উনাইসার তখন ১৮ মাস, যখন উমাইমাকে আল্লাহ আমার পেটে দিলেন। উনাইসা আমার প্রথম সন্তান। প্রথম সন্তান হওয়ার আগে মা এর অনেক যত্ন হয়। প্রথম একটা কিছু আসছে দুনিয়াতে। কিন্তু দিনকে দিন জিনিসটা কমতে থাকে। প্রথমবার যেমন বেবিসেন্টার এ্যাপ ঘেটে, লিস্ট করে সব করছিলাম, নিজের যত্ন নিচ্ছিলাম, এবার আর তা হলো না। এবার আমার সামনে ১৮ মাসের একটা বাচ্চা, যার পেছনে ঘুরে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, সব করতে হচ্ছে। মাথাতেই থাকতো না, আমি আবার মা হতে চলেছি। সারাদিন “উনাইসা, উনাইসা” করে, আবার আরেকটা বাচ্চা আসলে বাচ্চা কিভাবে সামলাবো, এটাই ভাবতাম।
আসলে ব্যাপারটা এমন না। বাচ্চা হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ মাকেও সেই শক্তি দিয়ে দেন আলহামদুলিল্লাহ। যাই হোক, মূল কথায় আসি। উমাইমার বার্থ স্টোরি লিখতে বসেছি।
উমাইমা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। শিখাটা নিজের জন্য লিখে রাখা দরকার। দিন দিন সব ভুলে যাই। কিন্তু আমি উমাইমার বার্থ স্টোরি একদম ভুলতে চাই না। মেয়েটা আমাকে মিরাকেল দেখিয়েছে। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা দেখিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
উমাইমা যখন পেটে আসল, তার কিছুদিন পর আবু উনাইসা বললো, ওর একটা স্কলারশিপ এক্সেপ্ট হয়েছে এবং ও কানাডাতে এ্যাপ্লাই করতে যাচ্ছে। এবং ওকে যেতে হবে। আমরা সাথে যাবো কিনা, এই নিয়ে চিন্তা করে শেষমেশ আল্লাহর নাম নিয়ে ফুল ফ্যামিলি একসাথে রওনা দিলাম। তখন আমার ৩২ সপ্তাহ শুরু হবে। প্লেনে ৩৪ থেকে আর ভ্রমণ করতে দেয় না।
