প্লে-ডেইট কী?

বাচ্চাদের বাবা-মায়েরা কোন একটা দিন ঠিক করে, যেদিন একসাথে বেশকিছু বাচ্চা মিলে খেলাধুলা বা ক্রাফটিং করে (কোন কিছু বানানো, যেমন- কেক অথবা বালি দিয়ে কোন কিছু বানানো হতে পারে ইত্যাদি)। মূল ধারণাটা হলো একসাথে বাচ্চারা বসে খেলাধুলা করবে শুধু খেলাধুলা এবং আনন্দের উদ্দেশ্যে। এর পাশাপাশি তারা সেখান থেকে আদব-কায়দা, সামাজিকতা ইত্যাদি শিখে নিতে পারবে।

মীট যায়নাব’র বিস্তারিত

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০-এ হয়ে যাওয়া মীট যায়নাব এমনই একটা প্লে-ডেইট ছিল। আয়োজন হিসেবে এটা ছিল  ভিন্নধর্মী এবং নতুন আঙ্গিকের একটি অনুষ্ঠান, কারণ ইসলামী পরিবেশে বাচ্চাদের জন্য এমন একটি আয়োজন আমাদের দেশে এই প্রথম। ডাক্তার ইফফাত সাইফুল্লাহ তার চার বছরের মেয়ে যায়নাব জুহাইরা সমমনা বাচ্চাদের সাথে পরিচিত করানো এবং আনন্দ দেয়ার উপায় হিসেবে এটি আয়োজনের উদ্যোগ নেন।

মীট যায়নাব

জানুয়ারি মাসে তিনি যখন এই আইডিয়াটা ফেসবুকে শেয়ার করেন, তখন সাথে সাথেই অনেক মায়েদের সাড়া পান। রেজিস্ট্রেশন চালু করার প্রথম কয়েক ঘন্টার মাঝেই সবাই রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছিল, রেজিস্ট্রেশন ফীও ছিল নামমাত্র। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অংশগ্রহনকারীদের সংখ্যা পঁয়ত্রিশ-এ সীমিত করা হয়েছিল। এরপর ডাঃ ইফফাত  বিভিন্ন স্পন্সরদের সাথে যোগাযোগ করছিলেন। সেখানেও তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পেলেন। পঁয়ত্রিশ জন বাচ্চার জন্য তিনি পঞ্চাশ এর অধিক স্পন্সর পেয়েছেন।এবং আরো অনেকই স্পন্সর করতে আগ্রহী ছিলেন।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি প্লে-ডেইটের ভেন্যু মোহাম্মদপুরের তাহফীজুল কুরআন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে গেলাম। সেখানে বাচ্চারা এবং তাদের মায়েদের আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখার মত ছিল। অভিভাবক হিসেবে আমাদের ভাবনা এতোখানি ছিল যে বাচ্চারা একসাথে হয়ে একটু খেলাধুলা করবে। আয়োজকদের সুন্দর পরিকল্পনা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো, একের পর এক নানা রকম ইভেন্টের আয়োজন করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে মাতৃত্ব ডট কম পরিচালিত সামাজিক চ্যানেলে যোগ দিন
মীট যায়নাব প্লে-ডেইট (play date)

স্কুলের প্রবেশমুখে বাচ্চারা অভিভাবকসহ রিসিপশনে নাম এন্ট্রি করেছে । এরপর বাচ্চাদের দাঁত চেকআপ করলেন ডেনটিস্ট আপুরা। পাশেই থাকা পেপসোডেন্টের বুথ থেকে প্রতিটি বাচ্চাকে একটা করে পেপসোডেন্ট এর প্যাকেট দেয়া হলো। তারপর বাচ্চাদের বয়স এবং ওজন অনুযায়ী তাদের উচ্চতা ঠিক আছে কিনা সেটা পুষ্টিবিদ আপুরা দেখে দিয়েছেন।

সেখান থেকে বাচ্চারা সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের খাবার, চকলেট, পানীয় সংগ্রহ করেছে। সকালের নাস্তা শেষ করার পর সবগুলো বাচ্চাকে একসাথে একটি রুমে নেয়া হলো,  যেখানে তারা আঁকা আকি, দোয়া শেখা, খেলাধুলায় ব্যস্ত ছিল। তাদের সাথে স্কুলের চৌদ্দজন শিক্ষিকা এবং বেশ কয়েক জন স্বেচ্ছাসেবী আপু ছিলেন। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তাঁরা বাচ্চাদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। অপরিচিত হওয়া সত্বেও বাচ্চারা খুব বেশি ঝামেলা করেনি। একদম ছোট বাচ্চারা তাদের মায়ের সাথে ছিল, যারা নির্দেশনাগুলো ভালো করে বুঝতে পারছিল না অথবা যারা খুব একটা মিশতে পাচ্ছিল না। তবে মোটের উপর কোন বাচ্চা-ই খুব একটা ঝামেলা করে নাই। 

দুপুরে একটার মধ্যেই বাচ্চাদের খাবার দেয়া হয়েছিল যেটা বেশ সুস্বাদু এবং বাচ্চাদের উপযোগী ছিল। এরপর বাচ্চাদের মায়েদের জন্য আলাদা খাবার দেয়া হয়েছিল। বাচ্চাদের খাবার শেষে তাদেরকে আগের রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পর্বে তারা বিভিন্ন ধরনের ক্র্যাফটিং করেছে। গুড টাচ, ব্যাড টাচ সম্পর্কে শিখেছে, মা-বাবা কথা শোনা ও মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়াও তাদেরকে সাদাকা’র ধারণার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। বাচ্চারা প্রত্যেকে সাদাকা বক্সে টুপটাপ করে তাদের ছোট ছোট  হাতে সাদাকা দেয়ার প্র্যাকটিস করলো। এরপর কেক কাটাকাটি, একসাথে খাওয়া দাওয়া, বাচ্চাদের মায়েরা একসাথে বসে গল্প করা, এভাবেই সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়।

আরো ছবি দেখুন ইভেন্টের ফেসবুক পাতায়

অনুষ্ঠান শেষ হবার পর যখন অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিয়ে বের হচ্ছিল, তখন আবার দুই হাত ভর্তি করে তাদেরকে নানা রকম উপহার দেয়া হয়েছিল। বাচ্চাপ্রতি উপহার এত বেশি ছিল যে, আমার বাচ্চারা খুবই এক্সাইটেড ছিল কখন বাসায় এসে ঝাঁপি খুলে বসবে!  অভিভাবক হয়েও আমিও বাচ্চাদের মতোই ফীল করছিলাম 🙂

অনুষ্ঠানটিতে আয়োজকদের এবং স্পন্সরদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে বাচ্চাদের আনন্দ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিল। এবং প্রতিটি বাচ্চাই পুরো বিষয়টা বেশ উপভোগ করেছে। তারা একসাথে এত উপহার পেয়ে অভিভূত।

পুরো প্রোগ্রামটি সুন্দর করতে তাহফিজুল কুরআন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষ তৃপ্তি দস্তগীর, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের তৎপরতা এবং স্পন্সরদের আন্তরিকতা ছিল প্রশংসনীয়।

ভবিষ্যতে এরকম আরো প্লে-ডেইট হবে বাচ্চাদের জন্য, এই শুভকামনা রইল। এই সুন্দর উদ্যোগে মাতৃত্বকে সাথে নেয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

যারা স্পন্সর করেছেন

  • পপ আপ কালার লিমিটেড ( প্রমোশনাল পার্টনার)
  • তাহফিজুল কুরআন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল
  • মাহজাবীন’স বেকারী
  • আনাউমস ট্রীট
  • সেমন্তিনী
  • ব্লেসিংস
  • ফেমিলি কেয়ার
  • আন নিসা গ্যালারি
  • কাভার বুটিকস
  • ডাইন উইথ আয়েশা
  • রু’স ওভেন
  • হোমস্কুলিং উইথ নূর
  • স্পার্কেল হোমস্কুল
  • সাকিনাস কিচেনেট
  • ডেলিশাস ডেজার্ট
  • ঘরোয়া স্বাদ
  • সম্পূর্ণা ফ্যাশন
  • সুইট টুথ বাই নরিন
  • ফিউচার উম্মাহ বিবি
  • হিজামা প্ল্যানেট: কাপিং এন্ড রুকাইয়া সেন্টার
  • সেবন্তী’স হ্যান্ডমেইড
  • ইসলামিক অ্যাপারেল বিডি বাই আয়েশা এন্ড ফাতিমা
  • রিফ্লকশন অফ হায়া
  • অ্যারোমা
  • আহমেদ ফুডস
  • মাতৃত্ব
  • আর্জি
  • পেপসোডেন্ট
  • পারমিতা
  • উম্ম জাবির ফুড
  • গিফ্টোরিটা
  • খালা’স বেকারি এন্ড পেশনেট ক্রেকারী
  • ফ্যাশান এন্ড ফুড ভ্যালি বিডি
  • Fa’as Art Attack (৩৫ জন অংশগ্রহনকারী বাচ্চার নামের ক্যালিগ্রাফি স্পন্সর করেছে)

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা