তখনও জানি না আমি প্রেগন্যান্ট; সকালে ঘুম থেকে উঠার পর পা ফেলতে পারিনা এত ব্যথা পায়ে। কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে পা চুবিয়ে রাখলে স্বস্তি পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে দিন গড়াতে লাগলে ব্যথা কমে। কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না কেন এমন হচ্ছে। অনলাইনে সার্চ করে দেখলাম লেগ ক্র্যাম্পস এর অনেকগুলো কারণ এর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রেগনেন্সী । কী মনে করে একদিন সকালে হোম প্রেগনেন্সি কীট দিয়ে টেস্ট করে দেখলাম – পযিটিভ। বিশ্বাস হচ্ছিল না। কাউকে না বলে নিজেই হসপিটালে গিয়ে  HCG ব্লাড টেস্ট করতে দিয়ে আসলাম। পরদিন রেযাল্ট আসল – পযিটিভ। জানালাম আমার হাসবেণ্ডকে। অনেক শুকরিয়া আদায় করলাম আল্লাহ’র দরবারে। তখনও পায়ের ব্যথা কিছুটা আছে। আম্মু-আব্বুর সাথে দেখা করতে গেলাম কিন্তু তখনও কাউকে কিছু বলিনি। আব্বু চিকিৎসক হওয়ায় আব্বুকে জানালাম। খুশীতে আব্বুর চোখে পানি – বললেন বাসায় যাওয়ার পথে একটা আলট্রাসোনোগ্রাম করে যেও। তখন রাত প্রায় ১০টা বাজে। তাও আল্লাহ’র রহমতে একজন মহিলা সোনোলজিস্ট পেয়ে গেলাম। উনি প্রেগনেন্সী কনফার্ম করলেন আর বললেন আরো দু সপ্তাহ পর আরেকটা আলট্রাসোনোগ্রাম করতে – হার্টবীট চেক করার জন্য।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন

আম্মুর বাসায় এসে থাকলাম কিছুদিন। আম্মু তো শুনে অনেক দুয়া করলেন। আমার খুব ইচ্ছা ছিল নরমাল ডেলিভারীর। সবসময় আল্লাহ’র কাছে দুয়া করতাম যেন সবকিছু সহজ করে দেন। ডক্টর সিলেক্ট করার ক্ষেত্রেও অনেক খোঁজ নিয়ে এমন একজনের কাছে গেলাম যিনি নরমাল ডেলিভারী ট্রাই করার জন্য বেশ পরিচিত। আলহামদুলিল্লাহ প্রেগনেন্সীর পুরো সময়টা উনি আমেকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। আপনার প্রশ্নের ঝুলি শুনে কখনও বিরক্ত হননি। এমনকি ফাইনাল স্টেজে গিয়েও তিনি মনে সাহস দিয়েছেন নরমাল ডেলিভারীর ব্যপারে। আল্লাহ ওনার ভাল করুন।

এর মধ্যে ষষ্ঠ সপ্তাহে পা দিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম জেলীর মতো সাদা সাদা discharge যাচ্ছে। খুব ভয় পেয়ে গেলাম।   ডক্টরের appointment  নিলাম যলদি। ডক্টর Dydrogesterone tablet সাজেস্ট করলেন। দু সপ্তাহ পর আলট্রাসোনোগ্রাম করতে বললেন। আল্লাহ’র রহমতে আলট্রাসোনোগ্রামে হার্টবীট আসল।

আমি চলাফেরার ব্যাপারে সাবধান হলাম। দিন গুনছি আর দুয়া করছি যেন সব ঠিকঠাক থাকে। হালকা হালকা পড়াশোনা শুরু করলাম। অবাক হলাম জানতে পেরে যে প্রেগনেন্সী নিয়ে অনেক রিসোর্স আছে অনলাইনে- আর্টকেল, ভিডিও ইত্যাদি। অ্যাপ ডাউনলোড করে নিলাম যেটিতে প্রেগনেন্সী ট্র্যাকিং থেকে শুরু করে উপকারী আরো অনেক টূল ছিল। কিছু প্রেগনেন্সী গ্রুপে সাবস্ক্রাইব করে নিলাম যেখান থেকে অনেক উপকারী টিপস এবং পরামর্শ পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। পরিচিত প্রিয় এক বোন অনেক হেল্প করেছেন নরমাল ডেলিভারী সঙ্ক্রান্ত রিসোর্স শেয়ার করে।

আমার Morning sickness হয়েছিল প্রেগনেন্সীর শুরুর দিকে। কিছু খেলেই বমি হয়ে যেত। খাবারের গন্ধ সহ্য করতে পারতাম না। কিন্তু আল্লাহ’র রহমতে প্রথম Trimester এর পর আর এমনটা হয়নি।

দেখতে দেখতে আরও কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে ১৫তম সপ্তাহে পা দিলাম। একদিন দেখি একটা ছোটো ব্লাড ক্লট গেল। ইন্না লিল্লাহ পড়তে পড়তে বাসার সবাইকে জানালাম। ভয়ে আমি অস্থির! মিসক্যারেজ সংক্রান্ত যত গল্প শুনেছি সব মনে পড়তে লাগল। অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। ফোন করলাম পরিচিত এক গাইনী ডক্টরকে- উনি বললেন একদম  bed-rest এ  থাকতে আর Hydroxyprogesterone ইঞ্জেকশান দিতে বললেন। কাছের হস্পিটালের গাইনী ডক্টরের সাথে দেখা করলাম অবিলম্বে। ডপ্লার দিয়ে চেক করে বললেন হার্টবীট ঠিক আছে আলহামদুলিল্লাহ্‌। বললেন টেনশন না করতে – অনেক সময় এরকম ব্লিডিং হয়ে থাকে। আলট্রাসোনোগ্রাম করতে বললেন।

আলট্রাসোনোগ্রামে দেখা গেল – low lying placenta অথবা Placenta Previa । প্লাসেন্টাটা জরায়ুর মুখের খুব কাছে। পড়াশুনা যতটুকু করেছি তাতে জেনেছি যে এই ক্ষেত্রে সি-সেকশন ছাড়া উপায় থাকে না। আমার নরমাল ডেলিভারীর সব স্বপ্ন যেন চুরমার হয়ে গেল। এর মধ্যে ইঞ্জেকশান এর এক ডোজ নিলাম। চলাফেরা একেবারে বন্ধ রাখলাম। রুমের বাইরে বের হতাম না; শুধু বিছানা থেকে ওয়াশরুম। আমার নিজের ডক্টরের সাথে দেখা করার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম। এক সপ্তাহ পর appointment  পেলাম। খুব সাবধানে গেলাম হস্পিটালে। তিনি বললেন rest এ থাকতে। আর আশ্বাস দিলেন যে অনেক সময় প্রেগনেন্সীর লেইট স্টেজে placenta সঠিক position  এ চলে আসে। বললেন ইঞ্জেকশান দরকার নেই।

এরপরের ৫টা মাস ডেলিভারী পর্যন্ত আমি বলতে গেলে rest  এই থেকেছি। সবাই বলতো হাঁটাহাঁটি না করলে তো নরমাল ডেলিভারী হয় না ইত্যাদি। আমার খুব মন খারাপ হতো আর দুয়া করতাম আল্লাহ’র কাছে। আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব! ২০তম সপ্তাহের দিকে Anomaly scan  করলাম ডক্টরের পরামর্শে। আলহামদুলিলাহ নরমাল রিডিং আসল। ২৬-২৭ সপ্তাহের দিকে একদিন হঠাৎ সারা দিন কোনো মুভমেন্ট পাচ্ছিলাম না বেবীর। রাতে খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। হস্পিটালে গেলাম Emergency তে। রাত বাজে প্রায় বারোটা। সোনোলজিস্টকে বাসা থেকে কল করা হল। তিনি হন্তদন্ত হয়ে আসলেন প্রায় ৪৫ মিনিট পর। আলট্রাসোনোগ্রাম করে বললেন সব ঠিক আছে। আমি প্লাসেন্টার position কেমন জানতে চাইলাম। বললেন low lying  কিন্তু জরায়ু মুখ থেকে কিছুটা সেইফ দূরত্বে। জানে পানি আসল। অনেক শোকর করলাম আল্লাহ’র দরবারে। তাও আমি সাবধানেই থাকতাম। খুব একটা চলাফেরা করতাম না।

প্রেগনেন্সীর পুরো সময়টা আমার দু’টো জিনিস ছিল – Lower abdominal pain আর Acid reflux. পরেরটার জন্য পুরো সময় এন্টাসিড খেয়েছি ডক্টরের পরামর্শ অনুযায়ী। তবে পেইনের জন্য কোনো ঔষধ খাইনি সহ্য করে গেছি। এই পেইন আমার ডেলিভারীর পরও কিছুদিন পর্যন্ত ছিল।

দেখতে দেখতে সময় ঘনিয়ে এল EDDর। ঈদুল ফিতর এল। আমার EDD  ঈদের দিনের ঠিক দু’দিন পর। সেই ঈদের স্মৃতি আমার সব সময় মনে থাকবে। সবাই ঈদের আনন্দ করছে আর আমি anxiously  অপেক্ষা করছি পেইন ওঠার জন্য!একটু moisture টের পেলেই মনে হত এই বুঝি water break করল। শুনেছি induced পেইন নাকি অনেক বেশী পেইনফুল। তাই মনে মনে অনেক নার্ভাস লাগছিল।

 

দিনটি ছিল বৃহস্পতবার। ৪ঠা শাওয়াল। ১লা শাওয়াল তথা ঈদুল ফিতরের মাত্র দু’দিন পর। চারিদিকে তখনও ছুটির আমেজ।

আমার EDD। আগের দিন সারাটি দিন ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম – শেষ পর্যন্ত কি তাহলে আমার আর নরমাল ডেলিভারি হবে না? পেইন তো এখনও উঠল না অথচ এক্সপেকটেড ডেলিভারি ডেইট চলে আসলো। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টা পর্যন্ত ছোট বোনের সাথে গল্প করলাম একটু হালকা বোধ করার জন্য। ওকে বললাম দোয়া করতে – শুনেছি ড্রিপ দিয়ে পেইন ওঠালে নাকি অনেক বেশী পেইন হয় এবং cervix ডাইলেট হতে নাকি অনেক বেশী সময় লাগে। বেশীর ভাগ মা’কেই নাকি সেক্ষেত্রে সি-সেকশনে যেতে হয়। এরকম নানা চিন্তা আর একরাশ ভয় নিয়ে শু’তে গেলাম – রাত তখন দু’টা। সকাল ৭ টায় হাসপাতালে যেতে বলেছেন ডক্টর। আটটার দিকে induce করা হবে।

এপাশ ওপাশ করছি। সোয়া দু’টার দিকে হালকা ব্যথা টের পেলাম। সাবধান হয়ে গেলাম – তবে কি labor পেইন শুরু হল নাকি? মোবাইলে আগে থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করা ছিল যেখানে contraction timer ফিচারটি ছিল। ওটা অন করে দিলাম। পাশাপাশি অনলাইনে সার্চ করতে লাগলাম labor পেইন নিয়ে। ঠিক ১০ মিনিট পর আবার সেই ব্যথা। অনেকটা টয়লেট এর বেগ এর মতো। উঠে বাথরুমে গেলাম। আবার ব্যথা। আস্তে আস্তে তীব্রতা বাড়ছে। Timer চেক করলাম। টাইম গ্যাপ ৭ মিনিটে চলে এসেছে। ইন্টারনেট ঘেটে দেখে নিলাম labor পেইনের symptoms – যদিও অনেক বার পড়েছি তবুও নিশ্চিত হওয়ার জন্য। নিশ্চিত হলাম যে ট্রু labor পেইন। বাসার কাউকে ডাকিনি তখনও। ভোর ৪টা বাজে প্রায়। হাসব্যান্ডকে কল করলাম। ও শুনেই বলল যলদি সবাইকে ডাকো। আম্মু-আব্বু ফজর পড়তে উঠলে তাদের ডাকলাম। ড্রাইভার আসার কথা ৭ টার দিকে। ওনাকে কল করার সাথে সাথে রওনা দিলেন। আমি ফজরের সালাত পড়ে নিলাম।

ভোর তখন সাড়ে ৬টা। হাসপাতলে পৌঁছলাম। ৪ মিনিট পর পর ব্যথা উঠছে। তীব্রতাও বেড়েছে।Emergency তে গেলাম; ওরা admit করে labor ওয়ার্ডে নিয়ে গেল। সাথে কাউকে যেতে দিচ্ছে না। আমার সাথে কিছু নিতেও দিল না। নিতে পারলাম শুধু এক বোতল পানি – যমযম পানি। এরকম সময়ে কোনো আপনজনকে কাছে পাওয়া যে কী জরুরী তা সেদিন টের পেলাম। খুব ইচ্ছা করছিল আম্মুকে ধরে থাকতে। নার্স গাউন পরিয়ে শুতে বলল আমাকে। স্যালাইন ড্রিপ শুরু হল। Duty ডক্টর আসলেন দেখতে। CTG করলেন প্রায় আধা ঘন্টা। এরপর পিভি চেক করলেন- 4cm ডাইলেটেড cervix।

দেখতে দেখতে ৮টা বাজল। ব্যথা অসহ্য লাগছে। অনেক request করলাম আমার নিজের ডক্টরকে কল করতে; নার্স বলল উনি ৯টায় আসবেন। ৯টা? সেতো অনেক দেরী! আমার কাছে তো প্রতি মুহুর্তই মনে হচ্ছে এক একটা বছর! অনেক request এর পর আমার মা’কে ভেতরে আসতে দেয়া হল। আমি তখন পর্যন্ত হালকা শব্দ ছাড়া জোরে কোনো শব্দ করিনি; যদিও ব্যথা তখন তীব্র। আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে labor পেইন সহ্য করেছে চার চার বার! আম্মু বলল, ডেলিভারির পর বাচ্চাকে দেখেই মায়েরা সব ব্যথা ভুলে যায়। আমার নানী শাশুড়ির কথা মনে পড়ছিল যার ৮ জন সন্তান। এক ফুফুর কথা মনে পড়ছিল যার ১৩ জন সন্তান! কীভাবে সহ্য করেছেন তারা?

সবচেয়ে বেশী মনে হচ্ছিল মারীয়াম (আলাইহাস সালাম) এর কথা। আমি এয়ার কন্ডিশন্ড রুমে এত ফ্যাসিলিটির মধ্যে থেকেও ব্যথা সহ্য করতে পারছিনা; আর তিনি তো ছিলেন সম্পূর্ণ একা! ভাবা যায়! আম্মুকে বললাম আমার মনের ভাবনাগুলো; ততোক্ষণে দেখি আম্মুর চোখেও অশ্রু – আমার কষ্ট দেখে। সুরা মারীয়াম পড়তে লাগলাম আর একটু পর পর যমযম এর পানি খেতে লাগলাম। মনে মনে ঠিক করলাম আমার মেয়ে হলে নাম রাখবো – মারীয়াম।

এর মাঝে নার্স এসে স্যালাইনে কোনো মেডিসিন মিশিয়ে দিলেন। কিছু পড়াশোনা করা ছিল বলে বুঝতে পারলাম – Pitocin – পেইন induce করার ঔষধ। যাতে করে cervix  ডাইলেট হয় আরো দ্রুত।

সকাল সাড়ে নয়টা। প্রতি মিনিটে কনট্রাকশন হচ্ছে। আমি ডক্টরের প্রতীক্ষায় অধীর। ব্যথা সহ্য করতে পারছিনা আর। ডক্টর আসলেন; সাথে সাথে আমার আর্জি – এপিডিউরাল নেয়া যাবে কি? তিনি বললেন পিভি করে দেখি কী অবস্থা। উনি পিভি করার আগেই বলে বসলাম – “Doctor, can I go for a C-section?”  আর পারছিলাম না ব্যথা সহ্য করতে! পিভি করেই ওনার মুখ উজ্জল! হাসিমুখে বললেন, “এপিডিউরালও লাগবে না, সি-সেকশনও করতে হবে না। Cervix 8cm ডাইলেটেড। দেড়-দুই ঘন্টার মধ্যেই ডেলিভারি হয়ে যাবে আশা করা যায় ইন শা আল্লাহ।” আমি আঁতকে উঠলাম – দেড়-দুই ঘন্টা! আমি তো আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করতে পারছিনা!

তখনও water break হয়নি। ডক্টর water break করে দিয়ে চলে গেলেন। Pitocin এর মাত্রাও মনে হল যেন বাড়িয়ে দিল। এর মধ্যে হল আরেক বিপদ – হাত থেকে হঠাৎ cannula গেল খুলে। এর পর আরও কত পয়েন্টে যে চেষ্টা করল কিন্তু ভেইন পাওয়া যাচ্ছিল না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল – একে লেবার পেইন তার উপর এই টানাহেঁচড়া। শেষমেশ পাওয়া গেল একটা ভেইন।

১০টা বাজে। আমি তখনও ব্যথা সহ্য করে যাচ্ছি। কয়েক সেকেন্ড পর পর contraction –  এই অবস্থায় আমাকে বলা হল বেড থেকে নেমে এক্সারসাইজ করতে। Squatting এক্সারসাইজ। প্রত্যেক বার squat করার সময় আমি ব্যথায় অস্থির হয়ে নিজের হাত কামড়ে দিচ্ছিলাম; নার্স বললেন হাত না কামড়ে আপনি mattress এ কামড় দেন। ক্ষণিকের জন্য মনে হচ্ছিল একটা teether হলে খুব ভাল হতো। পরবর্তীতে অন্যান্য বোনদের পরামর্শ দিয়েছি সাথে teether রাখতে।

কিছুক্ষণ এক্সারসাইজ করার পর আবার বেডে শু’তে বলল। পিভি চেক করতে request করলাম- তারা জানালেন এত ঘন ঘন তো পিভি চেক করতে হয় না। পেটে হাত দিয়ে কিছু একটা বুঝতে চেষ্টা করলেন। বললেন বাবুর মাথা আরো নীচে নামতে হবে। আবারো নামালেন বেড থেকে – এক্সারসাইজ করালেন আবার; খুবই কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু তখনো আমি সহ্য করে যাচ্ছি।

সাড়ে ১০টা বাজে। আমি আর পারছিনা। এবার শুরু হলো আমার screaming। আমার অবস্থা দেখে নার্সরা যলদি ডেকে আনলেন duty doctor কে। তিনি পিভি করে অস্থির হয়ে গেলেন – “Active labor – তাড়াতাড়ি রেডি কর।” আমাকে বললেন আমি আওয়াজ না করায় তারা বুঝতে পারছিলেননা যে আমার labor এতদূর progress হয়েছে! আমার পা তুলে ধরা হল; episiotomy  করা হল। এবার পুশ করার পালা। আমাকে বলা হল ব্যথা উঠলেই পুশ করতে। ট্রাই করলাম – হল না। কিছুক্ষণ পর আবার; না এবারও হল না। তারা বললেন সমস্ত শক্তি দিয়ে পুশ করতে – প্রোয়োজনে scream করতে। তৃতীয়বার  ট্রাই করলাম সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে এবং টের পেলাম কোন একজন নার্স পেটে চাপ দিলেন – আলহামদুলিল্লাহ – এবার কাজ হয়ে গেল। বাচ্চাটা চোখ ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে বের হল। ওকে প্রথম দেখে যে অনূভতি হল তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

ওকে টাওয়েলে পেঁচিয়ে নিয়ে গেল রুমের কোণে vitals  চেক করার জন্য। ডক্টর বললেন – “মেয়ে বাবু হয়েছে; নাম কী রাখবেন?” আমি নির্দিধায় বলে ফেললাম – “মারীয়াম!”

এবার আমার placenta  বের হওয়ার পালা। অনেকের এক্সপেরিএন্স শুনেছি বা পড়েছি যে placenta বের করা নাকি আরেকটা ডেলিভারির সমান। তাই মনে মনে ভয় পাচ্ছিলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ দুই মিনিটের মাঝেই placenta বের হয়ে গেল। ডক্টর সেলাই করছেন আর আমার সাথে হালকা রসিকতা করছেন – “ঈদের পর জন্ম হয়েছে তো কী হয়েছে? ঈদের জামা যেন পায় বেবীটা।” ওদিকে আমার সোনামণিটার প্রথম কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অস্থির লাগছিল ওকে ধরার জন্য।

Vitals  চেক করে আমার কাছে নিয়ে আসলো বেবীকে। আমাদের দু’জনের প্রথম চোখাচোখি – এক অমূল্য অভিজ্ঞতা! ডক্টরকে জিজ্ঞেস করলাম ওর Apgar score কেমন এসেছে। তিনি বললেন excellent। টীমের সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে post-labor ওয়ার্ডে গেলাম। মনে মনে অসংখ্যবার শোকর করলাম – সত্যি, আল্লাহ’র রহমত ছাড়া এত সহজে সব কিছু হওয়া সম্ভব হতো না। দোয়া যে মূ’মিনের কত বড় অস্ত্র; আল্লাহ’র কাছে প্রাণ ঢেলে দোয়া করলে যে আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন – এই বিশ্বাস আরো দৃঢ় হল সেদিন।

 

[লিখেছেনঃ উম্মে মারীয়াম]

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা