইপ্স, ব্রেস্টফিডিং করালে ব্রেষ্টফিডিং কাভার, প্যাসিফায়ার, বাচ্চার সবচাইতে পছন্দের খেলনা/বই/রং করার জিনিসপত্র (বয়স ভেদে), যাত্রাপথে দরকারি ওষুধ (টাইলানল/এডভিল, নাজাল স্প্রে, নাক বন্ধ হয়ে গেলে পরিষ্কার করার পাইপ, গ্যাসের ওষুধ), বাড়তি দুই এক সেট কাপড়, ছোট কম্বল, ছোট ট্রাভেল ব্যাগে বাচ্চার জন্য ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিম, লোশন নিতে পারেন, আপনার জন্য ওষুধ (মাথা ধরা, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, ইনহেলার, যার যা প্রয়োজন), টাকাপয়সা/ কার্ড রাখার পার্স, চ্যাপস্টিক, এবং অতিঅবশ্যই পাসপোর্ট। মোটকথা আপনার এই জার্নিতে লাগছে না, এমন কোন ভারী কিছু সাথে না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। 

পুরোটা পড়তে সহজে লগিন করুন

সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ এপ্রিল 14, 2020