সাধারণত ৪০ সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময়ে প্রসব বেদনা উঠার সম্ভাবনা থাকলেও গর্ভাকলীন সময়ক এতই অনিশ্চিত, যে কোন সময় হাসপাতালে যাওয়ার দরকার হতে পারে। সেখানে থাকাকালীন যেসব জিনিস দরকার হতে পারে, সেগুলো সবকিছু আগে থেকে গুছিয়ে হাতের কাছে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩৫ সপ্তাহের মধ্যে অবশ্যই নিজেকে প্রস্তুত রাখুন, কারন এই সময়ে বাচ্চা পরিপূর্ণ (Full term) বলে ধরে নেয়া হয় এবং যে কোন সময় তার আগমন ঘটতে পারে। নয় মাসের কষ্টের ফসল যেদিন দেখতে পাবেন, তার এবং পরবর্তী কিছু সময়ের জন্য ভালো প্রস্তুতির দরকার আছে বৈকি।

নতুন মায়েরা বাচ্চার জন্য কেনাকাটা করে ঘর ভর্তি করে ফেলেন। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার এই ব্যাগটাতে কি কি রাখবেন এবং কি কি লাগতে পারে, সেটা নিয়ে দ্বিধান্বিত থাকেন। তাদের সাহায্য করার জন্য এই লেখা।

হসপিটাল ব্যাগ কেন লাগবে?

ধরুন, আপনার যা যা লাগতে পারে হাসপাতালে, আপনি সবকিছু কিনে ফেললেন। কিন্তু সব যদি একজায়গায় গুছিয়ে না রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখেন, তবে হঠাৎ করে প্রসব বেদনা (Labor pain) উঠলে যদি তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে যেতে হয়, তাহলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়বেন। অন্যরা হয়ত আপনার দরকারী জিনিস আপনি চাইলে পরে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু নিজের মতো কিছু জিনিস গুছিয়ে একটা ব্যাগে রেখে দিলে দেখবেন, দরকারের সময় যখন সবকিছুই হাতের কাছে পাবেন, অনেক ক্ষেত্রেই আপনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন।

আপনি চাইলে আলাদা ব্যাগ কিনতে পারেন এর জন্য, কিন্তু বাসায় থাকা যে কোন একটু বড় ধরনের ব্যাগ (যাতে বেশ কিছু জিনিস এঁটে যায়), ছোট সুটকেসকে হাসপাতাল ব্যাগে হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই ব্যাগে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আপনার ও নতুন শিশুটির জন্য যা যা লাগবে সুন্দরকরে গুছিয়ে রাখুন আগে থাকেই।

মায়ের জন্য যা যা নেবেন

ব্যাগ গুছাবার আগে ভেবে ভেবে একটা তালিকা বানান, তারপর সে অনুযায়ী কেনাকাটা করুন ও ব্যাগে গুছান। আপনার জন্য যা যা লাগতে পারে-

  • কাপড়ঃ নরম, ঠিলাঠালা আর আরামদায়ক কাপড় বেছে নিন। নতুন কাপড় হলে ধুয়ে নিতে পারেন। রাতে শোবার পোশাক, ড্রেসিং গাউন (যা আপনি হাসপাতাল থেকে দেয়া গাউনের উপর চট করে পড়ে নিতে পারেন), পায়ে দেবার চপ্পল, বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য বিশেষভাবে বানানো সামনের দিকে বুকখোলা পোশাক।
  • নার্সিং ব্রা (Nursing Bra) দুই থেকে তিনটি।
  • ব্রেষ্ট প্যাড। বুকের দুধের প্রবাহ (Flow) বাড়লে কাপড় ভিজে যাওয়া থেকে বাঁচাবে।
  • ম্যাটারনিটি প্যাড (বেশিমাত্রার রক্তক্ষরনের জন্য ভারী স্যানিটারী প্যাড) এবং বেশ কিছু সাইজে বড় সুতির অন্তর্বাস (Underwear)।
  • বড় তোয়ালে।
  • টুথব্রাশ, টুথপেষ্ট, চুল আঁচড়াবার চিরুনী-রাবার ব্যান্ড।
  • প্রেগন্যান্সীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখানো ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, যাবতীয় রিপোর্ট।
  • বার্থ প্ল্যান (যদি তৈরী করে থাকেন) তার কপি।
  • গুরুত্বপূর্ন ফোন নাম্বারের লিষ্ট।
  • ফোনের চার্জার।
  • বাচ্চার ছবি তুলতে চাইলে ক্যামেরা।
  • পানির বোতল, হালকা স্ন্যাক্সস জাতীয় খাবার।
  • লিপ বাম/চ্যাপস্টিক/ ছোট পেট্রোলিয়াম জেলির কৌটা।
  • চশমা (যদি পড়েন)।
  • হাসপাতালে সাথে যিনি থাকবেন তার জন্য এক্সট্রা দুই একটা কাপড়, মাথার বালিশ।

এগুলো ছাড়াও পড়তে পছন্দ করেন, এমন দুই-একটা বই সাথে রাখতে পারেন। গর্ভকালীন, প্রসবকালীন বা সন্তানপালন সংক্রান্ত ম্যাগাজিন/ তথ্যমূলক বই হতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিক ডেলিভারীতে আপনার জন্য আরামদায়ক হতে পারে বলে মনে করেন, এমন যেকোন জিনিস সাথে রাখতে পারেন, যেমন আপনার নিজের ব্যবহারের কোন বালিশ, আরামদায়ক কোন চাদর ইত্যাদি।

বাচ্চার জন্য যা নেবেন

বাচ্চার জন্য আলাদা ব্যাগ নিতে পারেন, যাতে আপনি পরবর্তীতে বাচ্চাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হলে তার দরকারি জিনিসপত্র নেয়ার কাজে ব্যাগটি কাজে লাগাতে পারেন। নতুবা আপাতত আপনার ব্যাগের এককোনায় নতুন বাচ্চার জন্য জিনিসপত্র নিয়ে নিন।

  • হাসপাতালে পড়ানোর জন্য এবং বাসায় নিয়ে আসার জন্য একপ্রস্থ কাপড়। গরম/ঠান্ডা আবহাওয়া বিবেচনায় রাখুন। সামনের দিকে খোলা পোষাক বেছে নিন, পড়াতে সুবিধা হবে। ঠান্ডার জন্য পা ঢাকা লম্বা পোষাক, পায়ের মোজা, হাতের মিটন,মাথার টুপি সাথে রাখুন। নতুন কাপড় ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে ব্যাগে নিন।
  • বাচ্চাকে জড়িয়ে নেবার জন্য বড় কাঁথা বা তোয়ালে। বাজারে এমন তোয়ালে পাওয়া যায় যেগুলোর এক কোনায় টুপির মত দেয়া থাকে, যেটা কিনে নিতে পারেন।
  • সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চার জন্য বিশেষ আকারের ডায়াপার, যেটা New-born Diaper  (এন/জিরো সাইজ, ২০/২৫ টি), নামে পরিচিত এবং ওয়েট টিস্যু বা wipes।
  • গাড়ীতে নিতে হলে কারসীট (আগেই এর ব্যবহার বিধি জেনে নিন)।

অনেক হাসপাতাল থেকেই অনেক প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে। যদি আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ থাকে, তাহলে হাসপাতাল সম্পর্কে ভালোমতো জেনে নিন। অনেক সময় হাসপাতাল থেকে কি কি লাগতে পারে- তার তালিকা সরবরাহ করে। সেক্ষেত্রে সে অনুযায়ী ব্যাগ গুছাতে পারেন।

তারপরও নিজস্ব জিনিসপত্র সাথে রাখা সবসময় স্বস্তিদায়ক। সেভাবে ব্যাগ গুছিয়ে প্রস্তুতি নিন আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দিনটির জন্য। শুভকামনা রইল।