আমাদের দেশের অনেক মেয়েদের শরীরেই কোন না কোন পুষ্টির ঘাটতি থেকে যায়। ছোটবেলা থেকে উত্তম খাদ্যাবাস না থাকলে, সেটা বড় হওয়ার পর সহজে পূরন হয় না। এই ঘাটতিজনিত কারনে সমস্যাগুলো প্রকট হয় গর্ভকালীন সময়ে। এই সময়ে, মায়ের শরীর থেকেই বাচ্চা পুষ্টি সংগ্রহ করে। যথোপযুক্ত ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন-ডি, ফলিক এসিড- এসবের অভাব প্রেগন্যান্সীর কারনে শারীরিক দূর্বলতা বাড়িয়ে দেয় অনেক গুন। মায়ের খাবারের পুষ্টিগুনের ঘাটতি পূরন করে প্রি-নাটাল মাল্টিভিটামিন। এটি অনেক রকমের ভিটামিন আর মিনারেলের সমাহার। বিশেষ করে ফলিক এসিড, ক্যাসসিয়াম, আয়রন খুবই গুরুত্বপূর্ন। গোটা গর্ভকালীন সময়ে তো বটেই, প্রেগন্যান্সির পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগে থেকেই খাওয়া শুরু করতে পারেন প্রি-নাটাল মাল্টিভিটামিন।

ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন- কেন দরকার?

  • প্রেগন্যান্ট মায়েদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ফলিক এসিড। এই ফলিক এসিডের অভাবে অনেক সময় বাচ্চাদের জন্মগত ত্রুটি (Neural Tube Birth Defect) দেখা দিতে পারে। এতে মস্তিস্ক আর স্পাইনাল কর্ডের বৃদ্ধি ব্যহত হয়। এই ধরনের ত্রুটি (ঠোঁট কাটা, তালু কাটা, হার্টের সমস্যা) সাধারনত কনসেপশনের ২৮ দিনের মধ্যেই ধরা পড়ে। যে সময়টায় মায়ের জানাও হয়ে ওঠে না যে তিনি প্রেগন্যান্ট। আবার পরিকল্পনা ছাড়াই গর্ভধারন করা হলে, কখনোই সময়মতো জানা যায় না এই ত্রুটির ব্যাপারটি। সাধারনত যারা ইতিমধ্যে গর্ভধারন করেছেন, তাদের প্রতিদিন ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট ডাক্তার খেতে দেন। যদি আগে থেকেই শুরু করা যায়, তাহলে শরীরের ফলিক এসিডের ঘাটতি মিটিয়ে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি দূর করা সম্ভব।
  • বাইরের দেশগুলোতে তাই প্রেগন্যান্সির পরিকল্পনা শুরুর সাথে সাথেই প্রি-নাটাল মাল্টিভিটামিন খেতে পরামর্শ দেয়া হয়, যাতে প্রয়োজনীয় ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড থাকে। এর অভাবে শুধু যে বাচ্চার শারীরিক-মানসিক গঠন ব্যহত হয়, তা নয়। মায়েরও প্রি-এক্লেম্পশিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে অনেক বেশী। সবুজ শাকসবজি, টক জাতীয় ফল, বাদাম ইত্যাদি খাবারে ফলিক এসিড থাকে। এসব খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সাপ্লিমেন্ট খেলে আর ফলিক এসিডের অভাব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
  • প্রেগন্যান্সিতে থাইরয়েড যাতে ঠিকমতো কাজ করে, যেজন্য আয়রন ভীষন জরুরি। পর্যাপ্ত আয়রনের অভাবে শারীরিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়, শ্রবনশক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, মানসিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না। গর্ভবতী মায়ের শরীরে আয়রনের ঘাটতিতে মিসক্যারেজ হতে পারে। এমনকি বাচ্চা নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মাতে পারে। আয়োডিন মায়ের শরীর থেকে বাচ্চার শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করে।
  • ক্যালসিয়াম যে কোন বয়সের নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়, যখন গর্ভস্থ শিশুর বাড়তি ক্যালসিয়ামের অভাব পূরন হয় মায়ের হাড় আর দাঁত থেকে, অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট এই ক্ষতি থেকে মাকে রেহাই দিতে পারে। বাচ্চার মজবুত হাড় ও দাঁতের গঠন, মাংশপেশী, এমনকি সুস্থ হার্টের জন্য ক্যালসিয়াম বেশ দরকার।

সাধারনত প্রি-নাটাল মাল্টিভিটামিনে যা যা থাকে
ডাক্তার বিশেষ কোন কারনে বিশেষ কোন উপাদান যদি যোগ না করে থাকেন, তবে একটি প্রি-নাটাল মাল্টিভিটামিনে যেসব সাপ্লিমেন্ট সাধারনত থাকে-

  • ৪০০ মাইক্রোগ্রাম (এমসিজি) ফলিক এসিড
  • ৪০০ আইইউ ভিটামিন ডি
  • ২০০-৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
  • ৭০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি
  • ৩ মিলিগ্রাম থায়ামিন
  • ২ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাইবিন
  • ২০ মিলিগ্রাম নায়াসিন
  • ৬ মাক্রোগ্রাম বিটামিন বি১২
  • ১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-ই
  • ১৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক
  • ১৭ মিলিগ্রাম আয়রন
  • ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন (সূত্রঃ ওয়েব মেডি)

যাদের প্রেগন্যান্সিতে ইতিমধ্যেই বমিভাব হয়, তাদের ক্ষেত্রে কিছু প্রি-নাটাল ভিটামিনে বমিভাব বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে পরামর্শসাপেক্ষে ট্যাবলেটের বদলে অন্য ধরনের মাল্টিভিটামিন খেতে পারেন, যা আপনি চুষে খেতে পারবেন, অথবা পানির সাথে খেতে পারবেন।

কখন থেকে প্রি-নাটাল মাল্টিভিটামিন খেতে হবে?

যখন থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে গর্ভধারন করেছেন, তখন থেকেই খাওয়া শুরু করবেন।

আর পরিকল্পনা অনুযায়ী গর্ভধারনের ক্ষেত্রে, যখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করবেন, তখন থেকে শুরু করুন। গর্ভধারনের অন্তত তিন মাস আগে থেকে এটা খাওয়া শুরু করলে, মর্নিং সিকনেসের সম্ভাবনা কমে যায় অনেকখানি। এমনকি বাচ্চা হয়ে যাওয়ার পরেও, যেসব মায়েরা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদেরও উচিত শরীরের দরকারী উপাদানগুলোর ঘাটতি মেটানোর জন্য এই মাল্টিভিটামিন খাওয়া।

আমাদের দেশে সাধারনত ডাক্তাররা আয়রন, ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি এইসবের জন্য আলাদা আলাদা সাপ্লিমেন্ট দেন। প্রি-নাটাল মাল্টিভিটামিনে এইগুলো ছাড়াও অন্য সব দরকারী উপাদান একসাথে থাকে বলে, এই মাল্টিভিটামিন বেশ সুবিধাজনক।

সম্পর্কিত পণ্য: