বয়স ০-৪ বছরঃ

শিশুর মনস্তত্ত্ব হোমস্কুলিং

মূলত ভাষা শেখার সময়। যে কয়টা ভাষা তাকে লং রানে শেখানোর ইচ্ছা তার সবগুলোই যতখানি পারা যায় এই বয়সে শিখিয়ে ফেলার চেষ্টা করা ভালো, সবচেয়ে কম সময়ে, একেবারেই চাপ না দিয়ে এবং কম পরিশ্রমে কাজ আদায় করা যাবে। উল্লেখ্য, ভাষা শেখা মানে আলাদাভাবে ব্যাকরণ বা শব্দ শেখা না। মাতৃভাষা যেভাবে আমরা শিখেছি একই ভাবে(সাবকনশাস ভাবে) ভাষা শেখানো। অর্থাৎ যে ভাষাটা শেখাচ্ছি তাতে শিশুকে বেশি বেশি এক্সপোজ করা, ঐ ভাষায় তার সাথে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কথা বলা, বই পড়ে শোনানো ইত্যাদি। কোনরকম কথা বলতে শেখা না, বরং ধীরে ধীরে প্রচুর বই পড়া বা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে যার যত শব্দভাণ্ডার ও কমপ্লেক্স বাক্য গঠনের স্কিল বাড়বে, ততই পরের ধাপের জন্য সে শক্তভাবে এগিয়ে থাকবে।

বয়স ৩-৭ বছরঃ

কল্পনাশক্তি বিকাশের সময়। শক্তিশালী কল্পনার জন্য ভাষায় ভালো দখল থাকা জরুরী। এ সময়ও ভাষা শিক্ষা চালিয়ে যেতে হবে। তবে ভাষা শিক্ষার চেয়ে ফোকাস বেশি থাকবে কল্পনাশক্তি বিকাশের দিকে। দুটোই একসাথে হতে পারে কল্পনাশক্তিকে শাণিত করে এ ধরণের প্রচুর সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে। এ ছাড়া কল্পনাশক্তি বিকাশকারী খেলাধুলা যেমন ডাক্তার, ফেরিওয়ালা ইত্যাদি বিভিন্ন চরিত্রের অভিনয় করা, চেয়ারে ওঠার মাধ্যমে ‘পাহাড়ে ওঠার’ খেলা, বাথটাবে বসে বসে ‘নৌকা চালানো’, কাল্পনিক বন্ধুর সাথে কথোপকথন, ইত্যাদি এ বয়সে গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স ৭-১০ বছরঃ

তথ্য মুখস্থ করার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। মুখস্থ আমাদের জন্য কষ্টের কাজ হলেও এই বয়সী বাচ্চারা তাদের আগ্রহের তথ্য মুখস্থ করতে ‘ভালোবাসে’। এবং সবচেয়ে দ্রুত মুখস্থ করতে পারে। দীর্ঘদিন মনেও রাখতে পারে। এই বয়সী বাচ্চারা যৌক্তিক আলোচনা পর্যালোচনার চেয়ে নিরেট তথ্যে বেশি আগ্রহ দেখায়, এবং এটাই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো। যেমনঃ ইতিহাস বই পড়ার সময় পড়ার মাঝে থেমে রাজা অমুক কাজটা করে ঠিক করেছেন না ভুল করেছেন, এই আলোচনায় তারা আগ্রহ দেখায় না। কী করেছেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই বয়সে খুব খেয়াল করে বাছাই করে বাচ্চাকে মুখস্থ করার জন্য তথ্যের যোগান দিতে হবে। এই সময়ে সে যা যা মুখস্থ করবে তার শক্তিশালিতা ও ব্যাপ্তির উপর ভিত্তি করে তার পরবর্তী ধাপ সহজ বা কঠিন হবে।

বয়স ১১-১৪ বছরঃ

এ সময় বাচ্চাদের আগের দুই ধাপের উপর ভিত্তি করে যৌক্তিক পর্যালোচনা, গঠনমূলক সমালোচনার দৃষ্টিভঙ্গি ও পারদর্শিতা গড়ে তোলার সময়। কল্পনাশক্তিতে দুর্বলতা থাকলে অথবা তার ‘জানার পরিধি’ বা মুখস্থের পরিমাণ কম হলে তার যৌক্তিক পর্যালোচনা ও ক্রিটিকাল থিংকিং এর সামর্থ্য কম হবে। এ সময়ে রাজা কী করেছিলেন এর চেয়ে রাজা কাজটা ঠিক না ভুল করেছিলেন, কেন ঠিক বা কেন ভুল এটা নিয়ে পর্যালোচনায় বাচ্চারা আগ্রহ বেশি পায়।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন

বয়স ১৪-১৭ বছরঃ

এ সময়ে বাচ্চা নিজের চিন্তাকে গুছিয়ে সাবলীলতার সাথে প্রকাশ করার যোগ্যতা অর্জন করে। এর আগে যা যা শিখেছে তার উপর ভিত্তি করে ভালো মানের ‘রিসার্চ পেপার’ লেখার জন্য এই বয়সে বাচ্চাকে তৈরি করতে হয়। শুধু অনেক জানা ও যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে পারাই শেষ না, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটিতে নিজের চিন্তাকে ত্রুটিহীনভাবে প্রকাশ করার দক্ষতা অর্জনের সময়।

ছবি কৃতজ্ঞতা: ফ্রিপিক

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা