(যারা আমার দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার গল্পটা পড়েননি তাদের অনুরোধ করব এই গল্প পড়ার আগে “প্রথমবার ফোরসেপ, দ্বিতীয়বার প্রাকৃতিক প্রসবের গল্প” শিরোনামে আমার দ্বিতীয় লেবারের গল্পটা পড়ে আসার জন্য। সেটা আপনাকে এই গল্পের প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করবে।)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

প্রেগন্যান্সি পিরিয়ড 

আমার দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার চমৎকার অভিজ্ঞতা আমাকে উদ্বুদ্ধ করে প্রাকৃতিক প্রসব নিয়ে আরো ভালোভাবে জানতে ও সেটা নিয়ে কাজ করতে। তাই খুব করে চাইতাম AMANI Birth ফাউন্ডেশন এর সাথে চাইল্ড বার্থ এডুকেটর কোর্সটা যেন করতে পারি। ২০২০ সালে প্যানডেমিক এর সময় প্রথমবারের মতো ওরা কোর্সটা অনলাইনে অফার করে। রামাদানের পর জুন মাসে ২১ ঘণ্টার অনলাইন ট্রেনিং শুরু হয়।

জুলাইতে ট্রেনিং শেষ হয় আর অগাস্টে জানতে পারি আমি তৃতীয়বারের মতো মা হতে যাচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ। এবার আমি জার্মানিতে আছি। তখনো কোর্সটা কমপ্লিট করার জন্য একজন প্রেগনেন্ট মাকে প্র্যাকটিক্যালি পড়াতে হবে এবং আনুষঙ্গিক আরো কিছু বই পড়ে কুইজ জমা দিয়ে অবশেষে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে হবে। আল্লাহর রহমতে খুব অল্প সময়ের মাঝেই একজন প্রেগন্যান্ট মাকে প্রাক্টিক্যালি পড়ানোর সুযোগটা পেয়ে যাই। আমার তখন প্রথম ট্রাইমেস্টার চলছে। তৃতীয় প্রেগনেন্সি আর প্রথম প্রেগনেন্সির মাঝে পার্থক্যটা বুঝতে পারলাম। প্রথম প্রেগনেন্সিতে এই সময়ে অন্য কোন দায়িত্ব নেয়ার কথা কল্পনাও করতে পারতাম না। এবার কষ্ট হলেও সামলাতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। প্রথম ট্রাইমেস্টারের স্বাভাবিক গন্ধ লাগা, বমি ভাব এগুলো ছিল। তারপরও অন্য প্রেগনেন্সির তুলনায় অনেক ভালো ছিলাম, এমনকি এবার প্রথম ট্রাইমেস্টারে   হাঁটতেও বের হতাম। ঠিকমতো খেতে না পারার জন্য প্রথম ট্রাইমেস্টারের শেষে ওজন ২ কেজি কমে গিয়েছিলো। অনেকে এ সময় ওজন কমলে ভয় পান কিন্তু প্রথম ট্রাইমেস্টারে এমনটা হতে পারে।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন

একই সময়ে রৌদ্রময়ী স্কুল থেকে দেশের প্রথম অনলাইন প্রিনাটাল ক্লাস শুরু হলো। সেখানে ক্লাস নেয়ার জন্য মেটেরিয়ালস বাংলায় রেডি করে এরপর একে একে তিনটা ব্যাচের ক্লাস নিলাম, আলহামদুলিল্লাহ। তৃতীয় ব্যাচ ছিল আমার প্রেগনেন্সির দশম মাসে। প্রেগনেন্সির নবম মাসে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে অবশেষে চাইল্ড বার্থ এডুকেটর হিসেবে কোর্স শেষ করতে পারলাম আলহামদুলিল্লাহ।

এর মাঝে AMANI Birth বইটার বাংলা অনুবাদ অনলাইন রিডিং এর জন্য জমা দিতে হলো। বইয়ের বাংলা অনুবাদ অনলাইনে পড়ার জন্য লেখকের কাছে জমা দিলাম একদম ৩৯ সপ্তাহ যেদিন শেষ হলো সেই দিন। সেইসাথে, AMANI Birth চাইল্ড বার্থ এডুকেশন কোর্স পুরোটা বাংলায় অনুবাদের কাজ চলছে, পাশাপাশি সেটা দেখাশোনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম।

আমার চ্যালেঞ্জ, প্রস্তুতি ও হোম বার্থের সিদ্ধান্ত …

অসম্ভব ব্যস্ত একটা প্রেগনেন্সি পিরিয়ড পার করেছি এবার। কাজগুলো গুছিয়ে আনার চিন্তায় লেবারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছিলাম না। মনে হতো বাবু আরো কিছুদিন পেটেই থাকুক, আমি কাজগুলো শেষ করে নেই, বেশি করে খেজুর খাওয়া- হাঁটাহাঁটি এসব করতেও ভয় পেতাম যদি লেবার আগেই শুরু হয়ে যায়!

