আমাদের বিয়ে হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। বিয়ের পরপরই বেবি নেই নাই, কারন আমার তখন মাত্র আন্ডারগ্যাড শুরু হয়েছিলো। গোটা চারটা বছর পড়াশুনার চাপে বেবি নেওয়ার বিষয়টা চিন্তা করতে পারিনি। সাথে আমার হাজবেন্ড ও সবসময় সাপোর্ট করেছে, যদিও সে বেবির জন্য অনেক পাগল ছিল। গ্রাজুয়েশন যখন প্রায় শেষের কাছাকাছি চলে আসলো তখন আমরা বেবি নেওয়ার কথা ভাবলাম। তখনো আন্ডারগ্যাড শেষ হয়নি, থিসিসের কাজ চলছিলো, সময়টা ২০১৯ এর ডিসেম্বর। আমার LMP ছিল নভেম্বরের ১৫ তারিখ। আর ডিসেম্বরের ২১ তারিখ টেস্ট করে দেখলাম, পজিটিভ।
পজিটিভ জানার পর কেন জানিনা অনর্থক ভয় কাজ করতো আর সবকিছু অগোছালো লাগতো। এখন মনে হয় প্রেগ্ন্যান্সি সম্পর্কে অতোটা ওয়াকিফ ছিলাম না বিধায় অতোটা ভয় কাজ করতো। যাইহোক, ডিসেম্বর মাসে অর্থাৎ প্রথম মাসটা অনেক স্ট্রেসফুল কাটিয়েছি, কারণ তখনো আমার ডিফেন্স বাকি ছিল আর আমার অবস্থা ও অতোটা ভালো ছিলনা। একদম শুরু থেকেই ডিজিনেস, বমি ভাব ছিল সারাক্ষণ। এরপর ডাক্তারের কাছে গেলাম ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ। ডাক্তার নরমাল ফলিক এসিড আর বমির ঔষধ দিলেন। আর কিছু টেস্ট দিলেন এবং তিন সপ্তাহ পর রিপোর্ট নিয়ে দেখা করতে বললেন। বলে রাখি ডিসেম্বরের লাস্ট উয়িক থেকে বমির ভাব ছিল। কিছুই খেতে পারতাম না, বলতে গেলে। ধরে নিয়েছিলাম এসব স্বাভাবিক প্রেগন্যান্সিতে। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছিল বমির পরিমান ততই বেড়ে যাচ্ছিলো। কোন কিছুই খেতে পারতাম না। পানি খেলে তাও বমি হতো সাথে সাথেই। ইভেন রাতে ঘুম থেকে উঠে ও বমি করা লাগতো।
যেহেতু কিছুই খেতে পারছিলাম না, আর আমার অবস্থা ও দিনদিন খারাপ হতে চলেছে, তাই দুই সপ্তাহ শেষ না হতেই আমার বর একপ্রকার জোর করেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। আমি যেতে চাচ্ছিলাম না যেহেতু এক সপ্তাহ পরেই রিপোর্ট নিয়ে যাবো এটা ভেবে। আর তখনো আমার কাছে আমার খেতে না পারা, বমি করা ইত্যাদি নরমাল লাগছিলো। যাইহোক, হস্পিটালে গেলাম এবং ডাক্তার দেখা মাত্র সাথে সাথেই বললেন এডমিট হয়ে যেতে। আর ডাক্তারের কথা অনুযায়ী এডমিট হলাম। এটা ছিল জানুয়ারির ১৫ তারিখ রাতের কথা। এডমিট হওয়ার পর থেকেই স্যালাইন চলছিলো অনবরত তিন দিন। ডাক্তার অনেক গুলো টেস্ট দিলেন। টেস্ট গুলো করানো শেষে জানতে পারলাম আমার এচিটন বেড়ে গিয়েছে এবং গলব্লাডার স্লাজ। রিপোর্ট পাওয়ার ৪ দিন পর্যন্ত ডাক্তারের অব্জারবেশনে ছিলাম।
এই চারদিন কোন কিছুই খেতে বারণ করেছেন, শুধু মাত্র লিকুইড ছাড়া, তাও পরিমানে অল্প। তৃতীয় দিন এসে আমার বমি বলতে গেলে নাই হয়ে গিয়েছে আর আমার ভাত খেতে ইচ্ছে করেছিলো অনেক বেশি। কিন্তু ডাক্তার নিষেধ করেছেন শক্ত খাবার না খেতে। এই দিকে আমার মনে হচ্ছিলো সেই বেলা ভাত খেতে না পারলে আমি মরেই যাবো। আমার অবস্থা দেখে আমার বর অনেক বার ডাক্তারের কাছে গেলেন ভাত খেতে পারবো কিনা জিজ্ঞেস করার জন্য, কিন্তু ডাক্তার কিছুতেই সম্মতি দেননি। এভাবে করে ৪র্থ দিন এসে দুপুর বেলা জাউ ভাত খাবার অনুমতি দিলেন। আমি সেই জাউ ভাত গুলো (হাভাতের মতন) মন ভরে খাই। সেদিন ভাত খেতে পেরে সত্যি অনেক শান্তি পেয়েছিলাম। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পর আমি কিছু খেতে পেরেছিলাম ( তাও আবার ভাত 🙂 )।
