প্রথম ট্রাইমিস্টারের প্রায় অর্ধেক শেষ হতে চলল। গর্ভধারণের ষষ্ঠ সপ্তাহে এসে এর লক্ষণগুলো অাপনার শরীরে পুরোমাত্রায় দৃশ্যমান। একইসাথে ভ্রুণের গঠনে খুব দ্রুত পরিবর্তন আসছে।

আপনার শরীরে যা পরিবর্তন আসবে

  • ঘনঘন প্রস্রাব: বাড়ন্ত ভ্রুণটিকে জায়গা করে দিতে জরায়ু ধীরে ধীরে বড় হওয়া শুরু হয়েছে। এই জরায়ু আবার মূত্রথলীর (Bladder) উপর চাপ তৈরী করা শুরু করে। যেজন্য ঘনঘন বাথরুমে যাওয়ার দরকার পড়ে। এমনকি রাতেও ঘুম থেকে উঠে কয়েকবার বাথরুমে যেতে হতে পারে। এইসময়টায় দেখতে একদমই প্রেগন্যান্ট মনে হয় না। সেকেন্ড ট্রাইমিষ্টারে পৌঁছাবার পর, জরায়ু বাচ্চার জন্য যথেষ্ট পরিমান বড় হওয়ার সাথে সাথে এই চাপ কমে যাবে।
  • হজমে সমস্যা: যে কোন খাবার হজমে সমস্যা হতে পারে। অনেকেই প্রবল গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগের। বুক জ্বালা-পোড়া, বদহজম অস্বাভাবিক কিছু নয়। খাবার ভালোমতো চিবিয়ে খেলে সহায়ক হতে পারে।
  • ক্লান্তি: ভ্রুনের দ্রুত বৃদ্ধি এবং তার পুষ্টির যোগান, ক্লান্তির অন্যতম কারন। শারীরিক মানসিক বহুর্মুখী পরিবর্তনে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। অন্য সময়ে অনেক কাজ করতে পারা মানুষটি এই সময় খুব অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন।
  • স্তনের পরিবর্তন: স্তনের নরম ভাবের সাথে সাথে বাহ্যিক পরিবর্তনও লক্ষ্যনীয়। শিশুর প্রথম খাদ্যের যোগানের জন্য এইসময় থেকে তার প্রস্তুতি শুরু হয়। স্তন আকারে বড় মনে হবে, এরিওলা (স্তনবৃন্তের চারপাশের বাদামী অংশ) কালো হতে থাকবে।
  • বমিভাব: প্রথম ট্রাইমিস্টারে অনেকেরই মর্নিং সিকনেস থাকে। যা থেকে বমিভাব এমনকি অনেকবার বমিও হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বমিভাব দ্বিতীয় ট্রাইমিস্টারে চলে যায়।
  • প্রস্রাবে সমস্যা: অনেকের এসময় প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া হয়। ইউরিনারী ট্রাক্ট ইনফেকশন (Urinary Tract Infection) থেকে এটা হতে পারে। এরকম হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন।

বাচ্চার বেড়ে উঠা

এই সপ্তাহ থেকে আস্তে আস্তে ভ্রুণের মুখের আদল আসা শুরু হচ্ছে। চোখের কোটরের জন্য জায়গা তৈরী হচ্ছে, মুখ, কান নাসারন্ধ্রের জায়গাগুলোতে ছোট্ট গর্ত। এই সময় ভ্রুনের আকার ছোট ডালের দানার সমান। ভ্রুণে হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠ তৈরী হয়েছে। মায়ের চেয়ে হার্টবিট দ্রুতগতির হয়। বাচ্চার হার্টবিট আলাদা শোনা যাবে।

ভ্রুণে রক্তসঞ্চালন হচ্ছে। যকৃত, ফুসফুস, প্যানক্রিয়াসের গঠন শুরু হয়েছে। এই সময় ভ্রুণের নড়াচড়া শুরু হয়েছে। কিন্তু তা আকারে এতই ছোট যে এর নাড়াচাড়া বাইরে থেকে মা টের পাবেন না।

এ সপ্তাহে আপনার জন্য টিপস

  • প্রথম ট্রাইমিস্টারে ভিজিটের জন্য ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিন।
  • অনেকেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সাথে সবাইকে জানিয়ে দেন। প্রথম কয়েক সপ্তাহে যেহেতু মিসক্যারেজ, এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির (Ectopic pregnancy) সম্ভাবনা থাকে, কিছু সময় অপেক্ষা করে সবাইকে জানাতে পারেন।
  • প্রেগন্যান্সির শুরুর দিকে অনেকেই কিছুটা ওজন হারান। এতে ঘাবড়ে যাবেন না। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ওজন বাড়া শুরু হবে।
  • মর্নিং সিকনেসের সমস্যা থাকলে কখনো পেট খালি রাখবেন না। রাতে শুতে যাওয়ার আগে হালকা স্ন্যাক্স খেতে পারেন। বমিভাব হলে অনেক সময় আদা কাজে দেয়। হাতের কাছে রাখতে পারেন। লেবুর শরবত খেতে পারেন।
  • ক্ষিধা লাগলেই জাঙ্ক ফুড খাবেন না। কিশমিশ, বাদাম, ড্রাই ফ্রুটসের মতো হালকা স্ন্যাক্স হাতের কাছে রাখুন। বাসার বাইরে গেলেও ব্যাগে খাবার-পানি রাখুন।
  • প্রচুর পানি খান। শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেবেন না। প্রস্রাবে সংক্রমণের (Urine Infection) ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • সক্রিয় থাকুন এবং একই সাথে বিশ্রাম নিন। বিশ্রাম নেওয়ার অর্থ সারাদিন শুয়ে বসে থাকা না। বরং কাজ, হাঁটা, হালকা ব্যায়ামের ফাঁকে শক্তি সঞ্চয় করা।
  • স্তনের পরিবর্তনের সাথে মিলে রেখে ব্রা’র সাইজ বদলে নিন। আঁটসাট কিছু না পরে, সাপোর্টিভ আরামদায়ক ব্রা বেছে নিন।
  • বমি বেশী হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

নিজের শরীরে যত্ন নিন। আপনার মনের অবস্থা নিয়ে স্বামীর সাথে কথা বলুন। নিজের ভেতর চেপে রেখে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে, মুড সুইং নিয়ে খোলাখুলি আলাপ করুন।

[sc name=”prenatal-tab”]