ইসলামিক হোমস্কুলিং কারিকুলাম, সেক্যুলার সাহিত্য পুনর্বিবেচনাঃ দ্বিতীয় পর্ব

আগের পর্ব পড়ে অনেকেই ধারণা করেছেন যে আমি বাচ্চাদের সব কাজ কর্ম বাদ দিয়ে পুরো শৈশব শুধু বই নিয়ে পড়ে থাকতে বলছি। ব্যাপারটা আসলে মোটেও এরকম না। বাচ্চাদের সাত বছর বয়সের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হলো, খেলাধুলা, প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে থাকা, বিভিন্ন সুঅভ্যাস তৈরি যেমন দায়িত্বশীলতা, বাবা মায়ের বাধ্যতা, মনোযোগ, পর্যবেক্ষণের স্কিল তৈরি ইত্যাদি যা পরবর্তী জীবনে তার চরিত্র ও ব্যাক্তিত্ব গঠনে সহায়ক হবে, এবং টুকটাক বই পড়া, বিশেষত গল্পের বই।

আমার ধারণা যা যা বললাম এর মধ্যে অন্য কোনটাতেই এখনকার ইসলামমনস্ক অভিভাবকেরা এত বেশি অনাগ্রহ দেখান না যতটা দেখান এই গল্পের বই পড়ার প্রতি। এজন্যই এটার গুরুত্ব নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা প্রয়োজন।

সব বাচ্চার স্কিল এবং আগ্রহের জায়গা এক না। কোন কোন বাচ্চা ছোটাছুটি করতে হয় এরকম খেলাধুলা একটু বেশিই ভালোবাসে, কেউ খেলার চেয়ে বরং বেশি ভালোবাসে ছবি আঁকতে, কেউ পাযল মেলাতে, বিভিন্ন ধরণের 'বুদ্ধির খেলা', ধাঁধা এগুলোতে কারো কারো বেশি আগ্রহ। কেউ আবার খুব কম বয়সে বেশ ভালো কথা বলতে শিখে যায়, আর ভালোবাসে গল্পের বই পড়তে বা শুনতে। আমাদের কর্তব্য হলো বাচ্চাকে প্রথম দিকে সবগুলোতেই সুযোগ করে দেওয়া।

সময়ের সাথে খেয়াল করতে থাকা যে তার আগ্রহ ও পারদর্শীতার জায়গা কোনগুলো। সেই অনুযায়ী তার পরবর্তী জীবনের সম্ভাব্য রূপরেখা অনুমান করে সেভাবে তার কারিকুলাম প্রণয়ন করা। তুখোড় খেলোয়াড়কে খেলার মাঠ বা ছাদ থেকে জোর করে ধরে এনে দিন রাত গল্পের বই নিয়ে বসিয়ে রাখা অন্যায় এটা আমরা বুঝতে পারলেও একজন গল্পের বইয়ের পোকা বাচ্চার যদিও আমরা প্রশংসা করি 'পড়ুয়া', 'জ্ঞানপিপাসু' ইত্যাদি বলে (যদিও খেলোয়াড় বা আঁকিয়ে বাচ্চাটার জ্ঞানপিপাসা মোটেও তার চেয়ে কম না), কিন্তু আমরা খেলোয়াড় বাচ্চাটাকে খেলার সব উপকরণ দিলেও, রোজ খেলার জন্য ছাদে যেতে দিলেও বা চিত্রশিল্পী বাবুটাকে শেষ হবার সাথে সাথেই আবারো খাতা, রঙ কিনে দিলেও পড়ুয়া বাবুটাকে অল্প কিছু ইসলামী গল্পের বই দিয়ে বলি, এগুলোই 'আস্তে আস্তে' পড়ো, বাচ্চারা নিমেষেই সেগুলো শেষ করে নতুন গল্প চাইতে গেলে বলি, গল্প পড়া ঢের হয়েছে, এবার ছোটদের আক্বিদাহ বা হাদীসের বই নিয়ে বসতে হবে।

পুরোটা পড়তে সহজে লগিন করুন

সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছেঃ মার্চ 16, 2021