৩৯ সপ্তাহ একদিন থেকে দৈনিক সাতটা খেজুর খেতে শুরু করলাম। শীতকাল হওয়ায় এবং বাহিরে অনেক ঠান্ডা থাকায় মাঝে হাঁটতে যাওয়া কম হতো, তবে ঘরে ব্যায়াম করে গিয়েছি নিয়মিত। শেষ সপ্তাহে আবহাওয়া বেশ ভালো ছিল আলহামদুলিল্লাহ, আবারও নিয়মিত হাঁটতে যেতে শুরু করলাম এবং হাটার সময়ও ধীরে ধীরে বাড়ালাম।

তবে পুরো প্রেগন্যান্সিতে নিউট্রিশন এবং গর্ভকালীন ব্যায়াম চাইল্ডবার্থ এডুকেটর কোর্স করে যা শিখেছি যথাসম্ভব সেভাবে পালন করতে চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয় প্রেগনেন্সির শেষের দিকে কারপাল টানেল সিনড্রোমে হাতের ব্যথায় বেশ ভুগেছিলাম। সেটা থেকে উত্তরণের জন্য তখন যে ব্যায়ামগুলো করতাম সেগুলো এতদিন কন্টিনিউ করেছি এবং প্রেগনেন্সির সময়ও সেগুলো করে গিয়েছি। এবার আর সেই সমস্যাটা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। দ্বিতীয় বাবু হওয়ার ছয় মাস পর থেকে প্লান্টার ফ্যাসাইটিস সমস্যায় পায়ের গোড়ালিতে খুব ব্যথা হতো। সেটা থেকে আরাম পেতে পায়ের জন্য যে ব্যায়ামটা আগে থেকেই করতাম পুরো প্রেগনেন্সিতে সেটা করে গিয়েছে। আমার একটা অনেক বড় কন্সার্ন ছিল এই ব্যাথাটা নিয়েই। প্রেগনেন্সির শেষের দিকে ওজন বাড়ার সাথে সাথে যদি ব্যাথাটা বাড়ে তাহলে যেমন কষ্টকর হবে তেমন লেবারের সময়ে একটিভ থাকা এবং মুভমেন্ট করা আমার জন্য কষ্টকর হবে, এই ভেবে। আমার মিডওয়াইফকে এটা জানানোর পর ও আমাকে পরামর্শ দিল উষ্ণ গরম পানিতে ম্যাগনেসিয়াম ফ্লেক্স (epsom salt) দিয়ে পা ডুবিয়ে রাখার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ এটা করে প্রেগনেন্সিতে খুবই আরাম পেয়েছি। বলা যায় শেষের দিকে ব্যাথাটা একদমই চলে গিয়েছিল।

প্রথম ট্রাইমিস্টারে ব্লাড টেস্টে হিমোগ্লোবিন লেভেল সামান্য কম এসেছিল। তখন ডাক্তারের সাথে কথা বলেই আয়রন ট্যাবলেট খেয়েছিলাম। পঞ্চম মাসে মিডওয়াইফের সাথে প্রথমবার দেখা করতে গিয়েছিলাম, তখন ও বলেছিল যে আমি ডায়েট দিয়েই এটা মেনটেন করতে পারব তাই এরপর থেকে শেষ পর্যন্ত আর আয়রন ট্যাবলেট খাইনি। প্রেগনেন্সিতে যে পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণের প্রয়োজন হয় সেটা মেন্টেন করতে চেষ্টা করেছি এবং তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে স্বাভাবিকভাবেই যে আয়রন লেভেল কমে যায় এবং শ্বাসকষ্ট হয় সেটা এবার আর ফেস করতে হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ আমি নিজেই এমন রেজাল্টে অবাক হয়ে গিয়েছি!

এবার আরেকটা যে জিনিস থেকে খুবই উপকৃত হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ সেটা হচ্ছে সকাল ও রাত দুইবেলা টক দই খাওয়া। দ্বিতীয় প্রেগনেন্সির পুরোটা জুড়ে আমাকে গ্যাসের ট্যাবলেট খেতে হয়েছিল। এবার টক দই খাওয়ায় হজমের সমস্যা, বুকজ্বলা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম আল্লাহর রহমতে। সেই সাথে, দুধের পাশাপাশি দুই বেলা টকদই খাওয়া আমাকে খাবার থেকেই ক্যালশিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করত। টকদই আমি কখনো খালি খেতাম, কখনো সালাদের সাথে খেতাম, কখনও বা ফল অথবা বাদাম ও ড্রাই ফ্রুট মিশিয়ে খেতাম। তাজা ফল, সবজি, নানান রকম বাদাম ও বিচি বেশ খাওয়া হয়েছে এবার, হিমোগ্লোবিন লেভেল ঠিক রাখার জন্য বীট ও শাক খেয়েছি। কার্বোহাইড্রেট নন-প্রেগনেন্ট অবস্থার চাইতেও কম খেয়েছি, কেন যেন এবার খুব বেশি ক্ষুধাও লাগতো না।

এসব কারণে হয়তো আমার ওজন শেষ পর্যন্ত প্রায় আট কেজির মতো বেড়েছিল। বাবুর ওজন ছিল তিন কেজির চেয়ে সামান্য কম। পুরো প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডই এবার বেশ হালকা অনুভব করেছি, শরীরও বেশ ফ্লেক্সিবল লাগত। আমরা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে বসে খাই, এটার বাড়তি সুবিধা হিসাবে দেখলাম খাওয়ার সময় এমনিতেই গর্ভকালীন ব্যায়াম ‘টেইলর সিটিং’ হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের খাবার বেড়ে দেয়ার সময় প্রায়ই স্কোয়াট পজিশনে বসা হতো। লেবারের শুরুর ধাপে শেষ ফজরের ওয়াক্তের সালাতও স্বাভাবিকভাবে পড়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ।

আমার পেলভিক বোনে খুব ব্যথা হতো। ভিটামিন ডি (লিকুইড) সাপ্লিমেন্ট নেয়ার পর এই ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। এরপর আবহাওয়া ভালো দেখে কয়েকদিন হাটতে বের হই, তারপর ব্যথাটা প্রায় মিলিয়ে গিয়েছিল। শরীর বেশ ঝরঝরে লাগত কয়েকদিন টানা হাটার পর, আলহামদুলিল্লাহ।

এবার জার্মানির মেটারনিটি সিস্টেম নিয়ে একটু কথা বলি। এখানে প্রিনাটাল কেয়ারের জন্য ডাক্তার দেখানো যায়, হাসপাতালে গেলে হেড মিডওয়াইফের সাথে কথা হবে কিন্তু লেবার ও ডেলিভারির সময় ডিউটিতে যে মিডওয়াইফরা থাকবে তারাই এটেন্ড করবে। এই সিস্টেমটাতে আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। আমি এমন কাউকে আমার লেবার ও ডেলিভারির সময় চাচ্ছিলাম যার সাথে প্রেগনেন্সিতে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছে, লেবার ও ডেলিভারি সম্পর্কে আমার পছন্দ-অপছন্দগুলো যে জানে এবং সেই সময়ে  আমাকে সেভাবে সহযোগিতা করবে। সেই সাথে আমার লেবারের সময়ে আমার বড় দুই বাচ্চা কোথায় থাকবে এটা আমাদের একটা কন্সার্ন ছিল যেহেতু এখানে আমাদের আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই এবং বাঙালি কমিউনিটির সাথে আমাদের তেমন পরিচয় নেই। অন্য দেশের মুসলিমদের সাথে কিছুটা পরিচয় থাকলেও এবং তাদের থেকে সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সমস্যা হচ্ছে এই যে আমাদের বাচ্চারা তাদের ভাষা বুঝতে পারবে না। তার উপর রয়েছে করোনা পরিস্থিতি। নানা রকম নিয়মকানুনের পাশাপাশি হাজব্যান্ডের উপস্থিতিও সীমিত থাকবে, কিন্তু আমার হাজব্যান্ড বাবু হওয়ার সময় উপস্থিত থাকতে চাইছিল।

তবুও আমি হোম বার্থ এর ব্যাপারে ফাইনাল ডিসিশনে যেতে সাহস পাচ্ছিলাম না। মূলত আমার হাসবেন্ডই এই ব্যাপারে সাপোর্ট দেয়। এরপর শুরু হয় হোম বার্থ এটেন্ড করে এমন মিডওয়াইফের খোঁজ করা। এখানে এমন মিডওয়াইফের সংখ্যা কম এবং তারা প্রচুর ব্যস্ত থাকে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একজন মিডওয়াইফ আমাকে নিতে আগ্রহী হলো। তার ওয়েবসাইট দেখে এবং তারপর তার সাথে দেখা করে সামনাসামনি কথা বলে মনে হয়েছে যে আল্লাহ আমাকে সঠিক মানুষের কাছে নিয়ে এসেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। একটা সমস্যা ছিল, আমার মিডওয়াইফ খুব ভালো ইংলিশ পারে না এবং আমি জার্মান পারিনা। কিন্তু ও বলেছিল এটা ওর জন্য সমস্যা না, আমিও সাহস করে এগিয়েছিলাম এবং প্রেগনেন্সিতে ভিজিটগুলোতে প্রায় সময়ই আমাদের গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে কথাবার্তা চালাতে হতো! কিন্তু ওর এক্সপার্টাইজে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম মাশাল্লাহ। ও আমার পেট ধরেই বলে দিয়েছিল যে আমার প্লাসেন্টা পোস্টেরিয়র এবং পেট ধরেই ফ্লুইড লেভেল ঠিক আছে এটাও বলে দিতে পারতো। একদিন যেন আমাদের দেশেও এই লেভেলের দক্ষ মিডওয়াইফারি সিস্টেম থাকে এই দোয়া করি, আমিন।

লেবার ও ডেলিভারি

আমার হাটাহাটি মূলত ছিল পার্ক পর্যন্ত বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়া ও আসার সময়টা। ৪০ সপ্তাহ শুরু হওয়ার পর এর সাথে যোগ করলাম পার্কের রাস্তায় চক্কর দেয়া। দুই, তিন, চার বার করে বাড়াচ্ছিলাম প্রতিদিন।

মানসিকভাবে লেবারের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আগে থেকে তাই হয়ত লেবারের জন্য শারিরিক কোন লক্ষণও দেখা যাচ্ছিল না। এই সময় আমার প্রথম লেবার ইডিডি-এর অনেক পরে হওয়ার কঠিন সময়ের স্মৃতি আবার তাড়া করছিল। কেউ আমার খোঁজ করলেই অস্থির বোধ করতাম। মনে হতো, কেউ আমার খোঁজ না করলেই ভালো হতো এই সময়। এমন সময় একটা প্রেগন্যান্সি গ্রুপে একজনের পঞ্চম সন্তান ইডিডি-এর অনেক পরে হওয়ার ঘটনা পরে মনে সাহস পেয়েছিলাম।

৩৯ সপ্তাহ ৫ম দিনে সারাদিন ঝিমিয়ে ছিলাম, কোন কাজ করতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। কিন্তু বিকালে পার্কে হাটতে গিয়ে কোথা থেকে যেন খুব এনার্জি পাচ্ছিলাম। একের পর এক চক্কর দিয়ে গেলাম পার্কের রাস্তায়। হাজবেন্ড বলছিল একটু রেস্ট নিয়ে নিতে, তাই মাঝে কিছুক্ষণের জন্য থেমেছিলাম। শুক্রবার আসর থেকে মাগরিবের সময় ছিল সেটা। হাটছিলাম আর একটানা “রাব্বি ইয়াসসির, ওয়া লা তু’য়াসসির, রাব্বি তাম্মিম বিল খাইর” দুয়াটা পড়ে যাচ্ছিলাম। এর অর্থ হচ্ছে, “হে রাব্ব, একে সহজ করুন, একে কঠিন করবেন না, এবং এর শেষটা ভালো করুন।”

ছবি: ইন্টারনেট

৩৯ সপ্তাহ ৬ষ্ঠ দিনে ফজরের ওয়াক্তে একবার ওয়াশরুমে গেলাম। তখনো সালাতের সময় বাকি ছিল তাই আবার শুলাম। কিছুক্ষণ পর হাজবেন্ড বাইরে চলে যাচ্ছিল, যাওয়ার সময় বললাম যদি পেইন শুরু হয় অফিস থেকে চলে আসতে পারবে কিনা। বলল পারবে, আর জিজ্ঞেস করল পেইন শুরু হয়েছে কিনা। বললাম, জানি না এখনো, দুইবার মৃদু কন্ট্রাকশন হলো। উল্লেখ্য এই প্রেগন্যান্সিতে শেষ মাসে একবার পেইনফুল ব্র‍্যাক্সটন হিক্স কনট্র্যাকশন হয়েছিল।

যাই হোক, কিছুক্ষণ পর ফজর পড়তে উঠলাম। পড়া শেষে আবার কন্ট্রাকশন হলো। শেষ সপ্তাহে ফজরের পর ঘরের ভেতর হাটতাম। সেদিনও হাটলাম এবং হাটার সময়ও কয়েকবার হলো। ঘড়িতে দেখলাম দশ মিনিট পর পর হচ্ছে। ফজরের পর আমার দৈনন্দিন দুয়া ও কুরআন তিলাওয়াত সারলাম। এর মাঝেও কন্ট্রাকশন হলো। হাজবেন্ডকে জানিয়ে রাখলাম আর আমি সকালের নাস্তা খেতে গেলাম। হাজবেন্ড বলল এক ঘন্টার ভেতর কাজ গুছিয়ে চলে আসবে।

নাস্তা রেডি করতে গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে ছোটবেলার বান্ধবীদের সাথে কিছুক্ষণ মজাও করলাম।  তখনও বেশ ভালোই সামলাতে পারছিলাম। এমন সময় আমার বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে চলে আসে। ওদের বললাম বাবুটা গুতো দিচ্ছে, আজকে বের হতে পারে। যখন গুতো দিবে আম্মুর তখন একটা ব্যথা লাগবে আর আম্মু তখন এমন করব – হিপ রোটেশন করে দেখালাম। তোমরা ভয় পেও না।

ওদের আগে থেকেই বাবু হওয়ার সময়টা নিয়ে বুঝানো হতো। তাই ওরা সাথে সাথেই বুঝে গেল। নিজেরাই বলল, আজকে বাবু বের হবে! আমরা আজকে ভালো হয়ে থাকব, মারামারি করব না!

নিজে খেয়ে, বাচ্চাদের খাবার দিয়ে, সকালের ধোয়াধুয়ি সেরে ঘর গুছিয়ে ফেললাম। সেদিন ছিল আমার পুরো বাসা পরিষ্কার করার দিন। আগের বারের লেবার যে গতিতে এগিয়েছিল সেই হিসাবে ভাবছিলাম আমি হয়ত লেবারের শুরুর দিকেই আস্তে আস্তে ঘর পরিষ্কার করে ফেলতে পারব। কিন্তু দেখলাম কন্ট্রাকশনের মাঝে গ্যাপ দ্রুতই কমে আসছে আর তীব্রতাও বাড়ছে।

আমি আগের বারের মতোই হিপ রোটেশন করছিলাম, ডীপ ব্রিদিং করছিলাম আর রিল্যাক্স থাকতে চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু নিজেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার মুখ দিয়ে সামান্য শব্দ বের হচ্ছে, রিল্যাক্স থাকাও কষ্টকর মনে হচ্ছে! এত আগেই আমি এতটা তীব্র কন্ট্রাকশন আশা করিনি যে আমার মুখ থেকে কোন শব্দ বের হবে। আমি তখনো বুঝে উঠতে পারিনি যে আমার লেবার দ্রুত আগাচ্ছে।

মিডওয়াইফকে জানিয়েছিলাম, ও বলল আমি যখন চাই ও আসুক তখন ওকে জানাতে। হোম বার্থের ক্ষেত্রেও মিডওয়াইফরা বেশি আগে আসেনা, লেবারের শেষের দিকে আসে। এক ফাকে যমযমের পানি খেয়ে সহজ, প্রাকৃতিক প্রসব, সুস্থ সন্তান আর আমার সন্তানদের মাঝে মিলমিশ থাকার জন্য দুয়া করলাম। হাজবেন্ড তখনো আসেনি, লেবারের প্রগ্রেস একটু স্লো করার জন্য ভাবলাম চুপ করে বসে থাকি কিন্তু সেভাবে স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। প্রতি কন্ট্রাকশনে সোফা ধরে হিপ রোটেশন করছিলাম। দশটার দিকে হাজবেন্ড হন্তদন্ত হয়ে আসল, বললাম ঘর পরিষ্কার  করতে হবে। বাচ্চাদের আমার লেবারের সময় ব্যস্ত রাখার জন্য আগে থেকে কিনে রাখা লেগো সেট দিয়ে ও ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করে দিল। আমি এক ফাকে গিয়ে দুপুরে খাওয়ার জন্য আগে থেকে ফ্রোজেন করে রাখা আমার প্রিয় বাধাকপি দিয়ে গোসতের তরকারি বের করে রাখলাম।

এর মাঝে একবার ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম, আয়নায় নিজের চেহারা দেখলাম কন্ট্রাকশনের কারণে খুব সিরিয়াস দেখাচ্ছে। ভাবিনি যে এত তাড়াতাড়ি আমার লেবার আমার মাঝে সিরিয়াস আচরণ এনে দিবে।

আমার খুব গরম লাগছিল, বাইরে ঠান্ডা থাকার পরও বারান্দার দরজা খোলা রাখায় যে ঠান্ডা বাতাস আসছিল তা খুব ভালো লাগছিল। এর মাঝেই দেখলাম কন্ট্রাকশন প্রতি ৫ মিনিট পর পর আসছে। কখনো ৩ মিনিট গ্যাপেও নেমে আসছে। আমি তখন সোফার সামনে হাটু গেড়ে বসেছিলাম, কন্ট্রাকশন আসলে ওই অবস্থাতেই হিপ রোটেশন করছিলাম। আমার লেবারের কিছুদিন আগেই একজন আপুর বাবু হয়, উনি জানান যে হাত ও হাটুতে ভর দেয়া অবস্থায় ছিলেন এবং মনে হচ্ছিল এই কারণে উনার লেবার দ্রুত আগাচ্ছিল, কিন্তু অন্য কোন পজিশনে আরাম পাচ্ছিলেন না। আমারও তেমনই লাগছিল। উনার এই অভিজ্ঞতা আমাকে সাহায্য করেছিল মিডওয়াইফকে কখন আসতে বলব সেটা বুঝতে। মনে হচ্ছিল আমার লেবার বেশ দ্রুতই আগাচ্ছে, ১১টার দিকে মিডওয়াইফকে আসতে বললাম। ওর আসতে প্রায় ৩০ মিনিট লাগবে।

ও আসার পরই আমার মনে হচ্ছিল শুয়ে কিছুটা রেস্ট নিতে পারলে ভালো লাগবে। AMANI Birth কোর্সে শেখানো লেবারের জন্য উপযোগী বাম পাশ ফিরে বিশেষভাবে শোয়ার ভংগী এবার প্রেগন্যান্সিতে চর্চা করেছিলাম। সেভাবেই শুয়ে পরলাম। তীব্র  কন্ট্রাকশনের ফাকে বেশ কিছুক্ষণ রেস্ট নিতে পারলাম সেভাবে শুয়ে। কন্ট্রাকশনের গ্যাপও বেড়ে গেল। বেশ কোমর ব্যথা করছিল, মিডওয়াইফকে বললাম ম্যাসাজ করে দিতে। বেশ আরাম পেলাম সেভাবে। সেই অবস্থায় ৩ নাম্বার কন্ট্রাকশনের সময়ই আমি প্রথমবার পুশ করলাম। বুঝতে পারলাম এখন উঠে ডেলিভারির জন্য পজিশন নেয়ার সময় এসেছে। তার আগে ওয়াশরুমে গিয়ে সামনে বোতাম দেয়া একটা জামা পরে আসলাম।

বিছানার পাশে হাটু গেড়ে বসে বিছানার উপর কনুই রাখলাম। আমার হাটুর নিচে আগে থেকে কিনে রাখা ছোট একটা কার্পেট বিছিয়ে দিল হাজবেন্ড আর মিডওয়াইফ দিল পানি ও রক্ত শুষে নেয়ার জন্য একটা ছোট শীট। এনার্জি পাওয়ার জন্য হাজবেন্ড ছোট এক টুকরা খেজুর মুখে দিয়ে দিল। হাতের কাছে এনে রাখা পানি থেকে একটু খেলাম। অনেক বেশি গরম লাগছিল আমার, শীতের মাঝেও জানালা খোলা রাখতে বলছিলাম। হাজবেন্ড একবার রুমাল ভিজিয়ে আমার মুখ আর ঘাড় মুছে দিল। পুরো লেবারে মিডওয়াইফ আসার পর ও ৩ বার পোর্টেবল ডপলার দিয়ে বাবুর হার্টবিট চেক করেছে।

আমার ২য় লেবার আমাকে পুরো প্রক্রিয়ার সাথে কোপ করতে বেশ সময় দিয়েছে। সেই অসাধারণ অভিজ্ঞতা, সাথে চাইল্ডবার্থ এডুকেটর হিসাবে কোর্স করা ও ক্লাস নেয়া হয়ত আমাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী করেছিল। কিন্তু এই লেবার আমাকে আবারও বুঝালো, labor is labor! This labor really brought me on my knees!

রিল্যাক্স হতে পারছিলাম না, ডীপ ব্রিদিং-ও কষ্টকর হয়ে পরেছিল যদিও চেষ্টা করছিলাম। মিডওয়াইফ বলেছিল বেশি জোরে পুশ না করতে আর আমি চেয়েছিলাম পুশ না করে কন্ট্রাকশনের সময় ব্রিদিং এর সাহায্যে বাবু বের করতে পারি কিনা চেষ্টা করে দেখতে। কিন্তু পুরোপুরি পারিনি। মুখ দিয়ে কষ্টের ধ্বনি বের হয়ে আসছিল যদিও সেটা উচ্চস্বরে চিতকার ছিল না। আল্লাহকে ডেকেছি, কান্নাও চলে আসছিল, আগের বারের মতো প্রতি পুশের আগে “বিসমিল্লাহ” বলার মতো অবস্থা ছিল না, শুধু একবারই বলেছিলাম। মিডওয়াইফ বলেছিল একবার, “This is normal.” আমিও জানি এটা স্বাভাবিক কিন্তু ওর মুখ থেকে শুনে যেন স্বস্তি পেয়েছিলাম।

অবচেতন মনে ছিল, বাবুটা বের হয়ে গেলেই সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে। তাই সেদিকে মনোযোগ দিয়েছিলাম, কন্ট্রাকশনের তীব্রতার সময় না পারলেও প্রতিটার তীব্রতা কমে আসলে ব্রিদিং এর সাহায্যে বাবুকে বের করতে চেষ্টা করেছি। একসময় বাবুর মাথা সামান্য দেখা যেতে শুরু করল। মিডওয়াইফ বলল আমি নিচে হাত দিয়ে এখন বাবুর মাথা স্পর্শ করতে পারব। আমি হাত দিয়ে খুব অবাক হয়ে গেলাম, মনে হলো নাকের মতো নরম কিছু যেন ধরলাম!   

আমার এক পাশে মিডওয়াইফ, অন্য পাশে হাজবেন্ড ছিল। পানি ভাংগার আধা ঘন্টা পর একসময় বাবুর মাথা বের হয়ে আসে। মিডওয়াইফ আমাকে জানায়, “The head is born!”

আমার হাজবেন্ড বাবুর মাথা ধরে ছিল। পরের পুশে ওর পুরো শরীর বের হয়ে আসে আর ওর বাবাই ওকে ধরে। He literally caught the baby! আলহামদুলিল্লাহ!!

ঘটনার আকষ্মিকতায় বাবু কেদে উঠেছিল। তাড়াতাড়ি ওকে আগে থেকে কিনে রাখা তোয়ালে দিয়ে পেচানো হয়। আমি ঘুরে বাবুর দিকে ফিরে তাকে কোলে নেই, গায়ের সাথে মিশিয়ে রাখি। ওর বাবাকে মনে করিয়ে দেই আযান দেয়ার জন্য। অবাক হয়ে দেখলাম আযান দেয়ার সময় আমার হাজবেন্ডের গলা ভেংগে আসল! একসময় বাবুর কান্না থামে, আমাকে বলা হয় বিছানায় গিয়ে শোয়ার জন্য। বাবুকে কোলে নিয়ে বিছানায় শোয়ার পর পাশের রুম থেকে আমার বাচ্চাদের ডেকে আনা হয়। ওরা এসে কৌতূহল নিয়ে দেখে যায়।

এরপর প্লাসেন্টা ডেলিভারির জন্য আবার ওদের চলে যেতে বলা হয়। ওরা চলে যায়। এসব ওদের আগে থেকে বলা ছিল, ওরা বুঝত বাবু হওয়ার সময় মায়ের প্রাইভেসি প্রয়োজন হবে, শুধু যখন আসতে বলা হবে তখন আসতে পারবে। আগে থেকে কিনে রাখা বোলে প্লাসেন্টা বের হওয়ার পর নেয়া হয়। এবার প্লাসেন্টা ডেলিভারিতে প্রায় ৩০ মিনিট লাগে। এরপর আমার হাজবেন্ড বাবুর কর্ড কাটে। মিডওয়াইফ একটা সুন্দর উলের ফিতা দিয়ে কর্ড আটকে দেয়।

যোহরের ওয়াক্তের শুরুতে বাবুর জন্ম হয়। মোট সাড়ে সাত ঘন্টার মতো ছিল এবারের লেবার, কিন্তু সময় কম লাগলেও কন্ট্রাকশনগুলোর তীব্রতা বেশি ছিল।

পোস্টপার্টাম

আমার সামান্য টিয়ার ছিল, স্টিচ লাগেনি। মিডওয়াইফ যাওয়ার আগে তলপেটে বেল্ট পরিয়ে দিয়ে যায়। এবার এটা পরে বেশ আরাম পেয়েছি ডেলিভারির পর।

বাবু আমার কাছে এক ঘন্টা থাকার পর, বুকের দুধ (কোলাস্ট্রাম) খাওয়ার পর মিডওয়াইফ এসে বাবুকে ওজন করা সহ ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতা সারে। ও দুপুরে আমাদের সাথে লাঞ্চ করে, আমার তলপেট চেক করে, আমি একবার ওয়াশরুম ব্যবহার করার পর বিদায় নেয়।

যার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলে এই লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তিনি আমার হাজবেন্ড। প্রাকৃতিক বিষয়কে সেভাবেই দেখার ও অন্যের যত্ন নেয়ার গুণ আল্লাহ তার মাঝে দিয়েছেন। প্রেগন্যান্সির শেষ দুই মাস সপ্তাহে একদিন আমার হাজবেন্ড রান্না করত। আমার লেবার ও ডেলিভারির সময় মিডওয়াইফের সহযোগী হিসাবে উপস্থিত ছিল আমার হাজবেন্ড। পোস্টপার্টাম পিরিয়ডে আমার পর্যাপ্ত রেস্ট ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। যত্নে থেকে আমার সেরে উঠতে বেশি সময় লাগেনি আলহামদুলিল্লাহ। আমাকে দেখাশোনা করার জন্য আমার আম্মুও তাকে ধন্যবাদ দিয়েছে।

মাতৃত্ব সাইটের প্রসব পরবর্তী যত্ন ও ব্যায়াম নিয়ে আর্টিকেল আবারও পড়ি। ঘাড়ের ব্যায়াম, কারপাল টানেল রোধে যে হাতের ব্যায়ামগুলো করতাম সেগুলো ল্যাক্টেশন পিরিয়ডে না হওয়ার জন্য আবারো করতে শুরু করি। প্লান্টার ফ্যাসাইটিসের ব্যথাটা আবারো টের পাচ্ছি। আগের ব্যায়াম ও উষ্ণ পানিতে ম্যাগনেশিয়াম ফ্লেক্সের ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যাচ্ছি। একদম প্রথম দিন থেকেই (কোন স্টিচ না থাকায়) কেগেল ব্যয়াম শুরু করে দেই। কন্সটিপেশন না হওয়ার জন্য শাক, খেজুর, ফল খেয়েছি। তারপরও হেমোরয়েড হয়েছে, হোম রেমেডি চেষ্টা করছি আপাতত।

আমার বুকের দুধ আসে দ্বিতীয় দিনে আলহামদুলিল্লাহ। এ প্রসংগে মাতৃত্ব সাইটে একটা চমৎকার আর্টিকেল আছে “প্রাকৃতিক প্রসব বুকের দুধ খাওয়ানোতে সফলতা বৃদ্ধি করে” শিরোনামে।

সবচেয়ে অবাক হয়েছি এখানের মুসলিম কম্যুনিটির আন্তরিকতায়। বাবু হওয়ার পর প্রায় নয় দিন পর্যন্ত এখানের স্বল্প পরিচিত ভিন্ন ভাষা ও ভিন্ন দেশের মুসলিমরা বাসায় এসে খাবার দিয়ে গিয়েছে। এখানে আমরা এতটা ভালোবাসা পাব তা সত্যিই ভাবিনি, আলহামদুলিল্লাহ!!

আমল ও ইবাদাত

অনেকেই প্রেগন্যান্সিতে শারিরীক অসুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ইবাদাত করতে না পারার কারণে আফসোস করেন। এই ব্যপারে আমার ছোট্ট একটা টিপস আছে। আগে থেকেই যদি দৈনন্দিন ইবাদাতের একটা গোল সেট করা যায় তাহলে শারিরীক অসুস্থতার সময়ও ইবাদাতের একটা মিনিমাম লেভেল বজায় রাখা সম্ভব হয়।

এবার আমার বড় বাচ্চাদের কুরআন পাঠে সহযোগিতা করার জন্য নিজের তিলাওয়াতের মান আরো ভালো  করার প্রয়োজন অনুভব করি প্রেগন্যান্সির প্রথম দিকে। তাই উদ্যোগ নিয়েছিলাম নিজের তিলাওয়াতের মান ভালো করার। এই সুবাদে অন্য প্রেগন্যান্সির তুলনায় এবার বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

হোম বার্থ ও হোমস্কুলিং

হোম বার্থ হতে পারে বাচ্চাদের শিশু জন্ম নেয়া সম্পর্কে  ধারণা দেয়ার একটা চমৎকার সুযোগ। “হাসপাতাল থেকে বাবু নিয়ে এসেছি” এমন অদ্ভূত কথা বাচ্চাদের বলার চেয়ে বিষয়টাকে তাদের কাছে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসাবে তুলে ধরা যায় এর মাধ্যমে। ওরাও কৌতুহল চেপে রাখে না, চোখের সামনে ঘটা যা কিছু নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগে ওদের বোঝার মতো করে বুঝিয়ে বলা যায়। বাবু হওয়ার জন্য মায়ের স্কোয়াট পজিশনে থাকা, শাল দুধ, ব্রেস্টফিডিং ইত্যাদি বিষয়ে সহজভাবেই ধারণা পেয়ে যায়। সেই সাথে, বাবুর দেখাশোনায় এটা ওটা এগিয়ে দেয়া, কাপড়, রাবার শীট গুছিয়ে রাখা এসব করার মাধ্যমে নিজেদের ব্যস্ত রাখতে পারে, আবার গুরুত্বপূর্ণও মনে করে।

শেষ কথা

এপিসিওটমি ছাড়া, পেইন মেডিকেশন ছাড়া, লেবারকে দ্রুত করার জন্য আর্টিফিশিয়াল হরমোন দেয়া ছাড়া, বাচ্চার সাথে ইমিডিয়েট স্কিন-টু-স্কিন ও দেরীতে নাড়ী কাটা (delayed cord clamping)-সহ আরেকটা সক্রিয়, প্রাকৃতিক, সহজাত প্রসবের অভিজ্ঞতা হলো। এই জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর! 

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা