স্বাভাবিক প্রসবের পর প্রসব পরবর্তী যত্ন (Postpartum Care)

সাধারনত হবু মায়েরা ডেলিভারীর আগে বা ডেলিভারীর সময়কার প্রস্তুতি নিয়ে এতো ব্যস্ত থাকেন, প্রসবের পরে যে নিজের শরীরের যত্নের প্রয়োজন হয়, সে সম্পর্কে জানতে আর তার প্রস্তুতি নিতে ভুলে যান।স্বাভাবিক প্রসবের পর মায়ের শরীরে অনেক ধরনের পরিবর্তন আসে। স্বাভাবিক প্রসবের (Vaginal Delivery) পর যেসব পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিকঃ

সাধারনত ডেলিভারীর পর বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পিরিয়ডের মতো রক্তপাত হয়। প্রথমদিকে এর প্রবাহ বেশী থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে কমে আসে। শুরুতে রক্তপাতের সাথে ছোট রক্তের পিন্ড বের হতে পারে। একে বলা হয় লশিয়া রুবরা (lochia rubra),এই রক্তবর্ণের স্রাব যেতে পারে প্রথম ৪-৭দিন।এরচেয়ে বেশি যদি স্থায়ী হয় তবে,ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যক। ৭দিনের মাঝেই,পরে সেটা চাকাচাকা না হয়ে পানির মতো হয়। এভাবে এই ডিসচার্জ আস্তে আস্তে গোলাপী বা হলদেটে থেকে সাদা বর্ন ধারন করে। সাধারনত এরকম ডিসচার্জ ডেলিভারীর পর ৪০ দিন পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে আরো আগেই বন্ধ হতে পারে। এই ডিসচার্জ চলাকালীন সময়ে কারো যদি খুব বেশী ব্লিডিং বা বেশ বড় রক্তপিন্ড বের হতে থাকে, ডিসচার্জ বাজে গন্ধযুক্ত হয় বা জ্বর থাকে সাথে, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। একেবারেই রক্তপাত বা স্রাব না হওয়ার ব্যপারেও পরামর্শ প্রয়োজন।

ডেলিভারীর পর প্রজনন অঙ্গগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ খানিকটা সময়ের প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিক প্রসবে অনেকের এপিসিওটমি লাগে বা টিয়ার থাকে, যা সারতে বেশ কয়েক সপ্তাহ সাধারণত ১২ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সময়ের সাথে ধীরে ধীরে এই ক্ষতগুলো সেরে উঠার কথা। যদি কোন কারনে ব্যাথা বেড়ে যায় বা ইনফেকশনের সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যোনীপথের স্থানে অনেক সময় হেমাটমা কিংবা সহজ বাংলায় মাংসপেশীর স্তরের মাঝে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। একে vulval haematoma বলা হয়। যার কোন ধরণের উপসর্গ দেখলেই অবশ্যই চিকিৎসকের নিকট যাওয়া প্রয়োজন।

স্বাভাবিক প্রসবের পর ব্লাডার এবং প্রস্রাবের রাস্তার আশেপাশের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, যেটি সারতে কিছুটা সময় নেবে। এসময় প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, বিশেষ করে পেরিনিয়াম এরিয়ায় কাঁটাছেড়া হলে, সেলাইয়ের জায়গা বেশ জ্বলতে পারে। অনেকের আবার ঘনঘন কিন্তু পরিমানে অল্প প্রস্রাব হয়। ডেলিভারীর পর ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু পুরোপুরি না সারা পর্যন্ত এই সমস্যা থাকতে পারে। অনেকের আবার কাশি বা হাঁচি দিলে অথবা জোরে হাসলে সামান্য প্রস্রাবের ফোঁটা বের হয়ে আসতে পারে। সাধারনত সময়ের সাথে সাথে এই সমস্যা দূর হয়। অনেকসময় আশেপাশের জায়গায় অতিরিক্ত ব্যথার ফলে স্নায়ুজনিত কারণে প্রস্রাব বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এক নাগারে, ১২ঘন্টা প্রস্রাব না হওয়া একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ব্যথার কারণে প্রস্রাবে সমস্যা হলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

পুরোটা পড়তে সহজে লগিন করুন

গুগল বা ইয়াহু বাটনে ক্লিক করে লগিন করুন। সমস্যা হলে সাপোর্টে নক করুন
সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ সেপ্টেম্বর 7, 2017