সিজারের পর নরমাল
Photo by Bonnie Kittle on Unsplash

প্রেগন্যান্সি

পরদিন জিন্দা পার্কে যাবো তার আগে টেস্ট কিট পজিটিভ রেজাল্ট দিল। মেয়ের বয়স দুই বছর হতে আর দুই মাস বাকি। আল্লাহর সিদ্ধান্তে খুব খুশি ছিলাম, মুরব্বিদের দুশ্চিন্তা আঁচ করছিলাম যদিও। আমার মেয়েটা খুব বুঝদার মেয়ে, জ্বালানো বাচ্চাদের ক্যাটাগরিতে সে পড়ে না। আল্লাহ সহজ করবেন এই আশায় নিশ্চিন্ত ছিলাম৷ আর যত বয়সের পার্থক্যই থাকুক না কেন পরীক্ষা যেকোনো সময়, যেকোনো ভাবে আসতে পারে।

কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার সময় মেয়েকে ওর দাদীর বাসা থেকে নিয়ে নিজের বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ রেস্ট নিতাম। তারপর দুইজনের খাওয়া, গোসল, সলাহ শেষে আমার ছাত্রীরা আসা শুরু করতো। যেতে যেতে রাত ৮টা- ৯ টা বাজতো। তারপর অল্প একটু রেস্ট নিয়ে রান্না করতাম, মেয়ের বাবা আসতে আসতে রাত সাড়ে দশটা। প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর শাশুড়ি প্রায়ই রান্না করে পাঠাতেন, কাজ কমে যেতো। ঐ অবস্থায় মেয়েকে বুকের দুধ ছাড়ানো কঠিন হয়ে গেল। আম্মু এসে ক’দিন থাকলো। ৮-৯ দিনে আমার একরোখা মেয়ে বাস্তবতা বুঝে গেল, দুধ ছাড়াই অভ্যস্ত হলো।

সহজ জীবন হঠাৎ করে কঠিন হয়ে গেল সেকেন্ড ট্রাইমিস্টারে, যে সময়টা সবার অপেক্ষাকৃতভাবে সহজ হয়। মেয়ে একের পর এক অসুস্থ হচ্ছিল। একবার হাত পুড়ে গেল, একবার ফুড পয়জনিং, কখনো জ্বর, লাগাতার ঠান্ডা, পেট খারাপ। টানা তিন মাস আমার মেয়েটা কোল ছেড়ে নামতে চাইতো না। কোলে নিয়ে হাটতে হবে এই জিদ করতো শুধু৷ আমি শুধু মাত্র দশ মিনিট পিঠটা বিছানায় রাখার তৌফিক চাইতাম আল্লাহর কাছে,বেশিরভাগ দিনই পারতাম না। ছাত্রীরা আসলে বাথরুমে যাওয়া, সলাহ পড়া সহজ হতো।

রাতে ওর বাবা ফিরলে হাল ছেড়ে দিতাম। ক্লান্তি সত্ত্বেও অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে রাত জাগতো সে,সকালে দুজন ক্লান্ত হয়ে কিছুটা ঘুমাতো। একদিন সামগ্রিক অবস্থা দেখে চাকরি ছেড়ে দিতে বলল ও। থার্ড ট্রাইমেস্টারে এমনিতেও ছুটিতে চলে যাবো,তাই ধৈর্য ধরলাম। আম্মু বারবার আসার প্ল্যান করছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় বাতিল হচ্ছিল প্রতিটা পরিকল্পনা। আমি কয়েকদিন মারাত্মক গর্ভকালীন বিষন্নতায় চলে গেলাম বিশ্রামের অভাবে। কিন্তু নিজের যুক্তিবাদী মনের সাথে কথা বলে বেরিয়ে আসলাম ঐ বিপদ থেকে।

=> তুমি কেন রেস্ট চাও?
=> বাবুর জন্যে
=> রেস্টের অভাবে আত্মহত্যা করলে বাবু বাঁচবে?
=> না

আর্টিকেল নিয়ে আপনার প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা বা ফীডব্যাক শেয়ার করতে পাবলিক টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন
মাতৃত্বের বিভিন্ন নোটিফিকেশন পেতে হোয়াটসএপ গ্রুপে যোগ দিন। এই গ্রুপে শুধুমাত্র এডমিন মেসেজ পাঠান।

সূরা বাকারাহ আর রুকইয়াহ ছেড়ে দিয়ে মেয়ে আর আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে লাগলাম।
ঐ সময়গুলোতে প্রবাসী বাচ্চার মাদের কথা ভেবে নিজেকে পরম সৌভাগ্যবতী মনে হয়েছে, কষ্টের মাঝেও শুকরিয়া আদায় করেছি কতটা ভালো আছি ভেবে। মানুষ প্রেগন্যান্ট অবস্থায় অনেক শারীরিক কষ্ট পায়। আমার শুধু দিনে এক-দুইবার বমি, স্বাভাবিক দূর্বলতা আর সিম্ফাইসিস পিউবিক ডিসফাংশন (দুই পায়ের মাঝের হাড্ডির প্রসারণের কারণে ব্যাথা) ছিল দুই বাচ্চার সময়ই -এটাও শুকরিয়া করার মতো বিষয়।

ইউএসজি করে জানলাম বাবু ভালো আছে। রিপোর্টে ইডিডি ডেইট দেখালো আগের চেয়ে দশ-বারো দিন পর; আমি তখনো জানতাম না ইডিডি পিছিয়ে যাওয়া অর্থ বাবুর গ্রোথ থেমে আছে বা থেমে ছিল।

কষ্টের পর স্বস্তি

আমি ভাবতাম চাকরি ছাড়লে কী এমন পরিবর্তন হবে জীবনে। ওয়ার্কিং আওয়ার ম্যাক্সিমাম চার ঘন্টা, এই সময়টা মেয়ে আমাকে পায় না; ঘ্যানঘ্যানও করতে পারে না। কিন্তু এবার কষ্টের পর স্বস্তি আসলো, মেয়ে সুস্থ হলো। করোনার লকডাউন সেই স্বস্তি আরো বাড়িয়ে দিলো, কারণ হাজবেন্ড বাসায়। ঘরের কাজ কমে গেল, ছাত্রী না আসায় আরো ফ্রি টাইম পেলাম। মেয়েকে পটি ট্রেইনিং দেয়া আর ল্যাপটপে কাজ এই ছিল দিনের মূল কাজ। রান্না, ঘর গুছানো নিয়মিত করতাম না। যেদিন ঘর গুছাতাম সেদিন মনে হতো মানুষ ব্যায়াম কেন করে? বাচ্চার ফেলে রাখা খেলনা তোলাই যথেষ্ট!

করোনা ছড়িয়ে পড়ায় কাজের আপাকে ছুটি দিতে হলো। এবার কিছুটা মানসিক চাপে পড়লাম। আপা কাজ করে যাওয়ার পর বাসা পরিষ্কার হয়ে যেত। এলোমেলো বাসা, জমে থাকা কাপড়ের স্তুপ অস্বস্তি দিচ্ছিলো। যদিও মেয়ের বাবা একেকদিন একেকটা কাজ করতো।
বাপের বাড়ি এলাকা লকডাউন হওয়ায় ভেংগে পড়লাম। তবে কি ওরা কেউ অসুস্থ হলে আমি দেখতে যেতে পারবো না! ইডিডির একমাস আগে বাসায় যাওয়ার কথা! উবার-পাঠাও সব বন্ধ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কে নিজের গাড়ি পাঠাবে এটাও দুশ্চিন্তা ছিল। হঠাৎ কোনো ইমারজেন্সি হলে দুই পারিবারিক বন্ধু গাড়ি দেয়ার আশ্বাস দিল।

এর মাঝে ব্র্যাক্সটন -হিক্স কন্ট্রাকশন ফিল করছিলাম প্রায়ই। বাবু নিচের দিকে মাথা দিয়ে ঢুশ খেলা শুরু করছিল আরকি। স্বাভাবিকভাবেই নিলাম এটা, বেবিসেন্টার মেইলগুলোও তাই বলছিল। বেবিসেন্টার মেইল বলছিল যত পারো সবার থেকে হেল্প নাও। একটা মানুষকে আর কতো জ্বালাবো, তবু সংকোচ কাটিয়ে বারবার হাজবেন্ডের সাহায্য নিয়েছি।

পরদিন বাসায় যাওয়ার ব্যাগ গুছাবো এমন ইচ্ছা ছিল, একটা হসপিটালের জন্যে ফাইলসহ, আরেকটা বাপের বাড়ি মাস দুয়েক থাকার জন্যে। দুপুর বেলা মেয়ের বাবাকে বেবিসেন্টার মেইলের একটা অংশ কপি পেস্ট করলাম যার বাংলা করলে অনেকটা এমন হবে,

“আপনি যদি সময়ের আগে প্রসব হয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। ৩৪ থেকে ৩৭ সপ্তাহের মাঝে যে বাচ্চারা জন্মায় তাদের যদি অন্য কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে তাহলে এনআইসিইউওতে অল্প সময় কাটানোর পর তাদের আর কোন সমস্যা হয় না। আপনার বাচ্চার ফুসফুস ও নার্ভাস সিস্টেম এখনো পরিপক্ক হচ্ছে। তার ত্বক এখন আগের চেয়ে মসৃণ, এবং চামড়ার নিচে যে চর্বির স্তর তৈরি হচ্ছে তা জন্মের পর তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।”

সূরা বাকারাহ ছেড়ে রেখে রান্না সারলাম। মেয়ে বাবার ধুয়ে দেয়া কাপড়গুলো জানালায় নাড়ছে। বাকারাহ শেষ হলো, অযু করতে বাথরুমে ঢুকলাম। আসরটা শেষে ভাত খাবো তিনজন। ওযুর সময় মনে হলো ওয়াটার ব্রেক হয়েছে, নিশ্চিত হলাম সাথে ব্লিডিংও হয়েছে। সাথে সাথে ডাক্তারকে ফোন দিলাম, তিনি দ্রুত হাসপাতালে যেতে বললেন। সালাহ পড়লাম শুয়ে ইশারায়, নড়লে আরো ব্লিডিং হবে এই ভয়ে। মেয়ের বাবা প্রচন্ড দুশ্চিন্তার মাঝে ব্যাগ গুছালো, মেয়েকে রেডি করলো। আমার মাথায় তখন মেয়েকে মাছ দিয়ে কিভাবে ভাত খাওয়াই সেই চিন্তা, কিন্তু এই বিপদের মাঝে এই কথা তোলা অনুচিত হবে। ওকে বললাম তিনজনের জন্যে এক প্লেটে ভাত নিতে, আমার ক্ষুধার কথা ভেবে ও রাজি হয়ে গেল। ততক্ষণে বাসার নিচে গাড়ি উপস্থিত, আমার বড় বোনও। করোনার জন্যে পাশের গলি থেকে শাশুড়ি মাকে আসতে নিষেধ করে দিলাম।

গাড়ি ছুটে চলল হাসপাতালের দিকে। ডাক্তার বুঝলেন আমার পেইন আছে। ৩৩ সপ্তাহ রানিং, ইউএসজিতে অনেক পানি দেখা গেল। আমি খুশি এবং অবাক এতো এমনিওটিক ফ্লুইড দেখে। মেয়ের সময় পানি কমে যাওয়ায় ঠিক ৩৩ সপ্তাহেই একদিন হসপিটালাইজড ছিলাম, তারপর দুই-তিন সপ্তাহ বেড রেস্টের পর শেষমেষ পানি ভেংগেছে। অমনটার আশ্বাস দিয়েই ডাক্তার ভর্তি হতে বললেন, জানলাম এই হাসপাতালে সিজারের পর নরমাল ডেলিভারি হয় না। আমি আর আমার হাজবেন্ড হতাশ হলাম না, যদিও নরমালের আশা কে না করে? মজা করছিলাম এটা ভেবে, ডাক্তার নিশ্চয়ই বাবু বের হয়ে আসতে চাইলে বলবেন না “ভেতরে ঢুকো! আমি পেট কাটবো!”

পেইন কমার ওষুধ শুরুর আগে ছন্দময়ভাবে বাবু চাপ দিচ্ছিল তলপেটে, ঠিক সাত মিনিট পর পর একটা ধাক্কা। বুঝলাম এটা ফলস পেইন নয়, ফলস হলে ছন্দময় হতো না। কিন্তু বাবুর আরো কয়েক সপ্তাহ পেটের ভেতর থাকাটা জরুরি। আস্তে আস্তে পেইন কমে গেল, ব্লিডিং কমই ছিল। বাপের বাড়ি করোনা এলাকায় জেনে ডাক্তার বললো নিজের বাসায় ফিরতে, নয়তো আমি আবার দুই তিন সপ্তাহ পর ফিরলে হয়তো হসপিটাল ভর্তি নাও নিতে পারে, আর ওই বাসা থেকে কাউকে আসতেও নিষেধ করলেন।

রাতে ঘুম হলো না। মেয়ে, ওর বাবা আমার শাশুড়ি মা’র ওখানে, আমার সাথে আমার বড় বোন। কোথায় যাবো, নিজ বাসায় গেলে কাকে আমার সাথে নিবো বোন নাকি মা, ডাক্তার রিলিজ না দিলে মেয়েটা কই থাকবে, বাসাটা এলোমেলো করে রেখে আসা -এইসব চিন্তা তাড়া করছিল। পরদিন মেয়েকে নানু বাসায় পাঠানো হল,ঠিক হলো আমার সাথে আমার হাজবেন্ড থাকবে, বোন খাবার পাঠাবে। তিনদিন হয়ে গেল হাসপাতালে। এর মাঝে জানলাম, যে এমনিওটিক ফ্লুইডের বৃদ্ধি আমাকে খুশি করেছিল সেটা আসলে প্রেগন্যান্সি ডায়াবেটিসের ফল, এর কারণেই প্লাসেন্টা ঠিক নেই ; ব্লিডিং হচ্ছে। ইনসুলিন দেয়া হলো, ঘুমের রাজ্যে ডুবে গেলাম গ্লুকোজ কমে। মেডিসিনের ডাক্তার এসে বললেন আমার ডায়াবেটিস লেভেল ইনসুলিন দেয়ার মতো না। খাবার আগে দশ হলেই কেবল নিতে হবে, নয়তো বাবুর জন্যে ক্ষতিকর। ওদিকে ইউএসজি রিপোর্ট খুব ভালো আসলো, পানি কমে গেছে আবার! বাবু ভালো আছে আর ব্লিডিং নগন্য। ভাবলাম এবার বাড়ি ফিরবো। মন বলছিল কাল রিলিজ। কিন্তু রিলিজ যে পেট থেকে বাচ্চার হবে, হাসপাতাল থেকে আমার নয় তা আল্লাহ ছাড়া কে জানতো! 

সিনেমার মতো প্রবেশ

সারারাত ঘুমাতে পারছিলাম না, পায়খানার রাস্তায় চাপ লাগছিল কিন্তু পায়খানা হচ্ছে না। বোন প্রতিদিনই পোলাও জাতীয় খাবার পাঠাচ্ছিল। হাড়ে হাড়ে টের পেলাম এসব খাওয়ার ফল। সারারাত ঘুম হলো না ব্যাথায়। ফজরে ডিউটি ডাক্তারকে বলা হলো ব্যাথা কমার ওষুধ আর ঘুমের ওষুধের জন্যে। গ্লিসারিন সাপোজিটরি দেয়া হলো, ব্যাথা কমার ইঞ্জেকশনে ব্যাথা কমলো না বরং বাড়ল৷ কেপে উঠছিলাম ব্যাথায়। ছন্দময়ভাবে ধাক্কা আসা শুরু হলো পায়খানার রাস্তার সাথে তলপেটেও। এবার আমি বুঝলাম সারারাত আমি লেবার পেইনে ঘুমাইনি, গ্যাসের প্রবলেম নয়। ব্যাথা কমানোর জন্যে ভোল্টারিন সাপোজিটরি দিয়ে লাভ হলো না। মেয়ের সময় ওয়াটার ব্রেক হয়েছিল আগেই, পেইন উঠেনি। ডিউটি ডাক্তারকে ডাকলাম বিষয়টা পরিষ্কার হতে। সে ভাবতেও পারেনি ৩৩ সপ্তাহে লেবার পেইন হতে পারে, ব্যাথা কমার ইঞ্জেকশন যেটা দেয়া হয়েছিল সেটা লেবার পেইন ইন্ডিউস করে। দ্রুত ওটিতে পাঠানো হলো। শিফট চেইঞ্জের সময় সেটা। ডিউটি ডক্টররা নেই। আমার গাইনোকলিজস্ট বাসায়, এনেস্থেসিস্ট বাসায়, ওটি রুম রেডি নেই। ওটি রুমের অভিজ্ঞ আয়া আমাকে বলছিল নিচের দিকে চাপ দিতে, বাচ্চা হয়ে যাবে। আমার ভয় আমার আগে সিজার, আয়া তো আমার কেইস হিস্ট্রি জানে না। এসব ক্ষেত্রে জরায়ু ফেটে যেতে পারে। দৌড়ে একের পর এক ওটিতে ঢুকছিল একেকজন। বাইরে আমার হাজবেন্ড একা ঘামছে, আক্ষরিক অর্থেই কেউ নেই সাথে আল্লাহ ছাড়া।

ডাক্তার আসার আগ পর্যন্ত আমার শুধু মারঈয়াম (আঃ) এর কথা মনে পড়ছিল। যে আসার সে আসবেই ঠিক ভাবে এটা ভেবে দুশ্চিন্তা কমাচ্ছিলাম। আমার ডাক্তার প্রচন্ড নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলেন, রাগ করছিলেন ডিউটি ডাক্তার কেন আরো আগে জানায়নি তাই। সিজার করবেন নাকি ভ্যাজিনাল ডেলিভারি সম্ভব ক্ষতি ছাড়া – বুঝতে পারছিলেন না। চিমটা নিয়ে এগিয়ে আসলেন পানি ভাংতে, আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাংবো? আমি বললাম, আপনি যদি ঝুঁকি মনে না করেন। আমি দুআ ইউনুস পড়ছিলাম আর ব্যাথায় কাঁদছিলাম। ডাক্তারও দুআ ইউনুস পড়ছিলেন, ভয়ে থেমে থেমে। আয়া আমাকে নির্দেশ দিচ্ছিল নিচের দিকে চাপ দেয়ার, যেভাবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় আমরা চাপ দেই। সবাই আল্লাহকে ডাকতে বলছিল, আমি শুধু বলতে পারছিলাম আল্লাহু আকবার। এপিসিওটমি করে বাবু বের হলো। মানে পায়খানার রাস্তা আর যোনিপথের মাঝামাঝি সেলাই পড়লো। বাবু কাঁদলো না। ওটি থেকে জলদি বের করা হলো। কিছুক্ষণের মাঝে ওর কান্নার আওয়াজ পেলাম। ওর বাবার কাছে নেয়া হলো আযান দিতে। ও ভুলে ইকামত দিয়ে ফেলল। আমাকে না দেখিয়েই এক দৌড়ে ওরা নিকুতে নিল ১.৮ কেজির প্রিম্যাচিওর বাচ্চাটাকে। এনেসথেশিয়ার ঘোরে ঘুমিয়ে গেলাম, সেলাই শুরু হলো।

নরমাল ডেলিভারি নিয়ে ভুল ধারণা*

সবসময় শুনে এসেছি নরমাল ডেলিভারিতে লেবার পেইনের পর আর কোনো কষ্ট নাই। কম সময়ের মধ্যে মা-বাচ্চা বাসায় চলে যায়। আমারই ভুল, পোস্টপার্টাম কেয়ার নিয়ে কখনোই পড়িনি। আমার ক্যাথাটারে ব্লাড ক্লট দেখা যাচ্ছিল। তাই ডাক্তার বলে গেলেন অবজার্ভেশনের জন্যে ক্যাথাটার থাকবে ৫ দিন। সেই সাথে মাসিক ও পায়খানার রাস্তায় ব্যাথা। আল্লাহ সহজ করলেন, আড়াই দিন পর ক্যাথেটার খোলা হলো। আবিষ্কার করলাম প্রস্রাবের বেগ বুঝতে পারছি না, অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও হচ্ছে না প্রস্রাব। জানলাম ডেলিভারির পর এমনটা হতে পারে। গ্যাসের চাপ, সেলাইয়ের ব্যাথা, প্রস্রাবের চাপ না বোঝা, সহজে করতে না পারা – সব মিলিয়ে পর্যদুস্ত ছিলাম। কষ্টে প্রচুর তওবা করেছি, আব্বা আম্মার কাছে মাফ চেয়েছি। 

ডাক্তার বিদেশী একটা গ্যাসের ওষুধ দিলেন, যেটা খাওয়ার পর পঞ্চম দিন স্বাভাবিক বোধ করলাম। এন্টিসেপ্টিক ক্রিম দিলেন সেলাইয়ে লাগানোর জন্যে, এন্টিসেপ্টিক সলিউশন দিলেন একটা যেটা গামলায় গরম পানিতে দিয়ে গোসল করছিলাম বিশ মিনিট করে। কিন্তু নিচে ওঠা বসা করায় পায়ের রগে টান পড়ল, তাই বাদ দিলাম। ওয়াটার ব্যাগে বসা, গরম পানি ব্যবহার চলছিল।

সেদিনের ডিউটি ডাক্তার আমাকে পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করতে বললেন, দ্রুত লেবার পেইন ইনডিউস হওয়ায় আমার ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে তাই। তিনি প্রচন্ড আপসেট ছিলেন আমার লেবার পেইনের ব্যাপারটা বুঝেননি বলে৷ আমি তাকে বুঝাতে চেষ্টা করলাম এটা কদর এবং আমার কোনো আফসোস নেই। আমার গাইনোকলজিস্টের থেকে জানলাম তিনি নিজে অনেকদিন স্বাভাবিকভাবে বসতে পারেননি তার প্রথম বাচ্চা হওয়ার পর।

NICU এর দিনগুলি

খুব অদ্ভুতভাবে বাবুকে নিয়ে আমার একবিন্দু দুশ্চিন্তা হচ্ছিল না। আমি শুধু আল্লাহর কাছে দুআ করছিলাম আমার মত দূর্বল মুমিনের জন্যে সহজ পরীক্ষার। সে যদি আল্লাহর কাছে চলেও যায় আমাদের টেনে নিবে জান্নাতে। যদি আমরা ওকে সহজে পেয়ে যাই তো আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু অনেকদিন ধরে কোনো জটিলতায় ভুগলে সেটা আমাদের জন্যে কঠিন হবে। একটা আয়াতই মাথায় আসছিল, ইন্নাল্লাহা মা’আস সবেরীন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। যদিও আমি ধৈর্যশীল না, প্রসব পরবর্তী ব্যথায় অনেক ভুগেছি; তবু এই আয়াতটা আত্মার ভেতরে কেন যেন বসে গিয়েছিল।

সাতদিনের দিন আকিকার কুরবানির ব্যবস্থা হলো ফোনে ফোনেই। বাবু নিকু থেকে বের হলো সপ্তম দিনই, ডাক্তারও আমাকে কেবিনেই রেখে দিলেন, একটু করে সেড়ে উঠছিলাম। নিকুতে প্রথমদিন অক্সিজেন দিতে হয়েছিল ওকে, এরপর এন্টিবায়োটিক, স্যালাইন চলেছে। ছোট্ট হাতে ক্যানোলা, কী কষ্ট! লাংসে স্কার ছিল, যেহেতু ডেভেলপড না। প্রথমদিকে একটু থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও পরবর্তী টেস্টে সব ঠিক আসলো। বিলুরুবিন বর্ডার লাইনে থাকায় ফটোথেরাপি চলেছে। তারপর বাবুর জন্যে নিকু থেকে দুধ চেয়ে পাঠালো। ফিডারে করে দুধ পাঠিয়েছি নিকুতে, ড্রপার দিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। আমার কাছে এসে বাচ্চা খাওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রথম দুইদিন শালদুধ পাঠাতে পেরেছি মাত্র এক-দুই মিলি৷ আমার মেয়ের সময়ও ৩য় দিন থেকে দুধের ফ্লো আসা শুরু করে, ৩৬ সপ্তাহে ২.১ কেজির বাচ্চাটার সুগার লো হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিন বাটি-চামচে বাইরের দুধ খাওয়াতে হয়েছিল পেডিয়াট্রিকেরই পরামর্শে, নয়তো নিকুতে রেখে দেয়ার আতংক ছিল।

বাবুকে কেবিনে দেয়ার দিন নিকুর আয়া হতাশা দেখালেন অল্প দুধ দিচ্ছি দেখে (মাত্র ২০ মিলি করে দিনে চারবার)। অথচ পেডিয়াট্রিক সবসময় ওর বাবাকে বলে যাচ্ছিলেন, দুধের ফ্লো আসার ব্যাপারটা মানসিক। মা যেন আপসেট না হয় কোনোভাবেই। পেডিয়াট্রিক আমাকে বললেন, এক ঘন্টা পরপর দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে যেন ও শেখে টেনে খাওয়া। আর দুই ঘন্টা পরপর ড্রপারে দশ মিলি। টানা ঘুমালে দুই-তিন ঘন্টা পরপর উঠিয়ে খাওয়াতে বললেন। আর যখন বাবু টেনে খাওয়া শিখে গেল তখন আধা ঘন্টা পরপর খাওয়াতে বললেন যেহেতু ও প্রিম্যাচিওর। প্রথম এক সপ্তাহ বাচ্চার ওজন কমেই, দিনে কমপক্ষে ৬ বার প্রস্রাব হচ্ছে কিনা, পায়খানা করে কিনা এটা চেক জরুরি।

আল্লাহর অশেষ রহমত বাচ্চার কোনো সমস্যা নেই। ফলোআপ চলবেই, জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে চোখ ও এক দেড় মাসের মাঝে ইকো করাতে বলা হলো, প্রিম্যাচিওর বাচ্চাদের এমন সাজেস্ট করেন তারা। কেবিনে বাবু আসার পরদিন রিলিজ পেলাম। হাসপাতাল ছাড়লাম ১২ দিন পর। 

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন ও অন্যান্য

একটা শিশুর জন্মের সাথে সাথে জন্মায় মা। সেই সাথে বাবা,বড় ভাই-বোন, নানা-নানী,দাদা-দাদী, খালা, ফুপু, মামা, চাচারাও জন্মায়। সাধারণত বাচ্চার সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে হয় মা-বাবার, বিশেষ করে মায়ের। এজন্যে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টা যে কত জরুরি সেটা এখন অনেকে জানে।
আমার মেয়ের সময় মেয়ে শারিরীকভাবে সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও যখন কেউ আমাকে বলতো বাবুর এই এই সমস্যা বা এখনি হাসপাতালে নিতে হবে আমার প্রচন্ড আতংক কাজ করতো। আমি মুখে আমার পুঁথিগত জ্ঞান আর মায়ের সহজাত বোধ থেকে বলতাম যে ও ভালো আছে৷ কিন্তু আমার ভেতরে শয়তান দুশ্চিন্তা ঢুকাতো।

আমি এখন বুঝি অনেকদিন ধরে কোনো বাচ্চা পালার সাথে না থাকায়, নতুন সদস্যের প্রতি ভালোবাসায় এই ভয়গুলো কাজ করতো সবার।
এভাবে আমার বেবি ব্লু ( বাচ্চার জন্মের দ্বিতীয় সপ্তাহে হওয়া বিষন্নতা, যা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের দিকে নাও যেতে পারে) শুরু হলো, বিশ্রামের অভাব সাথে বাচ্চাকে হাসপাতালে নেয়ার আতংক!

যখন শরীর ঠিক না হওয়া সত্ত্বেও শুনতাম, আমি অলস বা বাচ্চার ৯০% কাজ একা করা সত্বেও শুনতাম আমি বাচ্চা পালছি না, পালছে বাচ্চার বাবা বা এমন কোনো কাজ চারপাশের মানুষের কথায় করে ফেলতাম যেটা সিজারের পেশেন্টের জন্যে ক্ষতিকর -এর ফলে বিষন্নতা তৈরি হতো। কিন্তু এখন আমি জানি আমার বাচ্চার কাজগুলো আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব। আমি আমার দায়িত্ব সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে পালন করবো, অন্য কারো মন্তব্যে হতাশ হলেও বেশিক্ষণ মাথায় রাখার কিছু নেই।

আমার বিষন্নতার সময়গুলোতে আমি সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা সবার মধ্যে দেখেছি সেটা হলো বারবার মাকে দুধ খাওয়াও বলে সবাই অস্থির করে ফেলে। মা হয়তো এমন কোনো একটা কাজ করে এসেছে যেটায় দুইটা মিনিট রেস্ট দরকার। এই দুইটা মিনিট বাচ্চা কাঁদলে আসলে বাচ্চার ক্ষতি হবে না, কিন্তু মার অতটুকু বিশ্রাম হয়তো দুধের ফ্লোও বাড়াতে পারে। নতুন মা বুঝবে না অনেক কিছু, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সাত আসমানের উপর থেকে যিনি দায়িত্ব দেন তিনি ভেতরে কিছুটা প্রজ্ঞা দিয়ে দেন সেই দায়িত্ব পালনের জন্যে। আশেপাশের সবার মন্তব্য জরুরি, কিন্তু যে বেশিরভাগ কাজ করবে একটা বাচ্চার তাকে কিছুটা মানসিক জায়গা দেয়া উচিত।

একেকজনের বিষণ্ণতার কারণ একেকটা থাকে। আমি বিষন্নতা থেকে গতবার বের হয়েছিলাম আল্লাহর অশেষ রহমতে৷ এইবার আমি প্রতিবার নিজের যুক্তিবাদী মনের সাথে আলোচনা করছি। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, সাথে কুরআন শোনা,শুয়ে শুয়েই দ্বীনের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি।

বাচ্চার বাবার মানসিক স্বাস্থ্যও কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। গতবার মেয়ের গ্লুকোজ কমে যাওয়ার পর আমার হাজবেন্ড অতিরিক্ত ফোকাসড ছিল মেয়ের প্রতি এবং একটু এদিক সেদিক হলেই বিরক্ত হচ্ছিল। এবার সে নিকুর ডাক্তারের রিপোর্টিং টাইমের আগে কিছুই মুখে দিত না। প্রথমদিন কেবিনে বাবুকে দেয়ার পর তো ওর প্যানিক এটাক হয়ে গিয়েছিল। বাবুর বিলুরুবিন বর্ডার লাইনে থাকায় রোদ পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে বিরক্ত হচ্ছিল।

আমার মেয়ের মানসিক পরিবর্তন ছিল আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি তাকে আগে থেকেই হসপিটালের দিনগুলির জন্যে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করেছিলাম। পেটের বাবুর প্রতি তার অনেক বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি আর বাচ্চার প্রিম্যাচ্যুরিটির জন্যে ১২ দিন মা-বাবার সাথে সরাসরি দেখা হবে না এটা কল্পনার বাইরে ছিল সবারই৷ সে তার মামা-খালার সাথে হেসে খেলে ১২ দিন কাটালো কিন্তু মনের ভেতর কষ্ট জমা করে। আমি ফেরার পর ও ১৫-২০ মিনিট আমার সাথে কথা বলেনি, কাছে আসেনি। একদিন পার হওয়ার পর আমার মনে হলো ওর চোখে মুখে তীব্র হতাশা, অস্বস্তি যাচ্ছিল না, যদিও ও হাসছিল। আমার আড়াই বছরের মেয়ে তার ভাইকে ধরতে গেলেই সবাই বাঁধা দিচ্ছিল এটাও ওর জন্যে একটা মানসিক চাপ ছিল। এমনকি আমি নতুন একটা জামা পরেছিলাম যেটা ও আগে দেখেনি ; সেটাও ওকে অস্বস্তি দিয়েছিল। আমি দ্বিতীয় দিন রাতে ওর মনের মেঘ কাটানোর চেষ্টা করলাম। ও হাউমাউ করে মা-বাবার জন্যে কাঁদলো ১২ দিন পর, আল্লাহ সব মেঘকে বৃষ্টি করে দিলেন। এখন ও বাবুকে আদর করতে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটাবে এই দুশ্চিন্তা করা ছেড়ে দিয়েছি। পৃথিবীর লক্ষ-কোটি পিঠাপিঠি ভাইবোনদের আল্লাহ যেভাবে হেফাজত করেন, ওরাও সেভাবেই নিরাপদ থাকবে ইন শা আল্লাহ।

আমার সিজারের পর নরমাল ডেলিভারি হওয়াটা পূর্বপরিকল্পিত কিছু ছিল না৷ আমি শুধু আল্লাহর প্রতি সুধারণা রেখেছিলাম, আল্লাহ কবুল করেছেন, আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। হয়তো প্রিম্যাচিওর বাচ্চা হওয়ায় এই গল্প সফলতারও নয়। কিন্তু এই গল্প থেকে কেউ না কেউ উপকৃত হবে ইন শা আল্লাহ। শুধুমাত্র এই উদ্দেশ্যে লিখলাম, কাউকে অনাকাঙ্ক্ষিত কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ চাই।

প্রেগন্যান্সির চার মাসের সময় একটা লেখা অনুবাদ করছিলাম, বিষয় ছিল আগে ওয়াটার ব্রেক হয়ে যাওয়ায় বাবু নিকুতে থাকা নিয়ে এক মায়ের গল্প। খুব মানসিক চাপ পড়ছিল কাজটা করতে গিয়ে, মনে হচ্ছিল আমারই এমন হবে। তারপর ভুলেই গেছিলাম সব, কিন্তু বাবুর জন্ম যেন ঐ গল্পের পুনরাবৃত্তি।

আমি মনে করি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম হয়তো আমার সহজ নরমাল ডেলিভারির একটা কারণ । আমার মেয়ের সময় আমি শুধু দুইদিন পর পর বিকালের নাস্তা তৈরিতে রান্নাঘরে যেতাম আর সাত মাস পর্যন্ত স্কুল করেছি। এইবারের কাজগুলো অনেকটা গ্রামের মহিলাদের ধান মাড়াই করে এনে আতুর ঘরে ঢোকার মতো ছিল আমার জন্যে (একটা বাচ্চার পেছনে দৌড়ানো এরচেয়ে কম কি?)

আল্লাহ সহজ করেছিলেন তাই ছেলে প্রতিবার ইউএসজিতেই সেফালিক পজিশনে (মাথা নিচের দিকে) ছিল। মেয়ে তা ছিল না, কখনো ট্রান্সভার্স (আড়াআড়ি), কখনো ব্রিচ (মাথা উপরে) পজিশনে ছিল। শেষমেষ সেফালিক হলেও গলায় কর্ড পেচানো ছিল।

আমি আমার ছেলের দিকে তাকাই আর পাজরের হাড় গুনি। ইয়েমেনি এক বাচ্চা নিয়ে শুয়ে আছি মনে হয়। আমি নাহয় অনেক কিছু খেয়ে ছেলেকে খাইয়ে মোটা হলো কিনা তাকিয়ে দেখি, ঐ মা’রা কোন আশায় বাঁচে আমি জানি না। 

(লিখেছেন উম্ম আহমাদ)

*নরমাল ডেলিভারিতেও শরীরের বিভিন্নরকম ছোট-বড় ব্যথা সেরে উঠতে বেশ কিছুদিন সময় নেয়। তবে এর ফলে মাকে বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে থাকতে হয়না। মা ধীরে সুস্থে হাঁটাচলা করা ও হালকা পাতলা কাজ করতে পারেন। এপিসিওটোমি নরমাল ডেলিভারির জন্য আবশ্যক না, এই নিয়ে জানতে পারেন আমাদের এই আর্টিকেল থেকে। গর্ভাবস্থা থেকেই পেলভিক ফ্লোর ব্যয়াম করা, নরমালের জন্য প্রস্তুতি নেয়া, ডেলিভারির সময় নিয়ন্ত্রিতভাবে চাপ দেয়া ও দক্ষ প্রসব সহযোগীর নির্দেশনায় সঠিকভাবে চাপ দেয়া ইত্যাদি প্রস্তুতি নরমাল ডেলিভারিতে হওয়া টিয়ারের মাত্রাও অনেক হ্রাস করে। পরবর্তীতে প্রস্রাব ও বাথরুম না হওয়ার অসুবিধা এড়ানো যায়। প্রসব পরবর্তী যত্ন নিয়ে আগে থেকে পড়াশোনা করাও উপকারী হবে। – মাতৃত্ব 

সম্পাদনায়ঃ হাবিবা মুবাশ্বেরা

লেখাটি কি আপনার উপকারে এসেছে?
হ্যানা